শত বছরের স্থায়ী বাঁধে পঞ্চমবারের মতো ধস, আতঙ্কে সিরাজগঞ্জবাসী
২৫ জুলাই, ২০২১ ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

  

শত বছরের স্থায়ী বাঁধে পঞ্চমবারের মতো ধস, আতঙ্কে সিরাজগঞ্জবাসী

নিউজরুম
৩০-০৬-২০২১ ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন
শত বছরের স্থায়ী বাঁধে পঞ্চমবারের মতো ধস, আতঙ্কে সিরাজগঞ্জবাসী

টানা বর্ষণ আর যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে হঠাৎ করেই সিরাজগঞ্জ যমুনা নদীর স্থায়ী শহররক্ষা বাঁধে ধস শুরু হয়েছে। এমন খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে শহরবাসী। ধস ঠেকাতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেললেও এখনো ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ১৯৯৭ সালে ১০০ বছরের স্থায়িত্ব নিয়ে নির্মিত এই বাঁধে পঞ্চমবারের মতো ধস নামলো।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুর থেকে শহররক্ষা বাঁধের পুরাতন জেলখানা ঘাট এলাকায় এ ধস শুরু হয়। দেড় ঘণ্টার মধ্যেই বাঁধের তিনটি স্থানে প্রায় ২৫০ মিটার বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে এ বিস্তৃতি বাঁধের সংযোগ রক্ষাকারী পাকা সড়কে এসে ঠেকেছে। এদিকে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধে ধস নামায় শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বাঁধ ধসের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. ফারুক আহাম্মদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার পারভেজসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ভাঙনস্থল পরিদর্শন করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ শহরকে যমুনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ সালে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই শহররক্ষা বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ৩৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হুন্দাই লিমিটেড এই বাঁধ নির্মাণ করে। নির্মাণকালে বাঁধটির স্থায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছিল একশবছর।

১৯৯৭ সালে বাঁধের দায়িত্ব বুঝে নেয় স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। একশ বছরের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে নির্মিত এই বাঁধটির নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হুন্দাই লিমিটেড পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু নানা অজুহাতে এই বাঁধটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

jagonews24

পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়িত্ব গ্রহণের ১২ বছর পর ২০০৯ সালের ১০ জুলাই প্রথমবারের মতো সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধে ধস নামে। এরপর একই বছরের ১৭ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ধস নামে। ২০১০ সালের ১৬ জুলাই তৃতীয় দফায় ধস নামে। এরপর ২০১১ সালের ১৮ জুলাই চতুর্থবারের মতো এবং সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৯ জুন পঞ্চম বারের মতো এই বাঁধটিতে ধস নামলো।

তবে এবারের ধ্বসে মুহূর্তের মধ্যে পাশাপাশি তিনটি স্থানে প্রায় ২৫০ মিটার বাঁধ নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জবাসী।

সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল হক বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ আমাদের ঐতিহ্য। এটিকে রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের পাশাপাশি যেকোনো প্রয়োজনে আমরা সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।’

সিরাজগঞ্জ জেলা উন্নয়ন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘শহররক্ষা বাঁধটি সিরাজগঞ্জের মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে আছে। বার বার এ বাঁধ ভাঙনের ফলে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কাজেই কোনো গাফলতি না করে এই বাঁধটিকে দ্রুত রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১০০ বছরের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে নির্মিত এই বাঁধটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে শহরবাসীর মধ্যে স্বস্তি নেমেছিল। শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর গত ২০ বছরে সিরাজগঞ্জ শহরজুড়ে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন। কিন্তু বারবার ধস নামায় শহরবাসী আর আশ্বস্ত হতে পারছেন না এই বাঁধের উপর। শহরকে রক্ষা করার জন্য দ্রুত বাঁধটি ভাঙনরোধকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমরা আশাবাদী। এতে প্রয়োজন হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রম দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর থেকে হঠাৎ করেই শহররক্ষা বাঁধের পুরাতন জেলখানা ঘাট অংশে ধস দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় একশো মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও নদীর পানির তীব্র স্রোতে ঘূর্ণাবাতের সৃষ্টি হয়ে বাঁধের নিচ থেকে মাটি সরে সিসি ব্লকগুলো দেবে গেছে। দুদিন আগেও আমরা এখানে ভালো অবস্থা দেখেছি। মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে এ ধস দেখা দিয়েছে। ধস ঠেকাতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’


নিউজরুম ৩০-০৬-২০২১ ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 280 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   [email protected]