কাজিপুরের বাংলাবাজার দাখিল মাদ্রাসায় ৮ জনকে পাশ কেটে নিয়োগ চূড়ান্ত-ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৬ অপরাহ্ন

  

কাজিপুরের বাংলাবাজার দাখিল মাদ্রাসায় ৮ জনকে পাশ কেটে নিয়োগ চূড়ান্ত-ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

আব্দুল জলিল
২৮-০৪-২০২৩ ০২:১২ অপরাহ্ন
কাজিপুরের বাংলাবাজার দাখিল মাদ্রাসায় ৮ জনকে পাশ কেটে নিয়োগ চূড়ান্ত-ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টারঃ তেলেসমাতি এবং তাজ্জব ব্যাপার ঘটেছে একটি নিয়োগকে কেন্দ্র করে। এই ঘটনার মূল হোতা ওই প্রতিষ্ঠানের স্বয়ং প্রধান। এতে করে ক্ষেপে উঠেছে পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সচেতন এলাকাবাসী। কি ঘটেছে দেখুন....

নিরাপত্তাকর্মি পদে দরখাস্ত করেন মোট ১১ জন প্রার্থী। সময় শর্ত মেনে ব্যাংকড্রাফটসহ দরখাস্ত করেন তারা।এরপর যথারীতি নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া হয়। ‍গত ৯ এপ্রিল নিয়োগও সম্পন্ন হয়। কিন্তু এই নিয়োগ পরীক্ষা সম্পর্কে কিছু জানতেই পারলেন না দরখাস্তকারী ৮ জন প্রার্থী। এমনকি এই পদে যাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তিনি নিজেও জানেন না কারা তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আরও অভিযোগ উঠেছে যে পদে নিয়োগ পেয়েছেন ওই পদে তিনি দরখাস্তই করেননি। দরখাস্ত করেছিলেন অন্যপদে। আর এমন নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্যসহ এলাকাবাসী। তারা দ্রুত এই অবৈধ নিয়োগ বাতিলসহ জড়িত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবার দাবী জানিয়েছেন। এমন ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বাংলাবাজার দাখিল মাদ্রাসার নিয়োগ পরীক্ষায়।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাবাজার দাখিল মাদ্রাসাটি যমুনার ভাঙনের ফলে ২০০৪ সালে গান্ধাইল ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে স্থানান্তর করা হয়। কয়েক বছর পূর্বে ওই মাদ্রাসায় সুপারিনটেন্ডেন্ট পদে নিয়োগ পান আসাদুর রহমান। নিয়োগর পর থেকেই তিনি পরিচালনা কমিটির কোন সভা নিয়মমতো করেন না। শুধু পিওন পাঠিয়ে রেজুলেশন পেপারে সদস্যদের স্বাক্ষর নেন। আর সুপারের প্রতি অগাধ বিশ্বাসের ফলে কেউ এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি। সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানে সহকারী সুপার, নিরাপত্তকর্মি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মি পদে দরখাস্ত আহবান করা হয়। এতে সহকারী সুপার পদে তিনটি, পরিচ্ছন্নতাকর্মি পদে ৮ টি এবং নিরাপত্তাকর্মি পদে ১১টি দরখাস্ত পাওয়া যায় । এরমধ্যে জটিলতার কথা বলে পরিচ্ছন্নতাকর্মি ও নিরাপত্তকর্মি পদে পরীক্ষা পরে হবে বলে সংশ্লিষ্ট পদে দরখাস্তকারীদের জানিয়ে দেন সুপার। শুধু সহকারী সুপার পদে পরীক্ষা নেবার কথা বলেন তিনি।

গত ৯ এপ্রিল তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানেই নিয়োগবোর্ড বসিয়ে সহকারী সুপার পরীক্ষার সাথে  গোপনে নিরাপত্তকার্মি পদে নিয়োগও সম্পন্ন করেন। এক সপ্তাহ পরে তিনি ওই দুই পদে ওই মাদ্রাসার একজন শিক্ষককে সহকারী সুপার এবং কালিকাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের পুত্র সাইফুল ইসলামকে(যিনি দরখাস্ত করেছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মি পদে বলে তার সাথে দরখাস্তাকারী একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন)নিরাপত্তাকর্মি পদে নিয়োগ দেন। বিষয়টি গত বুধবার জানাজানি হলে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন নিরাপত্তকর্মি পদে দরখাস্তকারী একই গ্রামের ৯ জন ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ।

 নিরাপত্তাকর্মি পদে দরখাস্তকারী কালিকাপুর গ্রামের ফিরোজ হোসেন, আব্দুল মোমিন, কফিল উদ্দিন, মাসুদ মিয়াসহ আরও তিনজন জানিয়েছেন তারা কোন্ ইন্টারভিউ কার্ড পাননি। তারা আরও জানান সুপার সাহেব এই পদে পরীক্ষা পরে হবে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এরপরেও কিভাবে নিয়োগ দেয়া হল? এই ঘটনার বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এর প্রতিকার দাবী করে অনৈতিক কাজে জড়িত সুপার আসাদুল এর শাস্তি চান।

নিয়োগ এবং মাদ্রাসা পরিচালনর বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ এনে কমিটির অভিভাবক সদস্য ইউসুফ আলী  জানান, হুজুর মানুষকে বিশ্বাস করেছিরাম। তিনি এভাবে প্রতারণা করবেন এটা ভাবিনি। তিনি আমাদের মিটিংয়েও ডাকেন না। আমরা এর প্রতিকার চাই।

মাদ্রাসার দাতা সদস্য প্রবীণ মুরব্বী হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আছি। কত সুপার এলো, গেলো। সবার সাথে ভালো সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু আসাদুর সাহেবের মতো নোংরা মানসিকতার একজনকেও পাইনি। তিনি কিভাবে নিয়োগ নিয়ে ছিনিমিনি খেললেন?  

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিন মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাবাজার দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা গেছে,  নিরাত্তাকর্মি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম মাদ্রাসার টিনশেড ঘরে বিদ্যুতের তার টানাচ্ছেন। বাইরে থেকে মাদ্রাসা তালাবদ্ধ। পরিচয় দিয়ে ভিতরে ঢুকে জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ইসলাম জানান, আমি এই মাদ্রাসায় জমি দিয়েছি। একটি ঘর করে দিয়েছি। তাই সুপার স্যার আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মি পদে দরখাস্ত করে কিভাবে নিরাপত্তাকর্মি পদে নিয়োগ পেলেন জানতে চাইলে তিনি জানান আমি নিরাপত্তাকর্মি পদেই দরখাস্ত করেছিলাম। পরীক্ষায় অংশ নেয়া তার তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম জানতে চাইলে তিনি তা বলতে পারেননি। তিনি বলেন সব সুপার হুজুর বলতে পারবেন। বলেই তিনি মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যান।

মাদ্রাসার সুপারিনটেন্ডেন্ট আসাদুর রহমান বলেন, সব নিয়ম মেনে হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মি পদে আবেদনকারী ৮ জনকে ইন্টারভিউ কার্ড কেন প্রদান করা হয়নি এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর তিনি না দিয়ে বলেন, সাইফুল মাদ্রাসায় যাবার রাস্তার জন্য জমি দিয়েছে। একটি ঘরও মেরামত করে দিয়েছে। তাই তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন সাইফুল নিরাপত্তাকর্মি পদেই দরখাস্ত করেছিলো।পরিচালনা কমিটির সদস্যদের ক্ষোভের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা ঠিক বলছেন না। তাদের জানিয়েই সব করা হয়েছে।

 নিয়োগবোর্ডের সদস্য কাজিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম আরা বলেন, আমরা যেভাবে কাগজ পেয়েছি সেভাবেই পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। কাদেরকে সুপার সাহেব কার্ড ইস্যূ করেননি সেটাতো জানিনা।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুখময় সরকার জানান, এখনো বিষয়টি জানিনা। লোকমুখে শুনছি। তবে এমনটি হয়ে থাকলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আব্দুল জলিল ২৮-০৪-২০২৩ ০২:১২ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 464 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com