নীলচাঁদ ও নীল এ আর্মস্ট্রং
০৫ মে, ২০২৬ ০৭:২০ অপরাহ্ন

  

নীলচাঁদ ও নীল এ আর্মস্ট্রং

আব্দুল জলিল
২৯-০৬-২০২১ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
নীলচাঁদ ও নীল এ আর্মস্ট্রং

 সম্পর্কের মামা না থাকলে কি হবে বাঙালির কমন মামা চাঁদ মামা সবার অত্যন্ত প্রিয় । সেই জন্মের পর থেকে শেষ পর্যন্ত সবাই চাঁদ মামাকে কোন না কোন ভাবে স্মরণ করা হয় ।বিষেস করে চাঁদের বুড়িতো অনন্তকাল ধরে চরকা কেটে চলেছে । মা তার সন্তানকে কোলে নিয়ে চাদেঁর টিপ যে কতবার পরিয়ে দেয় পরম যত্নে সে কথাকি অস্বীকার করার উপায় আছে ? সমগ্র মুসলিম জাহানের শতকোটি মানুষ চাঁদ দেখে রোযা রাখে ,আবার ঈদের বাঁকা চাঁদ দেখেই খুশির ঈদের আগমন বার্তা পায় । কিন্তু যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানীরা যে চাঁদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন তাতে করে চাঁদের বুড়ি আসলে চরকা কাটে না । সে কারো মামাও নয় । সে আমাদের  পরম প্রিয় পৃথিবীর নিকটাত্বীয় একটি উপগ্রহ ।

চাঁদকে নিয়ে মানুষ যুগ যুগ ধরে যে গবেষণা চালিয়ে আসছে তার চূড়ান্ত রূপ ৬০ কোটি বিশ্ববাসি টিভির পর্দায় দেখেছিল ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই । ওইদিন মানুষ চাঁদকে প্রথম প্রত্যক্ষ করে একান্তভাবে । তার বুকে এঁকে দেয় পদচিহ্ন । দিনটি ছিল মানব জাতির হাজার বছরের স্বপ্ন-কল্পনার সাথে বাস্তবের এক অপূর্ব মেল বন্ধন । মানুষ নিজের করে নেয় অয়ূত অযূত দূরত্বের চাঁদকে । যে চাঁদকে সাক্ষী রেখে প্রেমের পরিনতির সেতুবন্ধ রচিত হয় ,গীতিকার লেখে তার প্রশ্বস্তি , সুরকারের সুরের তপ্ততে শিল্পীর কণ্ঠে যখন তা তরঙ্গায়িত হয় তখন কেবলই মনে হয় ” ও চাঁদ কেন দূরে রও ...এসো আমার কাছে ,,,প্রিয়ার কথা পৌঁছে দিও কোথায় সে যে আছে । ”

যিনি চাঁদকে মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিলেন সেই বিস্ময় বিজ্ঞানী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীল এ আর্মস্ট্রং। মানুষের মধ্যে তিনিই প্রথম স্বশরীরে চাঁদকে ছুঁয়ে এসেছিলেন । চাঁদের মাঝে পাহাড় আছে , চাঁদ মাঝ বরাবর দুইভাগে বিভক্ত, ষেখানে পানি, বাতাস কিছু নেই এসব তথ্য তিনিই প্রথম মানবজাতিকে হাতে-কলমে দেখিয়ে দিলেন । আজ তিনি  আমাদের মাঝে  আর নেই । ২৫ আগস্ট  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যের সিনসিনাটি রাজ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । আর্মস্ট্রং মারা গেছেন কিন্তু মানবজাতির আজন্ম লালিত স্বপ্নের চাঁদকে বা¯তবসম্মত করে গেছেন । চাঁদের বুকে সমগ্র মানব জাতির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা তোলেন । সে পতাকায় লেখা ছিল ” এখানে চাঁদের বুকে পৃথিবী নামক গ্রহের মানুষ প্রথমবারের মতো তার পা রেখেছে ।”    

ব্লু মুন বা নীল চাঁদ

পৃথিবীর চিরাচরিত নিয়মে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা হয়ে থাকে । এটি একটি মহাজাগতিক ঘটনা । তবে সবকিছু ছাপিয়ে ৩১ আগস্ট শুক্রবার যে পূর্ণিমাটি ঘটে গেল তার আলাদা বিশেষত্বপূর্ণ । এই পূর্ণিমাটি হল নীল চাঁদের বা ব্লু  মুনের পুর্ণিমা ।  বিজ্ঞানীদের হিসেব মতে, গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৭ বছরে একবার করে ব্লু মুন সংঘটিত হয় । সে মোতাবেক পরবর্তিতে ২০১৫ সালে আবার দেখা মিলবে নীল চাঁদের । সাধারনত প্রতি মাসে একবার করে পূর্ণিমা হয়ে থাকে । কিন্তু কোন কোন মাসে দুইবার পূর্ণিমা ঘটে থাকে । সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় পূর্ণিমাটিই হলো নীল চাঁদের পূর্ণিমা ।

 

কেন এমনটি ঘটে ?

সৌরবছর হয় ১২ টি পূর্ণমাস নিয়ে । তবে সৌর মাসের তুলনায় চান্দ্র মাসের দৈর্ঘ্য ১১ দিন কম হয় । ফলে গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৭ বছরে এমনটি ঘটে থাকে । এ কারনেই প্রতি ১৯ বছরে  ৭ বার এই ঘটনা ঘটে থাকে ।

আসলেই কি ব্লু মুন মানে নীল চাঁদ ? 

বিশেষ এই চাঁদকে নীল চাঁদ নামে ডাকা হলেও আসলে তা নীল নয় । এদিন চাঁদকে নীল রঙেরও দেখায় না । ইংরেজি ব্লু মুন মানেও এমটি নয় । প্রায় ৪শ বছর আগে এই নামটি প্রচলিত ছিল । গত ২৫ বছরে এর বিস্তার লাভ করেছে ।  বাংলায় যেমন অমাবস্যার চাঁদ মানে চাঁদকে বোঝায় না , তেমনি ব্লু মুন মানেও নীল চাঁদ নয় । তবে চাঁদ যে একেবারে কখনই নীল দেখা যায়নি এমনটি নয় । ১৮৮৩ সালে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ইন্দোনেশিয়ায় পরবর্তি ২ বছর  চাঁদকে নীল দেখা গিয়েছিল । এসময় সূর্যাস্তের কালে চাঁদকে সবুজ দেখা যেত । তাছাড়া আকাশে ধূলিকণা বা অন্য কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তন জনিত কারণে চাঁদের রঙ নীল দেখা যেতে পারে । একমাত্র জোয়ার-ভাটা ছাড়া মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় চাঁদের ব্লু মুনের কোন প্রভাব নেই ।

 

 


আব্দুল জলিল ২৯-০৬-২০২১ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 361 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com