গার্মেন্টস শিল্পের পূর্বাপরঃ কাজিপুর বাসীর জন্যে অভিশাপ না আশির্বাদ
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

  

গার্মেন্টস শিল্পের পূর্বাপরঃ কাজিপুর বাসীর জন্যে অভিশাপ না আশির্বাদ

আব্দুল জলিল
২৯-০৮-২০২০ ১২:১৮ অপরাহ্ন
গার্মেন্টস শিল্পের পূর্বাপরঃ কাজিপুর বাসীর জন্যে অভিশাপ না আশির্বাদ

স্টাফ রিপোর্টারঃ  গার্মেন্টস শিল্প দেশের অনেক শীর্ষস্থানীয় একটি শিল্প। দক্ষ অদক্ষ অনেক শ্রমিকই এখানে কাজের সেোযগ পাচ্ছে। সেই শিল্পর সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন একজন গার্মেন্টস কর্মি। কাজিপুরের আব্দুর রাজ্জাক  তার টাইম রাইনে এ বিষয়ে একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন । তিনি লিখেছেন।

৮০ দশকের শেষ ও 90 দশকের শুরু থেকেই বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের চাকা ঘুরতে শুরু করে। ধীরে ধীরে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প স্বর্ণ যুগে পৌঁছে যায়। ইউরোপের দেশ ও উত্তর আমেরিকার পোষাক ব্যবহার কারীদের কাছে জনপ্রিয় শব্দ "MADE IN BANGLADESH"।

গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ ও সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার দুঃখ যমুনা নদী'র তীব্র ভাঙ্গা গড়ার প্রেক্ষাপট একই সময়ের। যদিও নদীর বেহায়া আক্রমণ এখনও অব্যাহত আছে কিন্তু ৮০ ও ৯০ দশকের মত নয়।

কাজিপুর পূর্বাংশ দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদী, উল্লেখিত দশকে বেহায়া আক্রমণে গ্রাস করেছে গ্রামের পর গ্রাম ও হাজার হাজার মানুষকে করেছে দেশান্তরী। নদীর গর্ভে ভীটে মাটি হারিয়ে দেশান্তরী হওয়া মানুষ গুলোর দীর্ঘশ্বাসের কষ্ট কেউ অনুমান করতে পারবেন না যদি না কেউ ঐ প্রেক্ষাপটের সম্মুখীন না হয়ে থাকেন।

যমুনার ভয়াল আক্রমণে কাজিপুর বাসি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। যারা মোটামুটি শিক্ষিত বা কোন রকমে লিখতে পড়তে পারেন অথবা লিখতে পড়তে পাড়েন না তাদের জন্যও ঢাকার গার্মেন্টস গুলোতে স্বল্প বেতনে হলেও চাকরি পাওয়ার সুযোগ হয়ে যায়, এ ক্ষেত্রে অসহায় মানুষ গুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসেন আমাদের কাজিপুরের তেকানী ইউনিয়নে কৃতি সন্তান ইন্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন স্যার।

বেতন কম হোক বা বেশী হোক সেটা বড় প্রশ্ন নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে চাকুরী দিয়েছেন এটা অস্বীকার করার সুযোগ কাজিপুর তথা উত্তর সিরাজগঞ্জ বাসি রাখেন না।

আমি হাইস্কুলের ছাত্রবস্থায় নিজেও নাটুয়ারপাড়া সহ কাজিপুর নদী বিধৌত চর অঞলে মাইক ভাড়া করে এবং নাটুয়ারপাড়া হাটের হকারদের মাইকেও লোক নিয়োগের ঘোষণা পত্র পাঠ করেছি।

কিন্তু খুবই দুঃখজনক হলেও সত্য কাজিপুর বাসি নদীর ভয়াল আক্রমণে শিকার হয়ে যেমন খুব সহজেই গার্মেন্টস চাকুরী পেয়েছেন, ঠিক শিক্ষার আলো থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন হাজার হাজার ছেলেমেয়ে।

কারণ হিসেবে বলা যায় যেমন:

পরিবারের বড় ভাই/বোন, বোন জামাই, চাচা মামা, ফুফা ফুফু, খালা অথবা প্রতিবেশী চাকুরী করেন সেখান থেকেই অনেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন যে ঢাকা গেলেই চাকুরী পাওয়া যায়, যদিওবা তার পরিবারের সামর্থ্য ছিল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার খরচ যোগানো।

জরিপ করলে দেখা যাবে সারাদেশের উপজেলা লেভেলে উচ্চ শিক্ষার হার কাজিপুরে সবচেয়ে কম, কারণ যুবক ও তরুণদের বৃহৎ একটা অংশ ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত।

সম্ভবত বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের স্বর্ণ যুগের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই বহু গার্মেন্টস তাদের অর্ডার অর্ধেক বা তারও বেশি মিস করেছেন ফলশ্রুতিতে মালিকগন শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছেন, কোন মালিকই তার শ্রমিকদের বিল্ডিং বা অন্য আরেকটা ফ্যাক্টরী বিক্রি করে বেতন দিবেন না। বিল্ডিং বিক্রি করতে চাইলেও, কে ক্রয় করবেন? সবারই একই অবস্থা।

কিন্তু বিশাল ক্ষতি হয়ে গেল কাজিপুর বাসির, যে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আরেকটা প্রজন্মের অপেক্ষা করতে হবে, ইতিমধ্যে প্রতিদিনই চাকুরী হারানো আমাদের অনেক সহকর্মী পিকআপ ভরে ঢাকার বিভিন্ন শহর থেকে আসবাব পত্র নিয়ে কাজিপুরের বিভিন্ন গ্রামের বাড়ীতে পৌঁছে যাচ্ছেন। গ্রামবাসীরাও হয়তো বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছেন।

পরিশেষে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা অসহায় মানুষগুলোর মুখ যেহেতু কেটেছো আহারের ব্যবস্থা তুমিই করে দিও।


আব্দুল জলিল ২৯-০৮-২০২০ ১২:১৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 450 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com