প্রধান শিক্ষক নিয়মিত আসেন না বিদ্যালয়ে- তার আচরণে ক্ষুব্ধ পরিচালনা কমিটির সভাপতি
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন

  

প্রধান শিক্ষক নিয়মিত আসেন না বিদ্যালয়ে- তার আচরণে ক্ষুব্ধ পরিচালনা কমিটির সভাপতি

আব্দুল জলিল
২১-০৮-২০২২ ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
প্রধান শিক্ষক নিয়মিত আসেন না বিদ্যালয়ে- তার আচরণে ক্ষুব্ধ পরিচালনা কমিটির সভাপতি

বিদ্যালয়টির নাম চরছিন্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত কোন প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারি শিক্ষিকা  শাহনাজ পারভীন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ২০১৬ সন থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। আর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের সরকারি বরাদ্দের কাজ না করে আত্মসাৎ করে চলেছেন।  তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না বলেও অভিযোগ করেছেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনুজুরুল ইসলাম। স্থানীয় লোকজন ওই প্রধান শিক্ষিকার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের শিক্ষার্থীদের ওই বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বিদ্যালয়টিতে কাগজে কলমে যে পরিমাণ শিক্ষার্থীর উল্লেখ করা হয়েছে বাস্তবে তার ধারের কাছেও নেই।

 

গত শনিবার বেলা এগারটায় সরেজমিন ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে ক্লাসরুমগুলোতে ময়লা জমে রয়েছে। দেয়ালে টানানো বীরশ্রেষ্ঠদের ছবির উপরে ধুলোর স্তুপ জমেছে। ওই কক্ষে টানানো  শহিদদের আরেকটি ছবি ছিড়ে দলা পেকে ক্লাসে পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি নিজেই ওই ছবি উল্টেপাল্টে  দেখেন এবং আবারো সেখানেই ফেলে রাখেন।  প্রধান শিক্ষিকার রুমে টানানো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনেক পুরনো একটি ছবি  ও বঙ্গবন্ধুর ছবির উপর ধুলো জমেছে। ছবিগুলোর অনেকস্থানে ফুটো হয়েছে এবং দুমড়ে গেছে। বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলোর জন্যে বরাদ্দকৃত দোলনাটি খুঁটি উপড়ে পড়ে রয়েছে।  এছাড়া প্রতিটি ক্লাসে  হাজিরা খাতায় উল্লেখিত পরিমাণ শিক্ষার্থীর দেখা মেলেনি। এসময় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাজিরা খাতায় দেখা যায় সব শিক্ষার্থীকে শনিবারে বিদ্যালয়ে উপস্থিত দেখানো হয়েছে। অথচ তখনো ওই শ্রেণির পাঠদান শুরুই হয়নি।

 

এসব বিষয়ে কথা বলতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুনজুরুল ইসলামের  সাথে। তিনি জানান, আমি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে  বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি। অনেকদিনতো করোনায় বন্ধই ছিলো। এরপর ক্লাস শুরু হলে গত দুই মাসে আমি তিনদিন ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে পাইনি। স্থানীয়রা এসময় আমাকে জানান, ম্যাডাম তার ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে আসেন আর যান। বিষয়টি আমি কাজিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফোনে জানাতে চেয়েও  পারিনি। এবার সরকারি বরাদ্দের টাকায় উনি কি করছেন তা আমার সাথে সমন্বয় করেননি। নিজের ছেলেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে দিয়েছেন কেনো এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জানেনতো সরকারি স্কুলে তেমন পড়ালেখা হয়না। তাছাড়া মাদ্রাসায় দিয়েছি কিছু ধর্মীয় জ্ঞান লাভের জন্যে। পরে তিনি বলেন শিঘ্রই ছেলেকে এই স্কুলে পাঠাবো। 

 

ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য ফজলুল হক জানান, একসময় এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে অনেকেই এখন নামীদামী পদে রয়েছেন।কিন্তু সেই সুনাম এখন ধুলোয় মিশে যাচ্ছে এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার কারণে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ওই শিক্ষিকা  নিজেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। অত্যন্ত  অপরিচ্ছন্ন পোশাক পরে বিদ্যালয়ে আসেন। তার আচরণে আমরা ক্ষুব্ধ। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীদের এই বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নিয়েছি।

  ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের পাশের দোকানী  রোকনুজ্জামান ওরফে সোহেল রানা জানান, আমাদের ছেলেপেলেকে ওই স্কুলে পড়তে দিছিলাম।  কিন্তু ওই শিক্ষিকা(ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা) বাচ্চাদের কোন খবরই রাখে না।  সরকার থেকে যা বরাদ্দ আসে তার কোন কাজ করে না। জানতে চাইলে আমাদের সাথে ঝগড়া শুরু করে।

 ওই বিদ্যালয়ের আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান জানান, আমার পিতা এই বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলো। স্কুলটির তখন অনেক সুনাম ছিলো। হেডস্যার চলে গেলে ওই ম্যাডাম দায়িত্ব পান। আর তখন থেকেই তিনি নিয়ম ভেঙ্গে নিজের মতো করে স্কুল চালাচ্ছেন। একারণে খাতায় শিক্ষার্থী আছে কিন্তু আদতে নেই। সবাই পাশের কিন্টারগার্টেন আর মাদ্রাসায় পড়ে।

 ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা  শাহনাজ পারভীন জানান, আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসি। আমার বিরুদ্ধে এখানকার মানুষেরা মিথ্যে বলছে। অগ্রিম শিক্ষার্থী হাজিরা কিভাবে হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা আমার ভুল হয়েছে। দেয়ালের ছেড়া, ময়লা জমা ছবির বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি জানান, নতুন ছবি আনা হয়েছে টানাবো।  আর দোলনাটি মেরামত করা হবে। বিদ্যালয়ে নিজের অনুপস্থিতি সম্পর্কে সভাপতির বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মুভমেন্ট রেজিস্টার লিখে যাই। তার (সভাপতি) কথা সত্যি নয়।

 কাজিপুর উপজেলা  শিক্ষা অফিসার এসএম হাবিবুর রহমান নিজের জনবল ঘাটতির কথা জানিয়ে বলেন সময়মতো আমরা মনিটরিং করতে পারি না। আপনার মাধ্যমে সব জানলাম। এমনটি হয়ে থাকলে ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আব্দুল জলিল ২১-০৮-২০২২ ০৯:৪৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 497 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com