শিরোনামঃ
আব্দুল জলিল ১০-০১-২০২৪ ০৬:৫৫ অপরাহ্ন |
আবদুল জলিলঃ কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ)ঃ মোছাঃ শামছুন নাহার রহমান। একজন মা হিসেবে জীবনের অনেক ত্যাগ স্বীকার করে এবং সুখকে বিসর্জন দিয়েছেন সন্তানদের প্রতিষ্টিত করতে। তাঁর এই প্রচেষ্টা তাঁকে সফল জননী হিসেবে সম্মান এনে দিয়েছে। তিনি ৯ জন সন্তানকে ভালভাবে লেখা পড়া শিখিয়েছেন।। সমাজে তারা এখন স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। যমুনা বিধৌত চরাঞ্চলের অজপাড়াগাঁয়ে থেকেও তিনি ৮ জন ছেলে এবং একজন মেয়েকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন।
তাঁর ৫ ছেলে এমএ ৩ ছেলে বিএ পাস করেছেন। একমাত্র মেয়েও এমএ পাস করেছেন।
প্রথম সন্তান সমাজ সেবা কর্মকর্তা। পরের জন সমাজ সেবা অধিদপÍরের ফিল্ড সুপারভাইজার। এক ছেলে পুলিশ সুপার, পরেরজন সাব রেজিষ্টার পদে কর্মরত আছেন। আরেক ছেলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক। পরের জন কাজিপুরের শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।। আর দুই ছেলে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। একমাত্র মেয়ে বেসরকারী কলেজের প্রভাষক হিসাবে কর্মরত আছেন। নিজে একজন স্বল্প শিক্ষিত হয়েও তিনি সন্তানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তারা সবাই সমাজে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল।
শামছুর নাহার জানান, একসাথে ৯ জন সন্তানকে পড়াশুনা করাতে গিয়ে একজন গৃহীনি মা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু সব কষ্টকে জয় করে তিনি সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যত উপহার দিয়েছেন।
তিনি জানান, ছোট বেলা থেকেই সন্তানরা ছিলেন মেধাবী। আত্মীয়-স্বজন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও সন্তানদের পড়ালেখার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন। সারাদিন সংসারের যাবতীয় কাজ করার পরেও তিনি সন্তানদের লেখা-পড়ার খোঁজ রেখেছেন, পরিবার-পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলেছেন, অনেক অসামঞ্জস্যতা সন্তানদের বুঝতে না দিয়ে মুখ বুজে মেনে নিয়েছেন।
শামছুন নাহারের স্বামী একজন চাকরীজীবী ছিলেন। তিনি ছেলে মেয়েকে শিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত করতে সব সময় সচেষ্ট ছিলেন। কিন্তু চাকুরির সুবাদের তাকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। তাই পড়ালেখার খোঁজ নেয়ার বিষয়টি তাঁকেই দেখতে হয়েছে। এসব বিবেচনা করে কাজিপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে এবার তাকে সফল জননী পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
বুধবার তিনি এই প্রতিবেদকে জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজ আমার সন্তানেরা কর্মক্ষেত্রে নিজস্ব যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত। আমার এখন আর কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই।। আজ আমি নিজেকে সফল মনে করি। সব সময়ই মনে হয় আমার সন্তানেরা সফল। আমাকে নিয়ে নয় আমার সন্তানদের সফলতা নিয়ে আমি তৃপ্ত হই, গর্ববোধ করি বাব বার, শুকরিয়া জানাই মহান আল্লাহ্র দরবারে।
কাজিপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চিত্রা রানী সাহা জানান, শামছুন নাহার যেকোন নারীর জন্যে অনুপ্রেরণার নাম। তিনি সন্তানদের জন্যে জন্য অসাধ্য সাধন করেছেন। একারণে তাকে সফল জননী ক্যাটাগরিতে সম্মাণনা দেয়া হয়েছে।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহরাব হোসেন জানান, শামছুন নাহারের সংগ্রাম আমাদের মুগ্ধ করেছে। একারণে আমরা তাকে সফল জননী হিসেবে সম্মাণনা প্রদান করা হয়েছে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com