ডিজিটাল যুগেও এনালগ ভ্যানে চলছে রিয়াজ চাচার সংসার
২৫ জুলাই, ২০২১ ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

  

ডিজিটাল যুগেও এনালগ ভ্যানে চলছে রিয়াজ চাচার সংসার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সলংগা
১১-০৭-২০২১ ০৪:৩৮ অপরাহ্ন
ডিজিটাল যুগেও এনালগ ভ্যানে চলছে রিয়াজ চাচার সংসার
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার ঘুড়কা ইউনিয়নের ঘুড়কা পুর্ব পাড়া গ্রামের মৃত আদম মন্ডলের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৬০)। ১০ বছর বয়স থেকে বাবার সাথে উঠেছিলেন গরুর গাড়িতে। দীর্ঘদিন গরুর গাড়ি চালিয়েছেন তিনি। গরুর গাড়ির প্রচলন কমতে থাকায় রিয়াজ উদ্দিন তিন চাক্কার ভ্যান গাড়ির প্যাডেল মারা শুরু করেন। সেই যুবক বয়স থেকে আজ ৬০ বছর পার হলেও ভ্যানের প্যাডেল ঘুরিয়ে জীবন-জিবীকা নির্বাহ করছেন তিনি। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া রিয়াজ উদ্দিনকে এলাকায় একডাকে সবাই "রিয়াজ চাচা" বলে ডাকে। ৫ সদস্যের সংসারে রিয়াজ চাচা একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এখনও সংসারে তার বৃদ্ধ মা জামেলা, স্ত্রী রমিচা বেঁচে আছে। বেশীর ভাগ সময়ই তাদের অসুস্থ্যতার জন্য ঔষধ কিনতে হয়।যে বয়সে ঘরে বসে সন্তান,নাতিপুতির দেয়া খাবার খাওয়ার কথা। আর সেই বুড়ো বয়সে তাকে ঘুম থেকে উঠে বের হতে হয় খাদ্যের সন্ধানে। ডিজিটাল এই যুগে এসেও টাকার অভাবে (এনালগ) ভ্যানগাড়ির প্যাডেল ধরে বের হতে হয় রাস্তায়। একে তো বুড়া মানুষ! তার উপর আবার পায়ে চালানো ভ্যান গাড়ি। সভ্যতার এই যুগে যান্ত্রিক যান ছাড়া কেউ উঠতে চায় না রিয়াজ চাচার গাড়িতে। তাই তো স্থানীয় ঘুড়কা বাজারে ব্যবসায়ীদের মালামাল,স'মিলের কাঠ,চাতালের তুষ,মাছের বাজারে জেলেদের ড্রাম,দোকানীদের হালকা জিনিস পত্র পায়ে ঠেলা ভ্যানে করে পৌছে দেন রিয়াজ চাচা। অনেকের আবার নিত্যপণ্য বাজারও ভ্যানে করে পৌছে দেন তাদের বাড়িতে। এভাবে সারাদিন ঘাম ঝরিয়ে ২০০-৩০০ টাকা রোজগার হলেও দীর্ঘমেয়াদী প্রাণঘাতী করোনায় পথে বসেছে রিয়াজ চাচা। বর্তমান কঠোর লকডাউনের কারনে ঘুড়কার দোকানপাট সহ অন্যান্য ব্যবসা বন্ধ থাকায় দিন শেষে ৮০-১০০ টাকাও উপার্জন হচ্ছে না তার। পেটের খোরাক সহ ঘরে বৃদ্ধ মা,স্ত্রীসহ অন্যান্যদের জন্য ঔষধ ও চাল, ডাল কিনতে পারছেন না রিয়াজ চাচা। সরকারি কোন অনুদান,ভাতা জোটেনি তার ভাগ্যে। ভ্যানের বডি ভেঙ্গে গেছে,অনেকে উপহাস করে বলে রিয়াজ চাচার মাইকো। ইনকাম নাই বলে ওদের কথা সহ্য করে জোড়াতালির ভ্যানই এখন আমার ভরসা।তাই তো অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর ভাবে চলছে তার সংসার। ঘুড়কা বাজার বাসস্ট্যান্ডে দেখা হলে আলাচারিতায় উঠে আসে রিয়াজ চাচার জীবনের এমন কষ্টের কাহিনী। এ বিষয়ে কথা হয়, ঘুড়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান সরকারের সাথে। তিনি বলেন, বৃদ্ধ রিয়াজ হয়তো কোনদিন আমার কাছে তার অভাবের কথা জানায় নি। আমার সাথে দেখা করলে ব্যক্তিগত ভাবে সহযোগীতা করব। আগামী কোরবানির ঈদে স্বামী-স্ত্রী ২ জনকে ১০ কেজি করে চাউলের বরাদ্দ দেব এবং অতি দ্রুত তার পরিবারে পাওয়ার মত একটা ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ।

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সলংগা ১১-০৭-২০২১ ০৪:৩৮ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 144 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   [email protected]