শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারিকরণ এখন সময়ের দাবী
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:০৬ অপরাহ্ন

  

শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারিকরণ এখন সময়ের দাবী

আব্দুল জলিল
২৮-০২-২০২১ ০৯:০৭ অপরাহ্ন
শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারিকরণ এখন সময়ের দাবী

আজ কেন জানি সেই ইংরেজ লেখকের কথা বেশি করে মনে পড়ছে। তিনি কত আগেই একটা সত্যি উপলব্ধি করতে পেরে বলেছিলেন, অনেক সম্পদেও চেয়ে একটি নাম অনেক বেশি মূল্যবান। ছাত্রাবস্থায়ই নামকরণের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে এই কোটেশনটি লেখেননি এমন ছাত্র খুঁজে পাওয়া ভার। অথচ তখনও কি জানতাম এই সত্য বাস্তব জীবনে এমন পয়মন্ত হয়ে ধরা দেবে। কে জানত এই দেশে নামের মহিমায় কত অচ্ছুত কিছু সোনায় পরিনত হয়। অবশ্য যখন এটা জানলাম তখন এই সোনার প্রদীপের আলো থেকে আমি অনেক বেশি দূরে।

এখন স্মৃতির ভারে জর্জরিত বিষন্ন মন সেই নাম চেরাগের মাহাত্ম সম্পর্কে আলোচনার সাথে অজানা এক শঙ্কায়  মিছেই শঙ্কিত। এক আজব  তেলেসমাতি। একেই বলে ভাগ্যে সাথে নামের মহা সম্মিলন। প্রখ্যাত লেখক কিষন চন্দরের‘ আমি গাধা বলছি’ বইয়ের সেই সৌভাগ্যের  গাধাটার কথা আজ কেন জানি বেশি করে মনে পড়ছে। ইস! কি যে ভাগ্য নিয়ে ওর জন্ম। অথবা সেই মাহেন্দ্রক্ষণ; যখন আমাদেরই কোন সহকর্মি সেই মহিমান্বিত নামের মাজেজাকে আগেই বুঝতে পেরে  সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে কাজে যোগ দিয়েছেন।

নাদান, নাখান্দা এই অসংখ্য আমরা কেন যে সেই মাহাত্ম আগে বুঝতে পারি নাই। তা না হলে এদেশের কত প্রতিষ্ঠান কত আগে প্রতিষ্ঠালাভ করে  কত জজ-ব্যারিষ্টার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এমপি-মন্ত্রী, সরকারি ও দরকারি আমলা বানিয়েছেন। অথচ সেই শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজও সেই অসরকারিই রয়ে গেছে। আর আমার এক জনৈক স্যার (নামটা বলা গেল না) এখনও তার যোগদানের পদেই অর্থাৎ প্রভাষকই (নাকি প্রভা শক) রয়ে গেছেন। আর তার নাতির বয়সের শিক্ষকও এখন সহকারি অধ্যাপক পদে অধিষ্টিত। আহারে  কালা কানুন! তোর নুন যে এতো তেতো তা কি আগে কেউ জানতো! এই প্রভাষকগণ শক খেতে খেতে এখন দিন গুনছেন শেষ পিরিয়ডের ঘন্টা বাজার।

আজীবন তারা নামের মাহাত্ম না বুঝে নানা নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেবার কারণেই আজ তাদের জীবনে এই শাস্তি। এই শাস্তি তাদের পেতেই হবে। কারণ তারা জ্ঞানার্জন করেছে আর এই টুকু বুঝতে পারেনি  কোন নামের প্রতিষ্ঠানে তাদের উন্নয়নের প্রাণভোমরা বাস করে। মর ব্যাটা মহা জ্ঞানীর ছানারা! মরবিনা! এতো শিখেছ আর নাম সংকীর্তন জানবে না তা কি হয়! এ তোমাদের ন্যায্য শাস্তি! শুধুমাত্র একটা স্থানে পিছিয়ে থাকার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটোতেই থাকো তোমরা আজীবন  অসরকারি ও অদরকারি ( কোন ক্ষেত্রে বেশ দরকারি, যেমন ভোট নেয়া, কেটে দেয়া, আদম শুমারি)।

  খুলেই বলা যাক। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করেছে দেশের বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারিকরণ করার।  বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদের অঙ্গীকারনামাতেই একটা বিষয় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে- অন্তত প্রতিটি উপজেলার একটি কলেজ ও একটি হাই স্কুল সরকারিকরণ করা হবে। এই কথাটি প্রতিটি সরকারি স্কুল-কলেজ বিহীন উপজেলাগুলোর শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মানুষের ভাল লাগার কথা। সীমিত সম্পদের মধ্যেও মহানুভব প্রধানমন্ত্রি শিক্ষার অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করছেন। কিন্তু আমরা যে নালায়েক কমবখত আমজনতা। এখনো কবে সরকারি হবে স্বপ্নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেই স্বপ্নের এখনো মধ্যরাত চলছে।

আবারো ক্ষমতায় আমাদের জননেত্রী। এবার কষে একটা স্বপ্ন দেখবো বলে খাঁটি সরিষার তেল খুঁজছি। এরই মধ্যে ভাতিজা রহিম এসে কানের কাছে এক সুর শোনালো। সেই সুর শুনে অজানা আনন্দে (না আতঙ্কে) মনটা আবার কেমন ভেতর থেকে মোচড় খেয়ে উঠলো। এখনো প্রতিশ্রুত সেই দরকারি কথার সরকারিকরণের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অথচ এরই মধ্যে বিশেষ কারণের দোহাই দিয়ে কোন বাছ বিচার না করে বেশকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারির বে ব্যাটাকে তীব্র ব্যঙ্গেও ধূম তুলে তাড়িয়ে অনেক দরকারি করার প্রয়াস চলছে। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও এর ঘোষণা দেবার জন্য বহুতি এন্তেজার চলছে। অনেকে এরই মধ্যে পাল্টে ফেলেছেন আচার-আচরণ।

বাবারে! সরকারি বলে কথা! হা-হা-হা আমি এখন সরকারি সব কাজেই এখন দরকারি! প্রশ্ন হচ্ছে এই কর্মকান্ডের মাধ্যমে মেঘ না চাইতেই যারা ঝর্ণার জলে অবগাহনের নিমিত্ত নিজেদেরকে পাল্টে নিচ্ছে ভাবে, ভঙ্গিমায়, কথা-বার্তায়, পোশাকে-আশাকে, নীতি-নৈতিকতায়; মুষ্টিমেয় তাদের এই সুবিধের কারণে দেশের অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের আশাহতের বেদনায় নীল হবার পথে ঠেলে দেয়া হচ্ছে নয়তো? রাজনৈতিক বিবেচনায় সুবিধে পাওয়া মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠানের জন্য এতবড় সুবিধা বিবেচনায় আনার আগে সরকারের আগের প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা ভাবলে কি হতোনা? আর যার নাম সারা বাংলার মানুষের মনের মণিকোঠায় তার নামকে এভাবে দু’একটি প্রতিষ্ঠানের সরকারিকরণ কাজের মাধ্যমে কি বিতর্কিত করা হচ্ছে না? এমন অনেক উপজেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যাদের শিক্ষার্থি, ফলাফল, ঐতিহ্য, ইতিহাস, সম্পদ সবকিছুতেই সমৃদ্ধশালী।

এমনও প্রতিষ্ঠান আছে যার নিজস্ব আয় দ্বারা দুটো প্রতিষ্ঠনকে সরকারি করা সম্ভব। এসব কিছু বিবেচনায় আনা যেত নয় কি? আর এই সিদ্ধান্তের কারণে এমনও উপজেলা আছে যেখানে একাধিক সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলো নানা কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে তেমন অবদান রাখতে পারছে না। তাদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষাপোযোগী করা যেতে পারে। সেখানে নতুন করে আরো প্রতিষ্ঠান এই সুযোগের আওতায় আনলে  শিক্ষার কি উন্নতি কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছাবে? সরকার এখনো পর্যন্ত শিক্ষকদের আলাদা বেতন স্কেল প্রদানের ঘোষনাকেই বাস্তবায়িত করতে পারছেনা, অথচ সব কিছুকে পাশ কাটিয়ে নতুন করে সরকারিকরণের এই বাড়াবাড়িটা না করলেই কি নয়? এই বাড়াবাড়ির পর্যায়ে এমন কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো প্রতিষ্ঠার বয়স পনের কি ষোল।

অথচ শত বছরের পুরণো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান যেগুলোকে অনেক আগেই সরকারি করা উচিত ছিল সেগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনি করে জাতির পিতার নামকে নতুন করে নাইবা ব্যবহার করা হোক। তিনি তো শুধু একটা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পদ নয়। তিনিতো দেশের আপামর জনগণের। এই কথা এজন্য বলছি যখন বিষয়টি নিয়ে এমন কথা চাউর হচ্ছে একটা দীর্ঘনিশ্বাসের সাথে আহারে! আমাদের প্রতিষ্ঠানটি যদি বঙ্গবন্ধুর নামে হতো। অনেকে এ প্রশ্নও তুলতে শুরু করেছে এভাবে বঙ্গবন্ধুকে কিছু প্রতিষ্ঠানের মাঝে সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে নয় কি?           


আব্দুল জলিল ২৮-০২-২০২১ ০৯:০৭ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 852 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com