ট্রান্সজেন্ডার মানুষের আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি দাবি
০৩ মে, ২০২৬ ০১:০৩ অপরাহ্ন

  

ট্রান্সজেন্ডার মানুষের আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি দাবি

নিউজরুম
১৯-০৬-২০২১ ০৭:২৬ অপরাহ্ন
ট্রান্সজেন্ডার মানুষের আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি দাবি

সরকার-বেসরকারি বিভিন্ন ফরমে লিঙ্গ পরিচয় উল্লেখ করতে হয়, যেখানে ‘নারী’, ‘পুরুষ’ বা ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ ক্যাটাগরি থাকে। এই চার ক্যাটাগরির বাইরেও ট্রান্সজেন্ডার, অযৌনচিত্তসহ আরও অনেক পরিচয়ের মানুষ রয়েছেন।

তাদের আত্মপরিচয় দেয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। তাই সরকারি-বেসরকারি ফরমে লিঙ্গের ক্ষেত্রে আত্মপরিচয় তুলে ধরতে আলাদা জায়গা বা সবগুলো ক্যাটাগরি রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (১৯ জুন) দুপুর রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘লিঙ্গ সমতায় লিঙ্গ রূপান্তরদের বর্তমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।

আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) গবেষক আব্দুল্লাহ তিতির, সম্পর্কের নয়া সেতুর সভাপতি জয়া সিকদার, কমিউনিটি রিপ্রেজেন্টিভ এস শ্রাবন্তী।

ব্লাস্টের গবেষক আব্দুল্লাহ তিতির বলেন, ‘হিজড়া বা ট্রান্সজেন্ডার শব্দগুলোকে প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। সরকারের প্রক্রিয়ায় সংজ্ঞায়িত করার জায়গা এখনো ঠিকভাবে আসেনি।’

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিতে গিয়েও দেখা যায়, নিবন্ধন ফরমের মধ্যে নারী, পুরুষ ছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গ একটা বক্স আছে। যে ব্যক্তি নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পরিচয় দেন, তারা কিন্তু তৃতীয় লিঙ্গ কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তাদের জন্য কিন্তু এই ব্যাপারটা আরও কঠিন। ট্রান্সজেন্ডার মানুষের জন্য আর কোনো বক্স নেই, যেখানে তাদের আত্মপরিচয় দেয়ার আইনি কোনো জায়গা নেই।’

‘এখন জেন্ডার ক্যাটাগরির যে সিস্টেমটা আছে, সেটা আসলে জৈবিক (বায়োলজিক্যাল) লিঙ্গের ওপর ভিত্তি করে করা। বায়োলজিক্যাল সেক্স আর জেন্ডার আইডেন্টিটি আলাদা ব্যাপার’ বলে উল্লেখ করেন আব্দুল্লাহ তিতির।

তিনি বলেন, ‘জৈবিক যে বিষয় আছে যেমন- নারীর অঙ্গ বা পুরুষের অঙ্গ, সেটার ওপর ভিত্তি করে নারী-পুরুষ নির্ধারণ করা হচ্ছে। একজন মানুষকে ইংরেজিতে ট্রান্সজেন্ডার বলা হচ্ছে, তার জৈবিক পুরুষ অঙ্গ বা নারীর অঙ্গের সঙ্গে মনস্তাস্ত্বিক দিকের বা মনের দিকের বা আত্ম-পরিচয়ের দিক দিয়ে খাপ খাচ্ছে না। বায়োলজিক্যাল দিক দিয়ে পুরুষ হতে পারে, কিন্তু মনের দিক থেকে সে সম্পূর্ণ নারী। জেন্ডার আইডেন্টিটি যে সম্পূর্ণ শারীরিক বিষয়গুলো দিয়ে নির্ধারিত হয় না। জেন্ডার ক্যাটাগরিগুলো যারা তৈরি করছে, তাদেরকে আগে এই ক্যাটাগরিগুলো বুঝতে হবে।’

ফরমে লিঙ্গ পরিচয় কেমন হতে পারে তার নমুনা তুলে ধরে এই গবেষক বলেন, ‘লিঙ্গ পরিচয় মাথা থেকে আসে– এই বিষয়টা আগে আলাদা করার প্রয়োজন। সেটা করার পর অন্তর্ভুক্তমূলক ক্যাটাগরি যদি আমরা বানাতে চাই, তখন ফরমগুলো এ রকম হতে পারে যে, নারী, পুরুষ; তারপর সেখানে যদি আমরা একটা লাইন দিই যে, “আপনার লিঙ্গ পরিচয় আপনি নিজেই উল্লেখ করুন”। সেখানে তারা ট্রান্সজেন্ডার, ট্রান্সম্যান, ট্রান্সওম্যান, জেন্ডার নন-কনফরমিং, নন-বাইনারি – এরকম অনেক আত্মপরিচয়ের মানুষ আছেন। তখন তারা তাদের আত্মপরিচয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে উল্লেখ করতে পারবেন।’


নিউজরুম ১৯-০৬-২০২১ ০৭:২৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 276 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com