অস্তিত্ব হারাতে বসেছে বেলকুচির ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি
২৩-০১-২০২০ ১১:৫২ অপরাহ্ন
|
|
অস্তিত্ব হারাতে বসেছে বেলকুচির ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প
জহুরুল ইসলাম:
অস্তিত্ব হারাতে বসেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচির ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প। যমুনা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত বেলকুচি উপজেলা। আর এই অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে ওঠেছিল ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প। শিল্পের বিকাশের সাথে সাথে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যেরও উন্নয়ন ঘটেছিল। বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর হলেও এই উপজেলার শতকরা ৯০ ভাগ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস এই শিল্পের উপর। কিন্তু শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনী সুতা, রং ও আধুনিক মানের যন্ত্রপাতির ব্যবহার না থাকার কারণে তাঁত শিল্পের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে বলে দাবি করছেন এই শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত ৩ বছর ধরে তাঁত শিল্পের অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমরা ঠিকমত বেচাকেনা করতে পারছি না। যে দাম দিয়ে রং, সুতা ও তাঁতের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করি সে তুলনায় মার্কেটে আমাদের উৎপাদিত তাঁতের শাড়ি ও লুঙ্গি বিক্রি করতে পারি না। আমাদের এখন লোকসান দিয়ে কাপড় বিক্রি করতে হচ্ছে। আর কতদিন বা লোকসান দিয়ে এই ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে পারবো। এভাবে লোকসান গুনতে থাকলে একসময় আমাদের ভিটামাটি বিক্রি করে এই দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হবে।
আর তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকেরা জানায়, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। শুধু আমরাই না এ এলাকার একশ জনের মধ্যে নব্বই জন মানুষ এই তাঁত শিল্পের কাজ করে জীবন চালায়। এই ভাবে যদি তাঁত বন্ধ হতে থাকে তবে আমরা কি করে খাবো। আমাদের তো অন্য কোন কাজ জানা নাই।
সরকার যদি তাঁতের ব্যবসায়ের দিকে নজর দেয়। তাহলে আমাদের মত গরিব মানুষ বাঁচতে পারবে না। তা না হলে আমাদের না খেয়ে মরা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
এদিকে বাংলাদেশ হ্যান্ডলুম এন্ড পাওয়ারলুম এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারী হাজী বদিউজ্জামাল মন্ডল প্রতিবেদককে বলেন, তাঁত শিল্প শুধু আমাদের বেলকুচি উপজেলা ঐতিহ্য নয়, এ শিল্পের খ্যাতি রয়েছে সমগ্র বাংলাদেশে। এই শিল্পের প্রতি সরকারে বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। কেননা এই অঞ্চলের শতকার ৯০ ভাগ মানুষের রিজিকের ব্যবস্থা হয় এই শিল্প থেকে। তাঁতিদের স্বল্প সুদে ঋন সুবিধা সহ প্রয়োজনীয় দ্রবাদির দাম স্থীতিশীলতার পর্যায়ের রেখে যুগ উপযোগী প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটাতে পারলে এই শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা পাবে। আর সেই সাথে বেকার হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে এই অঞ্চলের প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ।
তবে এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁত বোর্ডের বেলকুচি শাখার লিয়াজো কর্মকর্তা তন্নি খাতুন প্রতিবেদকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ২৩-০১-২০২০ ১১:৫২ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 968 বার দেখা হয়েছে।
পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ