শিরোনামঃ
আব্দুল জলিল ০৫-০৪-২০২১ ০২:১৩ অপরাহ্ন |
মোঃ আব্দুর রাজ্জাকঃ ডেপুটি ডিরেক্টর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
বাংলাদেশের স্বাধীনতা'র সূবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকি উদযাপন উপলক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জনাব নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর এবং প্রতিবাদ প্রসঙ্গঃ
দেশের স্বাধীনতার ৫০ বৎসর পূর্তি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকি উদযাপন উপলক্ষ্যে সরকারের পূর্ব নির্ধারিত প্রগ্রামে রাষ্টীয় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে জনাব মোদি বাংলাদেশ এসছিলেন। উনি গোপনে এ দেশে আসেননি। রাষ্টীয় অতিথিকে সন্মান প্রদান রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকার সে দায়িত্ব পালন করেছে। শান্তির ধর্ম ইসলামও তাই বলে।
প্রগ্রামটি আরও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হতে পারত।
বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক এবং বতর্মানে ধর্মভিত্তিক সরকারের দেশ ভারত। আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশি। আমাদের স্বাধীনতা লাভের পিছনে যে দেশের অবদান ছিল অনেক। সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর এদেশ সফরের বিরোধীতা করল কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক একটি ধর্মীয় প্লাটফর্ম। সরকারি এবং ব্যাক্তিগত সম্পদ ধ্বংস করা হলো। প্রাণহানী ঘটল। ঐ প্লাটফর্মকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে তাঁদের শিক্ষা সনদের অনুমোদন দিয়েছে বর্তমান সরকার।
কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের এমনভাবে মোটিভেট করা হয়ে যে, ইসলাম রক্ষার নামে মৃত্যু বা শহীদ হলে জান্নাত নিশ্চিত।
কিন্তু জান্নাতের ফয়সালা দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ্।
তাঁদের অভিযোগ জনাব মোদির হাতে ভারতে মুসলিমরা নির্যাতিত। ভারতে ১২০ কোটি মানুষের মধ্যে ২০ কোটি মুসলমান। সংখ্যা লঘু কিন্তু বাংলাদেশের দেশের থেকে বেশি। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সংখ্যা লঘুরা কমবেশি নির্যাতিত। বাংলাদেশও। কয়েকদিন আগে সুনামগঞ্জের শাল্লায় এ রকম ঘটনা ঘটল।
হ্যাঁ মোদির আমলে ভারতের কাশ্মীরের মুসলমানরা অপমানিত হয়েছে। বৃটিশদের মধ্যস্থায় বিশেষ মর্যাদা প্রদানের শর্তে কাশ্মীর ভারতের সাথে যায়। ঐ বিশেষ মর্যাদা ভারতের সংবিধানে ৩৭০ ধারা নামে লিপিবদ্ধ ছিল। যা বাতিল করে কাশ্মীরীদের এতদিনের মর্যাদা খর্ব করা হয়েছে। ভারত বলছে এটি তাঁদের অভ্যন্তরীন বিষয়। পাকিস্তান বাদে বহির্বিশ্ব তাই মনে করেছে। তুরস্ক হালকা বিপক্ষে বলেছে। এ টুকুই। সারা মুসলিম বিশ্ব এ বিষয়ে জাতিসংঘে একটি নিন্দা প্রস্তাব আনতে পারনি।
বাবরী মসজিদের বিয়য়টি মুসলিমদের জন্য সন্মানের হয়নি। সংখ্যা গড়িষ্ঠতা ও আইনের মাধ্যমে ভারত এটিকে নিস্পত্তি করেছে।
আমরা ১৭ কোটি মুসলমান ভারতের ২০ কোটি মুসলমানের জন্য বুকভরা ভালোবাসা দেখিয়ে বললাম তোমারা ও দেশে ভালো নেই। ও দেশে থেকো না। সবাই আমাদের দেশে চলে আসো। কিন্তু এটা কি বাস্তবে সম্ভব? অবশ্যই না। রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিশ্বের অন্য কোনো মুসলিম দেশ আশ্রয় দিচ্ছে না।
জনাব নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর না করলেই কি ভারতের ২০ কোটি মুসলমানের জীবন যাত্রায় বিরাট কোনো পরিবর্তন আসত? অবশ্যই না।
এ দেশ থেকে কোনো হিন্দু ভাইবোনেরা ভারতে যেয়ে থাকলে তা ইচ্ছেকৃত। নির্যাতনে নয়।
কিভাবে আমরা ভারতের মুসলমানদের নির্যাতন থেকে রক্ষা করবো। সে শক্তি কি আমাদের আছে? বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ। এ দেশের মুসলমানগণ বহুভাগে, বহু ফিরকায়, বহু তরিকায় বা মতাদর্শে বিভক্ত।
তবে একটি বিষয় লক্ষ্য করলাম, সরকার যখন ঈদে-মিলাদুন নবীকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করল তখন সব মতাদর্শের মুসলমানই গ্রহণ করল। যদিও এটি ভারতের ব্রেলভি বা রিজভী মতবাদের মুসলিমদের একটি বড় উৎসব। বাংলাদেশে মোহাম্মদপুর থেকে এ মতবাদের মুসলিম ভাইয়েরা জশনে জলুশ নামে শোভাযাত্রা বের করেন।
বিশ্বের মুসলমানরাও বহুভাগে, বহু মতাদর্শে, বহু ফিরকায় বিভক্ত এবং যুদ্ধে লিপ্ত। সবাই নিজ নিজ মতাদর্শ বা ফিরকাকে সঠিক মনে করে। কেউ সমঝোতা চায় না। যেমন বর্তমানে ইয়েমেনে ইরান এবং হিজবুল্লাহ সমর্থিত শিয়া পন্থী হুতি বিদ্রোহিরা সৌদি সমর্থিত সুন্নী সরকারকে হটিয়ে রাজধানী সানা সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে সরকার গঠন করে সৌদির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। হুতিদের ড্রোন হামলায় সৌদি ক্ষতিগ্রস্ত। ইয়েমেনের যুদ্ধ থেকে সৌদি আরবের পিছিয়ে আসার সুযোগ কম। কারণ ইরান ইয়েমেনের মাধ্যমে সৌদির ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ। তুরস্ক কুর্দি মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। আর অন্যরা অস্ত্র বিক্রি করছে।
ভারত বর্ষে ইসলাম প্রচারের পূর্বে বাঙ্গালীদের পূর্বপুরূষ ছিলেন হিন্দু মতের আর্য অথবা দ্রাবিড়রা।
ছোট বেলায় যখন বুঝতে শুরু করি তখন দাদার কাছে শুনলাম আমরা সুন্নী মুসলমান। তো ঠিক আছে। খেলাফায়ে রাসেদিন বা ৪ খলিফার অন্যতম হযরত আলী রাঃ, মা ফাতিমা রাঃ কে আদবের সাথে শ্রদ্ধা, ওয়াজ-মাহফিলে কারবালার কাহিনি, ইমাম হাসান -হোসাইনের কাহিনি শুনে চোখের পানিতে বুক ভাসাতাম।
পরে জানলাম শিয়ায়ে আলী বা আলী রাঃ এর অনুসারীরাই মুসলিম (শিয়া) বা আহলে বাইয়াত। আমরা সুন্নীরা হযরত আলী রাঃ, মা ফাতিমা রাঃ, ইমাম হাসান -হোসাইন, ইমাম মেহেদি (শিয়াদের ১২তম বা শেষ ইমাম) মানি কিন্তু আকিদাগত কারণে শিয়াদের মানি না। শিয়া পন্থি ইরান বিশ্বে প্রভাবশালী। লেবাবন, সিরিয়া, তুরস্ক সহ অনেক দেশে শিয়ারা প্রভাবশালী। কিন্তু তাঁরা সুন্নীদের বিরোধী। আমরা কি কখনও অভিন্ন আদর্শে আসতে পারবো না।
ঈদ -উল ফিতরের ঈদ উদযাপনের শর্ত হলো শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা দিলে ঈদের নামাজ হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাঁদ দেখে ঘোষণা দিয়ে থাকে। এরপরও দেখি সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো কোনো এলাকায় ১ দিন আগে ও কোনো এলাকায় ১ দিন পরে ঈদের নামাজ হয়। কিছু মানুষের ঈদের দিনে রোজা রাখা হয় যা বিব্রতকর।
ছোট একটি দেশ বংলাদেশ। এমনতো নয় ভৌগলিক অবস্থানের কারণে দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ একদিন আগে বা একদিন পরে দেখা যায়।
সরকার তথা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছে আমাদের আবেদন সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে যারা ১ দিন আগে ঈদ উদযাপন করে তাদের সাথে ইসলামি স্কলারদের নিয়ে আলোচনা করুন। প্রধান ৪ মাযহাবের স্কলারদের ডাকুন। যদি তাদের মত সঠিক প্রমাণিত হয় তবে মেনে নিন। আর যদি সঠিক না হয় তবে সরকারি সিদ্ধান্ত মানতে বলুন। সরকারি সিদ্ধান্ত না মানা আইনসম্মত নয়।
বিভক্তির ঈদ উদযাপন নয়। আমাদের সাধারণ মানুষের চাওয়া এক দেশে একই দিনে ঈদ উদযাপন করা। ঈদ সামনে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com