শিরোনামঃ
আব্দুল জলিল ১১-০৫-২০২১ ০৬:১৬ অপরাহ্ন |
একটিই প্রশ্ন.... উত্তর জানা থাকলে কেউ দেবেন....
গত করোনাকালের কথা দিয়েই শুরু করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ সাংবাদিকদের এককালিন অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। উদ্যোগটি অবশ্যই সাধুবাদ পাবার যোগ্য। কারণ এরকম করে সাংবাদিকদের নিয়ে আগে কোন সরকার প্রধান ভেবেছে কিনা জানা নেই।
এরপর নানা সময়ে যে সুবিধাগুলো আসছে। সেসব পৌঁছানোর সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে জেলার সাংবাদিক পর্যন্ত। অন্তত. সিরাজগঞ্জ জেলার প্রেক্ষাপটে মনে হয় ভুল বলছি না।
এরপর দুই ঈদ কিংবা, ১ বৈশাখে যেকোন উপহার বা সহায়তা সেও জেলা পর্যন্তই।
এবছর করোনাকালেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মি সবার জন্যেই প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগটিকেও শতভাগ সাধুবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু একটি আফসোস থেকেই যাচ্ছে।
তবে কি উপজেলার কর্মরত কোন সাংবাদিক এই সুবিধা পাবার মতো সাংবাদিক না ? তাদের কি সুবিধা অসুবিধা নেই? সবাই কি স্বচ্ছল? কিংবা শুধু গানের গুণীগণকি সিরাজগঞ্জ শহরেই বাস করেন? (সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি। কাউকে খাটো করার জন্য নয়) একশ জনের মধ্যে একজনও কি সিরাজগঞ্জের কোন উপজেলার কেউ আছেন? জানিনা। তাই প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি। যদি একজনও না হয়, কিংবা হাতে গোনা দুই একজন যারা আবার সিরাজগঞ্জ শহরের গুণীদের ছত্রছায়ায় বাস করেন তবে কি তাদের উপজেলা কোঠায় ফেলে বিচার করা ঠিক হবে?
গতবছরও জেলা কিংবা উপজেলা প্রশাসন থেকে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের কোন সহযোগিতা করা হয়নি। সংস্কৃতিক কর্মিগণের সহযোগিতার ক্ষেত্রে জেলা কালচারাল অফিসার মাহমুদুল হাসান লালন ফোন করে দুটি নাম চাইলেন। এরমধ্যে তিনি একটি আগেই ঠিক করেছিলেন। আমি শুধু একটি নাম দিয়েছিলাম। সেই অসহায় শিল্পী এককালিন সম্ভবত পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। ঠিক ওইটুকুই। লালন সাহেবকে এই বদান্যতার জন্যে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
এই কিছুদিন পূর্বে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম তুলতে ব্যর্থ (কিন্তু তার সাথীদের নিকটে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা) সোনার উদ্দিন টুরু মারা গেলেন এক প্রকার বিনা চিকিৎসায়। মারা যাবার পূর্বে স্থানীয় একটি বাজারে কয়েক লিটার তেল নিয়ে বসে বিক্রি করতেন। তাকে যারা চিনতেন তাদের অনেকেই কিছু সহায়তা করেছেন। এভাবে তার সংসার চলেছে।একটু ফুরসৎ পেলেই তিনি বাঁশী বাজিয়ে সবাইকে আনন্দ দিতেন।এমন দুস্থ শিল্পীর ভাগ্যেও কিছু জোটেনি।
আর সাংবাদিক! এ পর্যন্ত জানামতে আমাদের উপজেলার সাংবাদিকদের কথা কেউ ভেবেছে বলে আমার জানা নাই। বিশেষ করে কাজিপুরের প্রেক্ষাপটে এ কথা দিবালোকের মতো সত্য।
তারপরেও ধন্যবাদ জানাই মাননীয় জেলা প্রশাসক সিরাজগঞ্জ, পুলিশ সুপার সিরাজগঞ্জ এবং জান্নাত আরা হেনরি ম্যাডামকে। আপনারা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সাংবাদিক, শিল্পীদের নীল বাক্সে উপহার পাঠিয়েছেন। শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। আসলে এখানেই আমরা ষোল আনা বাঙালী। যুগ যুগ ধরেই আমরা একে অপরের উৎসবে পালা পার্বণে, সুখে দুঃখে এক কাতারে দাঁড়িয়ে যাই, বাড়িয়ে দেই সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত। আপনাদের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।এটাই তো স্বাভাবিক প্রতিবেশি হিসেবে আপনারা আপনাদের কাছের জনদের সহযোগিতা কিংবা উপহার পাঠিয়েছেন।
বিনয়ের সাথে একটি আবেদন রাখছি, উপজেলায় কর্মরত যে সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, কবিগণ বাস করেন তাদের খোঁজ খবর নিলে তারাও এই আনন্দের শরিক হতে পারতেন। খোঁজ নিলে এরকম অনেককেই পাওয়া যাবে যাদেরকে এই আনন্দের সাথী করা যেতেই পারে।
আমার জানা নেই উপজেলায় কর্মরতদের সহযোগিতা পাবার কোন সুযোগ আছে কিনা।
পরিশেষে করোনাকালে আসুন সবাই অসহায়দের পাশে দাঁড়াই। সবাই এই বন্দী ঈদে ভালো থাকি, সাধ্যমতো ভালো রাখি। আমিন।
আবদুল জলিল, সংবাদকর্মী, শিল্পী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ
jolil07052012@gmail.com 11 may-21
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com