পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ওসির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর মামলা
২০ জুন, ২০২১ ০৪:৪৫ অপরাহ্ন

  

পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ওসির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি
২৭-০৫-২০২১ ১০:৫৪ অপরাহ্ন
পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ওসির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর মামলা
পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক কুমার দাসের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা করলেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধ সাইফুদ্দিন প্রামানিক (৭০)। মামলার বিবরনে জানা যায়, বিগত ১০ মাস পূর্বে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বতবাড়ী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিবাদীগনকে থানায় আসতে বলেন ওসি দীপক কুমার দাস, ঐরাতে বিবাদীগন থানায় না আসার কারণে ক্ষিপ্ত হন ওসি। এর জের ধরে বিবাদী গনদের প্রতিরাতে পুলিশি অভিযানের নামে পুরো গ্রাম তছনছ করা সহ পুলিশি হয়রানি থেকে বাঁচতে টাকার বাণিঞ্জ করতে থাকে পুলিশ। চাহিদা মতো পুলিশকে টাকা না দিলে বতবাড়ী গ্রামে পুলিশি অভিযানের নামে বিভিন্ন বাড়ীতে রাতে প্রবেশ করিয়া ভাংচুর সহ নগদ টাকা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং একাধীক ব্যাক্তিকে মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তার করিয়া থানায় নিয়ে ব্যাপক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছারিয়া দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। উক্ত নির্যাতনের বিষয় নিয়ে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের নিকট সকল নির্যাতনের বিবরন তুলে ধরেন। বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনে এই সংবাদটি প্রকাশিত হলে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওসি দীপক কুমার দাস। এরপর থেকে সাংবাদিকদের নিকট স্বাক্ষাতকার দেয়া ব্যাক্তিগনকে একে একে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে নতুন নতুন মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠাতে থাকেন। মামলার বাদী বৃদ্ধ সাইফুল ইসলাম জানান, আমার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তবে আমি সাংবাদিকদের কাছে পুলিশি হয়রানির কথা বলেছিলাম এটাই আমার অপরাধ। তাই গত ২৪ মে রাতে উল্লাপাড়া থানার ৪/৫ জন সাদা পোশাকে পুলিশ এসে আমাকে ধরে নিয়ে যায় থানায়। আমি শ্বাস প্রশ্বাসের রুগী আমাকে দুই এসআই হাত ধরে রাখে আর ওসি নিজে আমাকে ব্যাপক হারে মারতে থাকে আর বলে তাকে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সাধ মিটাই আগে। লোহার পাইপ দিয়ে আমাকে ইচ্ছা মতো পিটায় ওসি। আমি ওসিকে বলি, আমি আপনার বাবার বয়সের আমাকে আর মারবেন না, তিনি কোন কথা না শুনে এই বদ্ধ বয়সে আমাকে এমন করে মারধর করলে আমি অনেক অসুস্থ হয়ে পরি। পরে আমাকে রাতেই উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করায়। সেখানে ডাক্তাররা বলে কোন মানুষ এই বৃদ্ধ মানুষকে এ ভাবে মারতে পারে? ওসি মানুষ না অন্যকিছু্। ওসির এই নির্যাতন আমার দু'হাতের তালু, মাথায়, ডান হাত, গলার পিছনে, তলাপেট, পিঠ এবং দুই কান মাথায় সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম আর ব্যাথায় থাকতে পারছিনা। এরপর ২৫ মে আমাকে চাঁদাবাজী মামলা দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে চালান করে দেয়। আদালত আমার অবস্থা দেখে ও জবানবন্ধি নিয়ে আমাকে জামিন দেন এবং শারীরিক অবস্থা অবনতি দেখে চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। আমি একটু সুস্থ হলে হাসপাতাল থেকে সার্টিফিকেট তুলে (২৭ মে) সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া থানা আমলী আদালতে হাজির হইয়া এই মামলা দায়ের করি। আমি এই ওসির উপযুক্ত শাস্তি ও বিচার চাই। বাদী পক্ষের আইনজীবি মোরশেদুল ইসলাম ও নিখিল কুমার ঘোষ জানান, বাদীর দায়ের করা মামলাটি বৃহস্পতিবার বিজ্ঞ আমলী আদালতে উপস্থাপনের পরে, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট মোঃ আসাদুজ্জামান মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ২৪ ঘটার মধ্যে বাদীর শারীরিক পরিক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের রেজিষ্টার্ড চিকিৎসার নির্দেশ দেন এবং বাদীর পক্ষের আইনজীবি পৃথক দরখাস্তে ঘটনার জুডিসিয়াল তদন্ত দাবী করার কারণ, বাদীর বক্তব্য ও দাখিলকৃত কাগজাদি পর্যালোচনায় দরখাস্তটি জুডিসিয়াল তদন্তের জন্য গ্রহন করেন এবং আদালত নিজেই অত্র দরখাস্তটি তদন্ত করবেন বলে আদেশ দেন। উল্লাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক কুমার দাস সাংবাদিকদের বলেন, সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনেক আগের একটা মামলা ছিলো। তাকে সেই মামলাতেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমি কিংবা আমার কোন পুলিশ তাকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করেনি। আদালত তদন্ত করলে সঠিক ঘটনা বের হয়ে আসবে।

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ২৭-০৫-২০২১ ১০:৫৪ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 494 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   [email protected]