আশ্বাসে কেটেছে এক যুগ শেষ হয়নি উধুনিয়ার মানুষের জনদূর্ভোগ
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০৮ অপরাহ্ন

  

আশ্বাসে কেটেছে এক যুগ শেষ হয়নি উধুনিয়ার মানুষের জনদূর্ভোগ

রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া)
২৮-০২-২০২১ ০৬:১৯ অপরাহ্ন
আশ্বাসে কেটেছে এক যুগ শেষ হয়নি উধুনিয়ার মানুষের জনদূর্ভোগ

 রাস্তা নয় আশ্বাসে কেটেছে কয়েক যুগ। বারবার বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সড়ক বিভাগ আশ্বাস দিলেও এখনো শেষ হয়নি জনদূর্ভোগ। রাস্তা নির্মানের জন্য জনপ্রতিনিধি ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙ্গাশী ইউনিয়নের বাংলাপাড়া থেকে উধুনিয়া বাজার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা জনদুর্ভোগ চরমে। চলনবিল অধ্যাুষিত এই রাস্তাটি প্রায় ১ যুগ আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগ তৈরি করেছিলেন ।

কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা নির্মাণ করায় বর্ষা মৌসুমে চলনবিলের প্রবাল ঢেউয়ে রাস্তাটি ভেঙ্গে গেছে। রাস্তাটি ধ্বসে যাওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। বর্তমানে এই পথে যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। পায়ে হাঁটাও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এমন বেহাল দশায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৯ সালে স্থানীয় উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের সহযোগিতায় সড়কটি সংস্কার করা হয়েছি। কিন্তু ঢেউয়ের আঘাত থেকে রাস্তা সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পরিকল্পনা না থাকায় পরবর্তীতে ২০২০ সালের বন্যায় এই সড়কটি ভেঙ্গে গেছে। ফলে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। সড়কটি সংস্কারে জন্য সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম নতুনভাবে উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। আন্তঃ উপজেলা সংযোগ সড়ক হিসেবে নির্মিত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ দিয়ে পার্শ্ববর্তী পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার লক্ষাধিক লোকজন চলাচল করে থাকেন।

একই সঙ্গে ওই সব এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য ও মালামাল এই সড়কের পরিবহন করা হয়। মূল সকড়টি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় রাস্তার দুই পাশ দিয়ে বিকল্প পথ হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনভাবে চলাচল করছেন এলাকার লোকজন। খানাখন্দের কারণে প্রতিদিনই এই সড়কে চলাচল মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটছে। প্রায় ৮ বছর পূর্বে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শ করে রাস্তাটি নির্মাণে সওজ বিভাগ কে নির্দেশ দিলেও তা কাজে আসেনি। সড়কটি নির্মাণে সওজ বিভাগ এখন পর্যন্ত কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিমের সাথে কথা হলে তিনি জানান", এই রাস্তাটি ৩টি উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষ উল্লিখিত পথে চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া থেকে উল্লাপাড়া হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। রাস্তাটির বর্তমান যে বেহাল দশা তাতে বিশেষ করে গুরুতর রোগী বা অন্তঃসত্তা মহিলাদের হাসপাতালে পাঠানো দুরুহ হয়ে পড়েছে।

ফলে যথাসময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় অনেকেরই রাস্তার মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে। বর্তমানে রাস্তার উপর এখন এক হাঁটু ধুলা। ফলে হালকা যানবাহনগুলো এখন এই পথে চলাচল করতে গিয়ে বার বার দুর্ঘটনায় প্রতিত হচ্ছে। আর এতে আহত হচ্ছেন লোকজন। তারা আরো জানান, তারা এই রাস্তা দিয়ে কৃষি পণ্য সহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করতেন। এলাকাবাসী রাস্তাটি সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল জলিল জানান, উক্ত আঞ্চলিক সড়কের বাংলাপাড়া থেকে উধুনিয়া বাজার পর্যন্ত অংশের বেহাল অবস্থার কথা তিনি জানেন। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য তিনি নির্বাচিত হবার পর থেকে প্রায় ৫ বছর ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি তার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে দুভোর্গের শেষ হয়নি স্থানীয় বাসিন্দাদের। এখানকার জনগনের জনমনে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামানিকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বাংলাপাড়া থেকে উধুনিয়া বাজার পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার ভেঙ্গে যাওয়া অংশ নতুন করে তৈরি করার সময় পুরো অংশের উভয় পাশে ঢালে আরসিসি ব্লক ম্যাট্রেসিং করা প্রয়োজন। তা না করে রাস্তা সংস্কার করলে সেটা চলনবিলের ঢেউয়ের আঘাতে কখনই টিকবেনা। তিনি আরো বলেন, এই সড়কের ৩ কিলোমিটার অংশ আরসিসি ব্লক ম্যাট্রেসিংসহ একটি নির্মাণ প্রকল্প প্রণনয়ন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে এই সড়ক তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ২৮-০২-২০২১ ০৬:১৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 611 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com