শিরোনামঃ
নিউজরুম ১৩-০২-২০২১ ০৭:২৫ অপরাহ্ন |
করোনায় অনেকে ঘরবন্দি। এতে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস ঘিরে নেই ফুল বিক্রির হিড়িক। অনেক ফুলপ্রেমি আবার ভাইরাসের ভয়ে কৃত্রিম ফুল দিয়ে অনুষ্ঠান সেরে নিচ্ছেন। এ যেন ‘দুধের সাধ ঘোলে’ মেটানোর দশা। এ অবস্থায় ক্রেতা সংকট থাকায় বাজারে কেউ প্রবেশ করলে বিক্রেতারা হামলে পড়ছেন। কে কত কম দামে বিক্রি করতে পারেন, যেন সেই প্রতিযোগিতা চলছে।
শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁও-শেরেবাংলা নগরে ফুল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
শেরেবাংলা নগরে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি দোকানে ফুলের সমাহার তৈরি হয়েছে। সেখানে গোলাপ (দেশি-বিদেশি), গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, গ্ল্যাডিওলাস, জারবেরাসহ বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ফুল রয়েছে। তবে বাজারে ক্রেতার চাইতে বিক্রেতার উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। বাজারের মধ্যে কেউ প্রবেশ করলে বিক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। অন্যান্য বছর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি, আগারগাঁওয়ের পাইকারি বাজারে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার বিভিন্ন ফুল বিক্রি করলেও এবার তা অর্ধেকে নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
গত ১২ বছর ধরে ফুল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মো. আলী হোসেন। আগারগাঁও পাইকারি ফুল বাজারে দোকান রয়েছে তার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখনো করোনার কারণে এক শ্রেণির মানুষ ঘরবন্দি রয়েছেন। তার ওপর স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বের হতে পারছে না। সবমিলে ফুল বিক্রি কমে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘গত বছর ফহেলা ফাগ্লুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ২০-২৫ লাখ টাকা বিক্রি হলেও এবার ১০ লাখ টাকা বিক্রিও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে আজ শনিবার ও কাল রোববার ভালোবাসা দিবসের দিকে তাকিয়ে আছি।’
এই বাজারের আরেক পাইকারী ফুল ব্যবসায়ী মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে ফুলের বড় ক্রেতা শিক্ষার্থীরা। ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হলে ভালোবাসা দিবসে বিক্রি অনেক বেড়ে যেত। তার ওপর কেউ কেউ ভাইরাসের ভয়ে ফুল কিনতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।’
পাইকারি বাজারে দেশি গোলাপ ৫-৭ টাকা, বিদেশি গোলাপ ১০-২০ টাকায় বিক্রি করা হলেও খুচরা বাজারে দ্বিগুনেরও বেশি চাওয়া হচ্ছে। অনেকে আবার ফুলকে নানাভাবে সাজিয়ে চড়া দামে বিক্রি করছেন।
আগারগাঁও ফ্লাওয়ার গার্ডেন নামে খুচরা ফুল বিক্রির দোকানের মালিক সোহেল বলেন, কাল ভালোবাসা দিবস হলেও তেমন ক্রেতা আসছে না। ভালোবাসা দিবসে বিক্রি হবে সেই আশায় ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার ফুল কিনে রেখেছেন। বিক্রি না হলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরেবাংলা নগর ফুল চাষী ও পাইকারি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রতি বছর এই পাইকারি বাজার থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকার বিক্রি হলেও এবার তা অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। করোনার কারণে অনেকে অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন দিবসে কৃত্রিম ফুল কিনছেন। এ কারণে ফুল বিক্রি কমে গেছে। এতে ফুল চাষী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। কৃত্রিম ফুল পচনশীল না হওয়ায় পরিবেশেরও ক্ষতি করছে।’
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com