শিরোনামঃ
নিউজরুম ০৬-০২-২০২১ ১১:২৩ অপরাহ্ন |
চট্টগ্রাম নগরের সাত জোন ও ১৪ উপজেলায় করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বণ্টন শেষ হয়েছে আজ শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি)। সর্বশেষ প্রায় চার হাজার সদস্যদের জন্য ভ্যাকসিন বুঝে নিয়েছেন চট্টগ্রাম সেনানিবাসের কর্মকর্তারা।
আগামীকাল রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজে টিকা নিয়ে চট্টগ্রামে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তিনি করোনার টিকা নেবেন। তিনি হবেন চট্টগ্রামে প্রথম করোনা টিকা নেয়া ব্যক্তি।
এরপর দায়িত্বশীল বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা টিকা নেবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কমিটির সদস্য সচিব ও চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী।
এই তালিকায় থাকছেন- চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবীর, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি প্রমুখ। দায়িত্বশীলদের টিকা গ্রহণের পর চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ অগ্রাধিকার তালিকাভুক্তরাও টিকা পাবেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন এসেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৫ ডোজ। বাকি ৩ লাখ ১ হাজার ৯৫ ডোজ টিকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার জন্য।
চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম নগরে ৬০ লাখ মানুষের বাস। আমাদের বরাদ্দ ১ লাখ ৫৪ হাজার। আগামীকাল চমেক হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মী ও ৫৫ বছরের বেশি বয়সী যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাদের টিকা দেয়া শুরু হবে। ১০টি বুথে এ কার্যক্রম চলবে। এদিন জেনারেল হাসপাতালেও ছোট পরিসরে টিকা দেয়া শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে নেভি হাসপাতালসহ বাকি ছয়টি জোনে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি সবাইকে বলব, কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে টিকা নিন। যেকোনো ধরনের অবস্থার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। যিনিই টিকা নেবেন তাকে আমরা এক ঘণ্টা আমাদের পর্যবেক্ষণে রাখব। এছাড়া টিকা দেয়ার আগেই গ্রহীতার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রাম নগরে প্রাথমিকভাবে ১৫টি কেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কমিটি। এই ১৫ কেন্দ্রে করোনার টিকা দিতে নিয়োজিত থাকবে ৪২টি টিম। প্রতিটি টিমে থাকবেন ছয়জন করে সদস্য। এর মধ্যে দুজন মিড ওয়াইফ, স্টাফ নার্স বা সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং চারজন থাকবেন স্বেচ্ছাসেবক।
চট্টগ্রাম নগরীর ১৫টি টিকাদান কেন্দ্র
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম সেনানিবাস হাসপাতাল, চট্টগ্রাম পুলিশ হাসপাতাল, সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম নৌ-বাহিনী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বিমান বাহিনী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতাল, চসিক বন্দরটিলা হাসপাতাল, চসিক মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন হাসপাতাল, চসিক ছাফা মোতালেব মাতৃসদন হাসপাতাল, ইউএসটিসি হাসপাতাল, সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় করোনার টিকা দেয়া হবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। সেখানে দুটি করে টিম টিকাদানে নিয়োজিত থাকবে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, এরইমধ্যে বরাদ্দ হওয়া টিকা উপজেলাগুলোয় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। টিকাদানের সার্বিক প্রস্তুতিও শেষ করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভ্যাকসিন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পটিয়ায়। এ উপজেলায় দেয়া হয়েছে সাড়ে ৩১ হাজারের বেশি ভ্যাকসিন ডোজ। এছাড়া আনোয়ারা উপজেলায় ১৫ হাজার ৫২৪ ডোজ, বাঁশখালীতে ২৫ হাজার ৮৪১ ডোজ, বোয়ালখালীতে ১৩ হাজার ৩৭২ ডোজ, চন্দনাইশ উপজেলায় ১৩ হাজার ৯৬৫ ডোজ, ফটিকছড়িতে ৩১ হাজার ৫২৫ ডোজ, হাটহাজারীতে ২৫ হাজার ৮৭৬ ডোজ, লোহাগাড়ায় ১৬ হাজার ৭৭৬ ডোজ, মিরসরাই উপজেলায় ২৩ হাজার ৮৯৬ ডোজ, রাঙ্গুনিয়ায় ২০ হাজার ৩১৭ ডোজ, রাউজানে ১৯ হাজার ৩৪৯ ডোজ, সন্দ্বীপ উপজেলায় ১৬ হাজার ৬৯৭ ডোজ, সাতকানিয়াতে ২৩ হাজার ৬২ ডোজ, সীতাকুণ্ডে ২৩ হাজার ২৪৪ ডোজ। নগরীতে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৫ ডোজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com