যে কারণে কাজিপুরে “সফল জননী নারী” ফিরোজা বেগম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:২৩ অপরাহ্ন

  

যে কারণে কাজিপুরে “সফল জননী নারী” ফিরোজা বেগম

আব্দুল জলিল
১৩-০৩-২০২৬ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন
যে কারণে কাজিপুরে “সফল জননী নারী” ফিরোজা বেগম

স্টাফ রিপোর্টারঃ  

স্বামীকে হারিয়েছেন আজ থেকে ৩২ বছর পূর্বে। ছোট ছোট চার সন্তান নিয়ে  ফিরোজা বেগমের চোখেমুখে ফুটে ওঠে একরাশ হতাশা। কিন্তু স্বামীসুখ হারালেও মনোবল হারাননি তিনি।

 একজন মা হিসেবে জীবনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করে আত্মসুখকে বিসর্জন দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন সন্তানদের পড়ালেখা করানোর।  ২ ছেলে ও ২ মেয়ে সন্তানকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে একদিকে অভিভাবক হিসেবে যেমন শাসন করেছেন, তেমনি তাদের পিছনে খরচের সংস্থানও করতে হয়েছে। তার স্বামী ছিলেন কাজিপুরের হরিনাথপুর এএ উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সহকারি শিক্ষক। স্বামীর অকাল মৃত্যুর কারণে (দীর্ঘ ৩২ বছর পূর্বে ১৯৯৩ সালে) সন্তানদের ঠিকমতো  ভালমানের খাবার ও পোশাক দিতে পারেননি তিনি। সন্তানেরাও হাল ছাড়েনি। বাবার অকাল মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে অদম্য আগ্রহ ও উদ্দীপনা নিয়ে তারা পড়ালেখা করেছেন। অভাবী সংসারে বাবার রেখে যাওয়া সামান্য কৃষি জমির চাষাবাদও করেছেন।।    

  স্বামীর অকাল মৃত্যুর কারণে ফিরোজার বড় মেয়ে পড়ালেখার পাঠ শেষ করতে পারেননি। অষ্টম শ্রেণী পাশ করার পর তাকে বিবাহ দেন তিনি। বড় ছেলে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং ছোট ছেলে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার পাশ করেছেন। সবার ছোট মেয়ে বি.এ পাশ করেছেন।

 ফিরোজার বড় ছেলে বর্তমানে ঢাকার নারায়ণগঞ্জ শিল্প এলাকায় ফকির এ্যাপারেলস লিমিটেড এ সিনিয়র  ম্যানেজার (ইলেকট্রিক্যাল) হিসেবে কর্মরত আছেন। ছোট ছেলে সাবেক ইন্সট্রাক্টর (আরএসি), সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সিটিটিউট, সাবেক ইন্সপেক্টর (মেট্রোলোজী), ডিএমআই, ঢাকা এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ায় যুগ্মপরিচালক (প্রকৌশল-যান্ত্রিক) পদে কর্মরত আছেন।

ফিরোজা বেগম জানান, “এক সাথে ৪ সন্তানকে পড়াশোনা করাতে গিয়ে একজন অকালে স্বামী হারা গৃহিনী মা হয়ে বিভিন্ন ধরণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এজন্য আমি ব্র্যাক এনজিও স্কুলে সমান্য বেতনে চাকুরি করেছি এবং সেলাই মেশিনে সেলাই কাজ করে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার অর্থের যোগান দিতে হয়েছে আমাকে। কিন্তু সেটাকে কষ্ট মনে না করে সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় অক্লান্ত পরিশ্রম ও সংগ্রাম করে গেছি। ”

তিনি আরও জানান,  ছেলেমেয়েরা মেধাবী হওয়ায় আতœীয় স্বজন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সব সময় তাদের পড়ালেখায় উৎসাহ দিতেন। কিন্তু সমাজ ব্যবস্থা সব সময় অনুকূলে ছিল না। বিশেষ করে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাতে গিয়ে তাকে অনেক দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। 

 তবে  জীবন থেমে থাকে না। গতিশীল এ জীবন সংসারে  ৪  সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে ফিরোজা বেগম সারাদিন সংসারের যাবতীয় কাজ একাই করেছেন। দিন শেষে তাদের লেখা পড়ার খোঁজ-খবর নেয়া, পরিবার-পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলা এবং অনেক অসামঞ্জস্যতা ও প্রতিকূলতা সন্তানদের বুঝতে দেননি কখনো।  

কাজিপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার চিত্রা রানী সাহা জানান, “ অক্লান্ত পরিশ্রমে ফিরোজা বেগমের সন্তানেরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নিজস্ব যোগ্যতায় আজ প্রতিষ্ঠিত। সমাজ সংসারে সফল তিনি।  এ কারণে অদম্য ফিরোজাকে “সফল জননী নারী” ক্যাটাগরিতে মনোনীত করে সম্মানিত করা হয়েছে।”


আব্দুল জলিল ১৩-০৩-২০২৬ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 86 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com