শিরোনামঃ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ১৩-০৪-২০২১ ০২:৪৬ অপরাহ্ন |
সূতা, রং ও রাসায়নিকের মুল্য বৃদ্ধি হয়ায় তাঁতসমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর, এনায়েতপুর, কামারখন্দ, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও উল্লাপাড়ার তাঁত পল্লীগুলো বন্ধ হয়ার উপক্রম হয়েছে। পল্লীগুলোতে তাঁত বুননের খটখট শব্দ হারিয়ে যেতে বসেছে। কারন হিসাবে তাঁতীরা বলছে সুতার মূল্য ৩ মাস পূর্বে যা-ছিল বর্তমানে দ্বিগুনের অধিক হয়েছে, পক্ষান্তরে উৎপাদিত কাপড়ের মূল্য বৃদ্ধি করতে পারছেনা ফলশ্রুতিতে তাঁতীরা পুজি হারিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। স্থানীয় সুতা মিলের মালিকগন দফায় দফায় ইচ্ছামাফিক সূতার মূল্য বৃদ্ধি করছে। কারন হিসাবে তুলার মূল্য বৃদ্ধির কথা বলছে মিল মালিকরা। কিন্তু মজার বিষয় হল তুলার মূল্য বেড়েছে পাউন্ড প্রতি ২০-৩০ টাকা, কিন্তু সেই সুযোগ নিয়ে সুতার মূল্য বৃদ্ধি করেছে প্রতি পাউন্ডে ১৫০-২০০ টাকা।
রং ও ক্যামিক্যালের মূল্যও কয়েক গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁতীদের কল্যানে কোন পদক্ষেপ না নিলে তাঁতশিল্প ধংশ হয়ে যাবে। মাত্র তিন মাসের ব্যাবধানে সুতা, রং ও রাসয়নিকদ্রব্যের দাম দ্বিগুন বৃদ্ধি হওয়ায় লোকসান গুণতে হচ্ছে তাঁত মালিকদের। ৩ মাস আগে যে কাপড়টি তৈরী করতে ৪০০টাকা পরন পড়তো, সেই কাপড়টি এখন তৈরী করতে ৮০০ টাকা পরণ পড়ছে, তাদের উৎপাদিত কাপড় এতো বেশী দামে বিক্রি হচ্ছেনা। একারনে তাঁতের টানা শেষ হবার পরবর্তীতে ঐ তাঁতে সূতা দিয়ে তৈরী করা টানার কাজ আর করা সম্ভব হচ্ছেনা।
অর্থাৎ ঐ তাঁতটি বন্ধ হয়ে গেলো। এভাবে তাঁত পল্লীগুলোর তাঁত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাঁত মালিকরা বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিচ্ছেন তাদের তাঁত কারখানাগুলো। এপর্যন্ত ৩০ ভাগ তাত বন্ধ হয়েছে। এতে লক্ষাধিক তাত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এদিকে সূতা, রং ও রাসায়নিকদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারনে তাঁত সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর, এনায়েতপুর, কামারখন্দ, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও উল্লাপাড়া উপজেলা এলাকায় ৫ লক্ষাধিক (বিদ্যুৎ চালিত ও হস্তচালিত) তাঁত রয়েছে, এসব তাঁতে সাড়ী লুঙ্গী উৎপাদনের জন্য কাজ করছে প্রায় ১২ লাখ তাঁতশ্রমিক। পর্যায়ক্রমে এসব তাঁত বন্ধ হয়ে গেলে এই ১২লাখ তাঁতশ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে ৩০ভাগ তাত বন্ধ হয়ে গেছে, লক্ষাধিক তাঁতশ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় তাঁতী সমিতির সভাপতি মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড করোনা কালিন সময়ে এবং বর্তমান সুতা, রং ও ক্যামিক্যালের ঊর্ধ্বমূল্যের বিষয়ে এ যাবৎ কোন সহযোগিতা বা তাঁতীদের কল্যানে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন নাই। তাঁত বোর্ড গঠনের উদ্দেশ্যই হল তাঁতীদের কল্যান করা বা তাঁতীদের সমস্যার সমাধান করা, কিন্তু তার সামান্যতম পদক্ষেপও পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। যাহা অন্তান্ত দুঃখজনক।
গোপালপুর গ্রামের তাঁত মালিক রুহুল আমিন, খুকনী গ্রমের তাঁত মালিক অনিক আহমেদ ও সোহাগপুর গ্রামের তাঁতমালিক সফিকূল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, রং-সুতা ও তাঁত সরঞ্জামের দাম বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হবে। তাঁতীদের সমস্যা সমাধানে বা তাঁতশিল্পের উন্নয়নে তাঁতবোর্ড থাকলেও তাঁতীদের এই তাঁতবোর্ড কোন কাজেই আসছেনা। বেলকুচি, শাহজাদপুুর, এনায়েতপুর ও চৌহালী এলাকা ঘুরে সাধারন তাঁতীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিয়মনীতি থাকলেও বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড গত দু'বছরে তাঁতীদের আমদানী কোন সুপারিশ ইস্যু করছেননা।
তারা তাঁতঋণও পাচ্ছেনা, এমনকি করোনাকালীন কোন প্রনোদনাও পায়নি। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডে আমলা তান্ত্রিক জটিলতায় তাঁতশিল্পের উন্নয়ন কাজের সিদ্ধান্তগুলো মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে তাঁতীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এবিষয়ে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে সরকারের সঠিক নজরদারি হলেই তাঁত শিল্পকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব বলে মনে করেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক একরামুল হক রিজভী।
তিনি বলেন, রং এবং সুতার বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একটি মনিটরিং টিম গঠন করা দরকার। এর পাশাপাশি এই শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে সরকারি ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিলে তাঁত শিল্পের হারানো ঐতিহ্যে ফিরে আসবে। বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনিসুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, তাঁত শিল্পের সব সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। এবিষয়ে জেলা প্রসাশন ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com