সিরাজগঞ্জে পুকুর খনন প্রকল্পের নামে পুকুর চুরির অভিযোগ
০৭ মে, ২০২১ ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন

  

সিরাজগঞ্জে পুকুর খনন প্রকল্পের নামে পুকুর চুরির অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সলংগা
২৯-০৪-২০২১ ০৩:০২ পূর্বাহ্ন
সিরাজগঞ্জে পুকুর খনন প্রকল্পের নামে পুকুর চুরির অভিযোগ
সিরাজগঞ্জের চারটি উপজেলায় “জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পে ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে পুকুর পুন:খননে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাগজ কলমে সুফলভোগীদের কথা বলা হলেও বাস্তবের চিত্রটা উল্টো। সুফলভোগীদের ফাঁকি দিয়ে খনন কাজ করছে মৎস্য অফিসের পছন্দের ঠিকাদার ও মৎস্য অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। চারটি উপজেলায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাপক অনিয়মের চিত্র। কাজের তুলনায় বিল দেয়া হয়েছে দ্বিগুন। এদিকে প্রকল্পগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ যাদের সদস্য করা হয়েছে তারা এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তাদের কার্যক্রম। বিল করার ক্ষেত্রে কৌশলে নেয়া হয়েছে স্বাক্ষর। অনেক পুকুরের তলায় মাটি না কেটেই পানি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশেই পানি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বলে জানান কতিপয় সদস্যরা। আর পুকুর পাড়ের চারপাশে যেভাবে কাজ করার কথা তা মানা হয়নি। সুফলভোগীদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে কাজ না হলে এ বছরে মাছ চাষ না হওয়ার আশংকা রয়েছে। অনেক সদস্যই জানেনা এই প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে। অনেক ঠিকাদার কাজ না করেই এখন বিল তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে এমন অভিযোগও রয়েছে সুফলভোগীদের। সিরাজগঞ্জ জেলার চার উপজেলায় “জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পের চলতি অর্থ বছরে প্রায় ৩৩ হেক্টর আয়তনের ৩৯টি পুকুর খননের জন্য ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন মৎস্য অধিদপ্তর। চলতি বছরের ৩০ জুন এর মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। আর চুড়ান্ত বিল প্রদান করতে হবে ৩০ জুনের মধ্যে। তবে এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জে জেলা মৎস্য অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের সাথে সাক্ষাতের জন্য অফিসে একাধিকবার গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি, পরে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহেদ আলী জানান, সুফলভোগীদের মাধ্যমেই কাজ হচ্ছে এবং কাজের উপর ভিত্তি করেই বিল প্রদান করা হচ্ছে। অনিয়মের সুনিদ্রিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ৪ টি উপজেলার পুকুরগুলো হলো, তাড়াশের কার্তিক পুকুর পুনঃখনন ৮লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা, চতরা পুকুর পুনঃখনন ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা, কুনি পুকুর পুনঃখনন ১০ লক্ষ টাকা, খুলু পুকুর পুনঃখনন ৭ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা, চোরধরা পুকুর পুনঃখনন ৮ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা, জোয়াদ্দার পুকুর পুনঃখনন ৭ লক্ষ ১৮ টাকা, বেটেমহল পুকুর পুনঃখনন ৬ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা, শিংরাগাড়ী পুকুর পুনঃখনন ৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, মরাদিঘি পুনঃখনন ১৬ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা কুসুম্বি পুনঃখনন ১৯ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা, বড় আইন্দা পুনঃখনন ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা, উল্লাপাড়া-হ্যাচারী কমপ্লেক্র পুকুর (ব্রুড- ১.২.৩) ৮ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা, উল্লাপাড়া হ্যাচারী কমপ্লেক্র পুকুর (ব্রুড- ১ও পোনা পুকুর এবং লম্বা পুকুর) ৯ লক্ষ ৭ হাজার টাকা, আইন্দা পুকুর পুনঃখনন ৪ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা, আলালিয়া পুকুর পুনঃখনন ৭ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা, কাটানী দিঘী পুকুর পুনঃখনন ১৯ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা, নিল পুকুর পুনঃখনন ৬ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা, ফাজিলনগর কবরস্থান পুকুর পুনঃখনন ১৯ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা, বামনগ্রাম পুকুর পুনঃখনন ৪ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা, ভাদুরিয়া পুকুর পুনঃখনন ১০ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা, মতির পুকুর পুনঃখনন ৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, রাকশাগাড়া পুকুর পুনঃখনন ৪ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা, খোজখালী বাঘমারা পুকুর পুনঃখনন ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা, বলাইগাড়ী পুকুর পুনঃখনন ১৫ লক্ষ ২২ হাজার সুবৈদ্য মরিচ পশ্চিম পাড়া পুকুর ১৯ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা, বাও নদী খাল (পশ্চিম পাশের ব্রীজ হতে ভুলু মল্লিকের বাড়ী) পুনঃখনন ১০ লক্ষ টাকা, বাও নদী খাল ( ভুলু মল্লিকের বাড়ী হতে দেলবার শেখ এর বাড়ী) পুনঃখনন ৭ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা, রায়গঞ্জ-গোলদিঘী পুকুর পুনঃখনন ৮ লক্ষ ৭ হাজার টাকা, জোর পূর্ব পুকুর পুনঃখনন ১০ লক্ষ টাকা, মেছাইগাড়ী পুকুর পুনঃখনন ১০ লক্ষ টাকা, বড়মনিহার পুকুর পুনঃখনন ১৯ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা, যোগী(২) পুকুর পুনঃখনন ১৯ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা, দেলমুড়া জামে মসজিদ পুকুর খনন ৫ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা, কোদলাদিঘর দারুল হেফজ মাদ্রাসা পুকুর -১ খনন ৩ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা, কাদলাদিঘর দারুল হেফজ মাদ্রাসা পুকুর -২ খনন ১০ লক্ষ টাকা, মাটিখোড়া বিল খনন ১০ লক্ষ টাকা, ধলজানবিল খনন ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা, চাদপুর চালা পুকুর খনন ৬ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা। সিরাজগঞ্জ-সদর, ইটালি আশ্রয়ন পুকুর পুনঃখনন ৯ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। ঘটনাটি তদন্তে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জলাশয় উপকারভোগীরা। দরিদ্র ও বেকার জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলেও সংশ্লিষ্ট মৎস্য বিভাগের অনিয়ম আর চরম দুর্নীতির কারণে তা শুধু কাগজ কলমেই থেকে যায়। আর ভেস্তে যায় সরকারের মহতী উদ্যোগ।

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সলংগা ২৯-০৪-২০২১ ০৩:০২ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 218 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   [email protected]