শিরোনামঃ
আব্দুল জলিল ১৬-০৭-২০২৩ ০৫:০৯ অপরাহ্ন |
স্টাফ রিপোর্টারঃ জালিয়াতির অাশ্রয় নিয়ে নিয়োগ নেয়ার তথ্য ফাঁস হওয়ায় এমপিও(মান্থলি পেমেন্ট ওর্ডার) স্থগিত হয়েছে নিয়োগকালিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বর্তমান অধ্যক্ষের। সেইসাথে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষাবোর্ড। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওই মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ। এমন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার শতবছরের পুরনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনামুখী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায়।
গত ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট সোনামুখী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্যে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি চেয়ে পত্র প্রেরণ করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন।সেসময় ওই মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ পদে ছিলেন মাওলানা শামসুল আলামিন। এরপর ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পরদিন নিয়োগ লাভ করে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন মাওলানা মোঃ শামসুল আলামীন। এরপর যথারীতি এমপিওসিটে অধ্যক্ষ হিসেবে নাম আসে তার।এভাবেই চলে আসছিলো সবকিছু। এদিকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগলাভের পরই শামসুল আলামিন নতুন করে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিধি মোতাবেক ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিধি চেয়ে পত্র প্রেরণ করেন। ঠিক তখনই বিপত্তি দেখা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিনিধি নিয়োগের জন্যে কাগজপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে জালিয়াতির বিষয়টি।তারা দেখতে পান বর্তমান অধ্যক্ষ শামসুল আলামিন তাদের কাগজপত্রে অধ্যক্ষ হিসেবে নয় বরং উপাধ্যক্ষ হিসেবে তালিকাভূক্ত রয়েছেন।তাছাড়া ওই নিয়োগ পরীক্ষায় বোর্ডের ৫ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন না ডিজি প্রতিনিধি ও আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। অথচ তাদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।
এরপর গত ২৪ মে ২০২৩ তারিখে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)ড. জাভেদ আহমদ সোনামুখী ফাজিল মাদ্রাসার নিয়োগসংক্রান্ত ফাইল পত্র পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তার দফতরে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে পত্র প্রেরণ করেন। তখন থেকে নিজের পদকে ধরে রাখতে শামসুল আলামিন দলীয় নেতাসহ বিভিন্ন মহলে দেনদরবার শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তিনি সুবিধা করতে পারেননি।
এরই মধ্যে গত ২৬ জুন ২০২৩ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ জাকির হোসেন এবং সহকারী পরিচালক (অর্থ) মোঃ লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত নিয়োগ কার্যক্রমের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটি গঠন করেন।
এদিকে রবিবার সরেজমিন ওই মাদ্রাসায় গিয়ে জানা যায়, অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা কোথায়, কখন কিভাবে সম্পন্ন হয়েছে মাদ্রাসার শিক্ষকগণ তা জানেন না। শিক্ষক প্রতিনিধি ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিয়োগ বোর্ড যখন গঠন ও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে তখন আমি ৪০ দিনের চিল্লায় তাবলীগ জামায়াতে উপজেলাযর বাইরে ছিলাম। নিয়োগ বিষয়ে কিছুই জানিনা।
ওই নিয়োগ কমিটির প্রধান সহকারী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন জানান, নিয়োগ কমিটি গঠনকালে আমি করোনায় আক্রান্ত ছিলাম। পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন কিছুই জানিনা। পরবর্তীতে এমপিওশিটে অধ্যক্ষ হিসেবে উনার(বতর্মান অধ্যক্ষ) দেখতে পাই। পরে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেন। আমি বগুড়া থেকে এসে চাকরি করছি। তাই অনেক কিছুই বলতে পারিনা।
তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ও সোনামুখী ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান আলী খান দাবী করেন নিয়োগ পরীক্ষার সময় ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক বাদশা মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ শামসুল আলামীনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন ও কাগজপত্র তলবের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি আর কিছু বলতে রাজী হননি।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com