টাকা ছাড়া ভাতার কার্ড করে দেন না ইউপি সদস্য
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন

  

টাকা ছাড়া ভাতার কার্ড করে দেন না ইউপি সদস্য

আব্দুল জলিল
২৬-০৬-২০২১ ০৪:৪৩ অপরাহ্ন
টাকা ছাড়া ভাতার কার্ড করে দেন না ইউপি সদস্য
কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বয়স্ক, বিধবা অথবা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করতে টাকা নেবার অভিযোগ উঠেছে। নানা প্রকার ভাতার কার্ড করে দেবার নাম করে কখনো অগ্রিম টাকা, কখনো কাজ শেষে, কখনো বা ভাতার প্রথম কিস্তির একটি অংশ নিয়েছেন তিনি। আর টাকা বা কমিশন না দিলে কার্ড জোটেনা সুবিধাভোগীদের কপালে। কার্ড হওয়ার পরে টাকা দিতে অস্বীকার করলে কার্ড বাতিল করার ভয়ভীতিও দেখান তিনি। টাকা দেওয়ার বিষয়টি  জানাজানি করলে তাকে হেনস্তা করা হবে বলেও ভয় দেখান। ভুক্তভোগীরা ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলেছেন। 

শনিবার (২৬ জুন) সকালে সরেজমিন গিয়ে কথা হয় ভুক্তভোগীদের সাথে। তারা ওই ইউপি সদস্যের কার্ড বাণিজ্যের বিষয়টি এই প্রতিবেদকের নিকট খোলাসা করেন। 

এসময় রৌহাবাড়ি উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান বলেন, "আমার ছেলের প্রতিবন্ধীর কার্ড করার জন্য ৭ হাজার টাকা চায়। কার্ড করা হয়ে গেলে একদিন একাউণ্টে টাকা আসে। পরে মেম্বর এসে বলে টাকাগুলো বের করে আমাকে দাও। টাকা উঠিয়ে আনার পরদিন সকালে এসে আমার কাছ থেকে ৬হাজার টাকা নিয়ে যায়।"

একই গ্রামের আব্দুস সামাদের স্ত্রী আলেয়া জানান, "অনেক ধর্ণা দেয়ার পর মেম্বর বলে আইডি কার্ড আর ছবি নিয়ে যোগাযোগ করতে। পরে ওগুলো নিয়ে তার বাড়িতে যাই। কার্ড হওয়ার পরে যে টাকা আসবে তার প্রথম কিস্তি তাকে দিতে বলে।"

আবু বক্কার জানান, "আমার ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেয় মেম্বর। প্রথম কিস্তির টাকা মেম্বর নিজেই তুলে এনে আমাকে দেয়। কিন্তু কার্ডে লেখা আছে ৯ হাজার আর বইসহ আমাকে দেয় ২২৫০টাকা।"

একই গ্রামের মকবুলের স্ত্রী জবেদা খাতুন বলেন, "আমার ছেলে বউয়ের প্রতিবন্ধীর ভাতা কার্ড করে দেয়ার জন্য মেম্বরকে বলেছিলাম। সে ৪ হাজার টাকা চেয়েছিল। টাকা দিতে পারি নাই বলে কার্ড করে দেয় নাই।"

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, "ভাতার কার্ড করে দেয়ার জন্য আমি কোন টাকা নেই নি। এগুলো বানোয়াট। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার প্রতিপক্ষ তাদেরকে দিয়ে আমার নামে বদনাম রটাচ্ছে।"

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, " এর আগেও ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছিলাম। নোটিশও করেছিলাম আমার কার্যালয়ে আসতে। ইউপি সদস্য এসেছিলেন কিন্তু অভিযোগকারীরা আসেননি। যদি ভুক্তভোগীরা জবানবন্দি দিতে পারে তাহলে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আব্দুল জলিল ২৬-০৬-২০২১ ০৪:৪৩ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 396 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com