বঙ্গবন্ধু উল্লাপাড়ার জয়নাল কে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও রাষ্ট্র দেয়নি
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া)
২৪-০৩-২০২১ ০৬:০৫ অপরাহ্ন
|
|
বঙ্গবন্ধু উল্লাপাড়ার জয়নাল কে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও রাষ্ট্র দেয়নি
স্বাধীনতার পর ৪ যুগ পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি পায়নি জয়নাল আবেদীনের পরিবার। মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা দিতে গিয়ে পাক বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন জয়নাল আবেদীন। ’৭১ সালে ২৪ এপ্রিল পাক হানাদারদের সঙ্গে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ঘাটিনা রেলসেতুতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধটি সিরাজগঞ্জের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ হিসেবে স্বীকৃত। উল্লাপাড়ার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের চর কালিগঞ্জ গ্রামের নেজার আলী আকন্দের ছেলে জয়নাল আবেদীন ’৭১এ তার বয়স ছিল ১৯ বছর। প্রতিরোধ যুদ্ধে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে জয়নাল মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করতে ঘাটিনা রেল সেতু এলাকায় গিয়েছিলেন। যুদ্ধ চলাকালে পাকবাহিনীর ছোঁড়া গুলিতে নিহত হন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত সমবেদনাপত্র নিয়ে আজও বেঁচে আছে এই পরিবারের লোকজন।
নিহত জয়নাল আবেদীনের ছোট ভাই আইনুল হক জানান, ’৭১ এর ২৪ এপ্রিল বেলা ৩টার দিকে উল্লাপাড়ার ঘাটিনা রেল সেতুতে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাক বাহিনীর প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়। তার ভাই জয়নাল আবেদীন মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা দিতে গিয়ে ওই দিন যুদ্ধে রেলসেতুর পূর্বপাশের মাঠে পাকসেনাদের ছোঁড়া গুলিতে নিহত হন। দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশে ফিরে এসে ’১৯৭৩ সালের ২৮ মে তারিখে নিহত জয়নাল আবেদীনের বাবা নেজার আলী আকন্দকে সমবেদনা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে বঙ্গবন্ধু নেজার আলীর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তাঁর দেওয়া ওই চিঠির সঙ্গে তদানীন্তন সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রশাসকের মাধ্যমে জয়নাল আবেদীনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে ২ হাজার টাকার একটি চেকও (সি,এ ০৩১১৪৬, তারিখ- ২৩-০৫-১৯৭৩) প্রদান করা হয়। এরপর থেকে নেজার আলী আকন্দ তার পরিবারকে শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর সময় পার হলেও আজও সে দাবি পূরণ হয়নি। কয়েকবছর আগে বার্ধক্যজনিত কারণে অল্পদিনের ব্যবধানে নেজার আলী এবং তার স্ত্রী দু’জনই মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজের স্বাক্ষরিত ওই সমবেদনাপত্রটি মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরিবারের অন্যান্য স্বীকৃতি হিসেবে তারা সংরক্ষণ করে আসছেন। বঙ্গবন্ধুর এই চিঠিটি এখন একদিকে যেমন তাদের পরিবারের স্মৃতি পাশাপাশি তার ভাইয়ের অবদানের প্রতিক হিসেবে তারা আত্মতৃপ্তি লাভ করে আসছেন। আয়নুল হক বর্তমান সরকারের প্রতি তার পরিবারকে শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ২৪-০৩-২০২১ ০৬:০৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 378 বার দেখা হয়েছে।
পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ