শিরোনামঃ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ২৭-০৬-২০২০ ১২:৪৫ অপরাহ্ন |
আশরাফুল ইসলাম রনি: চলনবিল অধ্যাসিতু সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বোরোর ভরা মৌসুমে নতুন ধান সবার ঘরে ঘরে উঠছে। তাই চালের দাম কমবে, আশা করেছিলেন সাধারণ মানুষ। সেই ধান ঘরে ওঠার পর চাল হয়ে এখন বাজারেও এসেছে। কিন্তু দাম কমেনি, উল্টো বেড়ে গেছে। তাড়াশ পাইকারি বাজারে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা চালে দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে। আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা করে!
অভিযোগ উঠেছে, এবার বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার পরও এক শ্রেণির মিল মালিক কারসাজি করে সরবরাহ কমিয়ে চালের মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছেন। কমতে থাকা চালের দাম হঠাৎ আবারও বেড়ে যাওয়ার জন্য উত্তরাঞ্চলের মিল ও মোকাম মালিকদের দায়ী করছেন পাইকার ব্যবসায়ীরা।
মিল মালিকরা বলছেন, বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহে সরকারের দাম বেঁধে দেওয়ার কারণে ধানের দাম বেড়েছে। আর ধানের দাম বাড়ায় চালের দামও বেড়েছে।তাড়াশ পৌর শহরে বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহে মোটা ও চিকন এবং আতপ ও সিদ্ধ সব ধরনের চালের দামই বেড়েছে। ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা মিনিকেট চালের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা, সিদ্ধ মিনিকেট ও সিদ্ধ পাইজামও একই হারে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় এবং সিদ্ধ নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা করে। একইভাবে বেড়েছে অন্যান্য চালের দামও।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটার পর থেকে চলনবিল এলাকার চালের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। এপ্রিলে তা চরম আকার ধারণ করে। গরিব, অসহায় মানুষদের ত্রাণ হিসেবে অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে চাল দেওয়ায় হঠাৎ করে মোটা চালসহ অন্যান্য চালের দামও বেড়ে যায়।
এই চাহিদাকে পুঁজি করে রাতারাতি চালের দাম বাড়িয়ে দেন মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল তখন। মাঝে কিছুদিন চালের দাম খানিকটা কমে এলেও জুনের মাঝামাঝিতে হঠাৎ চালের দাম ফের বাড়তে থাকে।
তাড়াশ বাজারে আড়তদার ও পাইকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনাজপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মিল ও মোকাম মালিকরা জোটবদ্ধ হয়ে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে সেই পুরোনো কৌশলে হঠাৎ করে চাল সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দেন তারা।
তাড়াশ পৌর বাজারে চাল ব্যবসায়ী মহসীন আলী বলেন, 'ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে পাইকারি বাজারেও আনুপাতিক হারে দাম বেড়েছে। প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। মিল মালিকরা দাম না কমালে পাইকারি পর্যায়ে দাম কমবে না।
অন্যদিকে, পাইকারি বাজারে চালের দাম বাড়ায় তার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বিভিন্ন ধরনের চালে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৬ টাকা করে। করোনায় বিপর্যস্ত মানুষের জীবনে তাই নতুন সমস্যা হয়ে উঠেছে চালের দাম।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন আলী জানান, বড় বড় মিল মালিকরা ধান কিনে তা চাল করে কারসাজির মাধ্যমে বেশি দামে বাজারজাত করে। তাই খুচরা বাজারে চাল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে কৃষকের চেয়ে মিল মালিকরা বেশি লাভ হচ্ছে। শুধু তাড়াশে নয় প্রায় সব এলাকাতেই চালের দাম বেড়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com