...................................................................
ঠিকানাহীন অভৌগোলিক সাগরে বাধ দিয়ে
পাওয়া পিতার উপহারকে হারতে না দিয়ে
জনকের অবর্তমানে প্রজা কল্যাণে নিলে রাজার কর্মভার।
সেই রাজা-
যে সূর্যর মত।
নায়াগ্রার পতিত জলপ্রপাতের মতো ঝরে পড়লো
তোমার অকুণ্ঠ স্নেহরাজী অযূত জনতার সমুদ্রে।
নিজের তুমিকে হারিয়ে ফেললে
উন্নয়ণের বন্দরে।
পথহীন অন্ধ রাজনীতিকে সুস্থ্যধারার পথ করে
নিজেকে করলে সেবকের পোশাকে সজ্জিত।
বারবার বিপরীতের ছুরির কাছে বুঝে নিয়েছিলে
জীবন সংগ্রামের সংজ্ঞা।
সময়ের প্রয়োজনে তুমি কোমল
কখনো সখনো বজ্র্রকণ্ঠ।
তোমার আইসিইউ সময়কালীনও
ফুসফুসের ভেতর গণমানুষের ভালোবাসা
আর জীবানুর ভয়ানক যুদ্ধ চলছিলো।
তুমিতো সেই বৃক্ষ
যাকে রেগে গেলে ইচ্ছেমতো ভৎর্সনা করা যায়
অথচ
তোমার পুষ্পিত প্রশাখার প্রতিটি কোটরে
কেবল উন্নয়নের বসবাস।
তুমিতো প্রদোষকালীন আকাশ
কুসুম কুসুম গরমে
জীবনের চরম সত্য আর সুন্দরের সেতুবন্ধন
ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ, রাস্তাঘাট, বাজার সংস্কার, কলেজ,
ডাকপিওন, রাজউক, বিশেষ বাহিনী, স্বাস্থ্যসেবায়
কত দরকারী ছিলে তোমার অযূত জনতার নিকট।
তুমিতো সেই পোস্টবক্স
যেখানে কর্মির কষ্টমাখা চেহারা আর ঘর্মাক্ত শরীর
নিশ্চিত ঠিকানা পেয়ে যায়।
ক্লান্তি মোছে জমজম পানির স্বাদে।
তোমার যমুনাময় জীবনের পল্টুনে
কর্মির অনায়াস গচ্ছিত
ভালোবাসার বর্ণিল ঢেউ।
স্যূট-প্যান্ট থেকে গামছা গলায় খালি পায়ের
সহির আলীদের আস্থার বিশাল ক্যানভাসে
তোমার ছবি সাঁটানো।
যেখানে সূর্যর জয় নেই, চাঁদের জোছনা নেই
অমাবস্যার গাঢ় অন্ধকারে আছে তোমার নাম
চিরঞ্জীব কীর্তিকর্মা মোহাম্মদ নাসিম।
তোমার মানবিক হৃদয় পদ্মশোভিত পুকুর
স্বচ্ছতোয়ায় ঘর্মাক্ত জীবনে নেমেছে সঞ্জীবনী সুধা।
অন্তহীন আশার পিলসুজের অসংখ্য আলোর নহর
কেবলি দাপিয়ে তোমার মহিমায় জ্বলজ্বল করে।
তোমার দেয়া কথার যাদুতে বুকে একরাশ ভালোবাসা নিয়ে
চালচুলোহীন শাহানার জীবনে ফিরেছে
আরাধ্য প্রেমিক সবুজ মিয়া।
তোমার বিশ্বাসে ঘর বাধে
খরচাবিহীন কোন এক স্বপ্নময় রাতে।
বড়বিদ্যাপীঠের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী
বয়স খোয়ানো রঞ্জন বাবুর মটর মেকানিকের
কাজের ফাঁকে অর্জিত ডিগ্রি
চাওয়ামাত্র পেয়েছে সম্মান।
তোমার তাৎক্ষণিক দ্বীধাহীন সিদ্ধান্তে
প্রভাষক পদে তার যোগদান
হাজারো কর্মের ছোট্ট দৃষ্টান্তমাত্র।
কষ্টের অদৃষ্টলিপি বদলে নতুন আঙিনায়
প্রেরকের ঠিকানায় তুমি
মোহাম্মদ নাসিম।
কাজিপুরের এক ইঞ্চি মাটিও
তোমার প্রেমের দিওয়ানা
সেই মাটির নির্যাস সিক্ত শরীরে তাই
কোন বুলেট কিংবা আততায়ীর চাকু
বারংবার নিশানা ভেদ করতে ব্যর্থ
তোমার পুরো অবয়বে মানবতার ঢাল।
সেই তুমি
নিঃশেষিত মোমের মতো আশা দিয়েও
শেষমেষ চলে গেলে।
রেখে গেলে সবচেয়ে প্রিয় পাত্রটি।
তার আগে তাকে কাছে থেকে
হাতে কলমে শিখিয়েছো
মানবতার রসে সমৃদ্ধ
রাজনীতির ধারাপাত।
তোমার জয় আজ জয়মাল্যে গুণবান।
যেখানেই হাত পড়ে সেখানেই তোমার
সহাস্য মুখাবয়ব
নেতাকর্মির অনুপ্রেরণার বাতিঘর।
কান পাতলেই শোনা যায়
তোমার বজ্রকণ্ঠ
চোখ মেললেই
দেখা যায়
তোমার উত্তরসূরীর কাঁকালে
জেগে ওঠা উন্নয়নের লাল সূর্য।