নবী করিম (সা.) যে গুহায় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৫৬ অপরাহ্ন

  

নবী করিম (সা.) যে গুহায় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন

সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চৌহালি
১৬-০৬-২০২০ ১১:১৩ অপরাহ্ন
নবী করিম (সা.) যে গুহায় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন

 আব্দুল লতিফঃ জাবালে নূর পাহাড়- মক্কা নগরী থেকে: মক্কা শরিফ থেকে ছয় কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি পাহাড়ের নাম জাবালে নূর। এই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি গুহাকে বলা হয়- ‘গারে হেরা’ বা ‘হেরা গুহা’। নবুওয়ত লাভের পূর্বে নবী করিম (সা.) এই গুহায় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। এখানেই সর্বপ্রথম অহি নাজিল হয়েছিলো।

নিচ থেকে দেখলে মনে হয় পাহাড়টি খুব বেশি উঁচু নয়। কিন্তু বাস্তবে পাহাড়টি বেশ উঁচু। এমনকি জাবালে নূরে যাওয়ার জন্য যেখানে গাড়ি দাঁড়ায়, সেই স্থানটিও সমতল থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ ফুট ওপরে। সমতল থেকে এটুকু পথ গাড়িতে ওঠা যায়। কেউ অবশ্য এটুকু হেঁটে ওঠেন। আবার কেউ গাড়ি নিয়ে ওঠেন। মূল পাহাড়ের উচ্চতা ৫৬৫ মিটার। এখানে উঠতে হয় হেঁটে। অনেক দশনার্থী পাহাড়ের চূড়ায় উঠেন। তীব্র গরম, রোদের তাপ আর সঙ্গীদের নিরুৎসাহের পরও আমরা তিন বন্ধু আমি, আলহাজ নজরুল ইসলাম, আলহাজ শফিকুল ইসলাম ওপরে উঠলাম ৷ বাকী ৯ বন্ধুর সৌভাগ্য হলো না গারে হেরা বা হেরা গুহা দেখার ।

যদিও ওপরে উঠার রাস্তা কোনো রকমে পাথর কেটে কেটে সিঁড়ি বানানো হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও পাইপ বা চিকন রডের রেলিং দেওয়া আছে। অগত্য জাবালে নূর দর্শন হলো- পাহাড়ের গোঁড়া থেকে। পরে অবশ্য পাহাড়ে না উঠার আফসোস অনেকের ৷ যদিও সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। যারা উঠেছেন, তাদের ভাষ্য হলো- এখন ওপরে ওঠা আগের তুলনায় অনেক সহজ। কিছু দূর উঠে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বসার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। পথে এ রকম পাঁচটি বিশ্রামাগার রয়েছে। ভাবতে অবাক হতে হয়, আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে জাবালে নূরের একেবারে চূড়ায় অবস্থিত হেরা গুহায় উঠার জন্য এখনকার মতো রাস্তা ছিলো না।

কোনো সিঁড়ি ছিলো না। ছিলো না কোনো রেলিং। তখন এই পথ বেয়ে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ওপরে উঠতেন। আর উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.) হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য নিয়ম করে খাবার নিয়ে যেতেন! যে গুহায় নবী করিম (সা.) নবুওয়তের আগে ধ্যান করতেন এবং যেখানে কোরআন নাজিল হওয়া শুরু হয়, ওই গুহাটির আয়তন ৬ থেকে ৭ বগফুট। দশনার্থীরা এখানে এসে নামাজ পড়েন। চেষ্টা করেন কিছু সময় ধ্যান বা মোরাকাবা করার। ইতিহাসে বলা হয়েছে, আল্লাহতায়ালার অদৃশ্য ইশারায় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতি বছর এখানে মাসখানেক গভীর ধ্যান ও গবেষণায় নিয়োজিত থাকতেন। নিঝুম গবেষণা, একনিষ্ঠ ধ্যান ও নির্জনতা অবলম্বনের যথার্থ পরিবেশ বিরাজমান ছিল এ গুহায়।

নবী করিম (সা.)-এর বয়স চল্লিশে পৌঁছার অনেক আগে থেকেই তিনি এখানে নির্দিষ্ট মেয়াদে সময় কাটাতে থাকেন। হজরত খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে বিয়ের পর থেকে প্রতি বছরই তিনি রমজানের একমাস এখানে নির্জনবাস করতেন। এরূপ নির্জনবাস কোরায়েশরাও জাহিলি যুগে করতো।

নবী করিম (সা.)-এর বয়স চল্লিশ বছর পূর্ণ হলে তার প্রতি অহি নাজিল হয়। নবী করিম (সা.)-এর গারে হেরায় নির্জন বাস বিষয়ে কোরায়েশরা তার সঙ্গে দুশমনি করেনি। কারণ তার পিতামহ আবদুল মুত্তালিবই সর্বপ্রথম এখানে নির্জনবাস করেছেন এবং তিনি এ প্রথার সূচনা করেছেন। বর্বরতার তিমির পরিবেশে কেউ পাপমুক্তি ও পরিশুদ্ধি অর্জন করতে চাইলে তার সংশোধনাগার ছিল এ গারে হেরা। মূলত এখানে নির্জনবাসের কারণ ছিলো- পাপ বর্জন করা, সব ধরনের অন্যায় থেকে দূরে থাকা, একত্ববাদের আদর্শে অটুট থাকা, মূর্তিপূজা পরিহার করে পূণ্য কাজে মনোনিবেশ করা। নির্জনতা অবলম্বন করে ধ্যান-গবেষণা করা, নিভৃতে সাধনা সংযম করা।


সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চৌহালি ১৬-০৬-২০২০ ১১:১৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 576 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com