শিরোনামঃ
আব্দুল জলিল ১৫-০২-২০২১ ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন |
আবদুল জলিলঃ কোন পথে চলছে বাংলাদেশের টেস্ট লেখার ভবিষ্যৎ, বোধ করি এ প্রশ্ন পাড়ার ছোট্ট ছেলেটিরও। ২০০০ সাল থেকে টেস্ট খেলা একটি দল এখনও যেভাবে ব্যাটিং করে তাকে তো লক্ষহীন বললে ভুল হবে না। বিশেষত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে যে ব্যাটিং এর নমুনা দেখা গেছে তাতে করে যেকেউ এটিকে টেস্টের ব্যাটিং হিসেবে মেনে নেবে না। কি সিনিয়র আর কি জুনিয়র, সবাই একই খুরে মাথা কামিয়েছে। তাদের শরীরী ভাষা দেখে মনে হয়েছে খেলতে হচ্ছে তাই খেলছি। দলের ক্যাপটেন মুমিনুল তো আরও সরেস। তিনি কি লক্ষ নিয়ে নিজে ব্যাটিং করলেন সেটাই একটি বিরাট প্রশ্ন হয়ে রয়েছে। আর দলের অন্যদের উনি কি পরামর্শ দেবেন। তামিম খেললেন ওয়ানডে নয়, টি টোয়েন্টি। নাজমুল শান্ত, সৌম্য, মিথুন এই তিনজনকে তো স্টোয়াডেই রাখার কথা না। তারা আসলে টেস্ট খেলার মর্মই বোঝেই না।মুশফিকের মধ্যে মনে হয়েছে একটা অভিমান কাজ করেছে। সেটা অধিনায়ক না পাওয়া , নাকি কিপিং না করতে পারা আশা করি টিম ম্যানেজমেন্টর প্রধান আলোচনা করে জেনে নেবেন।
তবে মোর্দা কথা হচ্ছে এইভাবে চলতে দেয়া যায়না। সদ্য সমাপ্ত এই টেস্ট স্কোয়াডের শুধু খেলোয়ার নয়, কোচ, কর্মকর্তা, ম্যানেজার, সিলেক্টর সবাইকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। কেন আমরা বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের মুখ থেকে শুনি‘ আমি বলেছিলাম মাহমুদুল্লাহকে নিতে (সাকিবের পরিবর্তে) আর ওরা নিলো সৌম্যকে।’ এই যদি হয় অবস্বথা তাহলে হয় সঠিক জবাবদিহির দরকার, না হয় স্বেচ্ছায় টেস্ট খেলা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। কারণ অপমান সইতে সইতে এখন এমন হয়েছে যে কালকের আফগানিস্তান আমাদের ঘরের মাঠে অনায়াসে হারিয়ে দিয়ে যায়। আর যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে নিয়ে অধিনায়ক মুমিনুলের গোস্যা ছিলো, সেই দলটিও কিভাবে আমাদের হোয়াইটওয়াশ করে দিলো।
এসব কারণেই এবার চটেছেন বিসিবির প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। আফগানিস্তানের কাছে দেশের মাটিতে হারের পর নীরব ছিলেন তিনি। তবে এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টেস্ট সিরিজে বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান এমন সরব হলেন যে রীতিমতো অগ্নিমূর্তি ধারণ করলেন। রবিবার(১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতেই তাঁর কণ্ঠে রাগ-ক্ষোভ-হতাশার বিস্ফোরণ।একের পর এক তিনি তুলে ধরলেন নানা বিভাগের ব্যর্থতার বিষয়গুলো।
স্পিন উইকেট ও পাঁচজন পেসার প্রসঙ্গে
আফগানিস্তান সিরিজ থেকে শুরু হয়েছে স্পিন উইকেট, স্পিন উইকেট, স্পিন উইকেট। একটা সময় ছিল আমাদের ভালো পেসার ছিল না, কিন্তু এখন আমাদের অনেকগুলো পেসার। এতজন থাকতে আমি পেসার খেলাব না? পাঁচজনকে নিয়ে একটা অলরাউন্ডার নেওয়ার জায়গা বন্ধ করে দিয়েছে। এত পেসার নিয়ে খেলাচ্ছি না কেন?
ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচ নিয়ে প্রশ্ন তুলে
যা হওয়া উচিত, সেটি হচ্ছে না। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ও শীর্ষ ব্যাটসম্যান যাঁরা নামকরা ও বিশ্বমানের, তাঁদেরকে কি এখন বলে দিতে হবে যে টেস্টে কিভাবে ব্যাটিং করতে হবে? এগুলো তো বলে দেওয়ার কথা না।
যেভাবে সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন
সমাধান খুবই সহজ, সমাধান হবে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। আমি আফগানিস্তানের (কাছে হারের) পরে বেশি কিছু বলতে চাইনি, কিন্তু আজকে আমি আপনাদের বললাম, এটা অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। যেভাবেই হোক।
ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান নিয়ে
এগুলো আপনারা সময় এলে সব জানতে পারবেন। কিন্তু আমাকে আগে জানতে হবে এখানে কী ঘটছে। ওরা কী কৌশল নিয়েছিল বা কী পরিকল্পনা করেছিল। এগুলো আগে জানতে হবে। ওই সিরিজের সময় (আফগানিস্তান) আমি ছিলাম না, কিন্তু এবার ছিলাম। কিন্তু ওদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারিনি (জৈব সুরক্ষা বলয়ের জন্য)। এক দিন জুম মিটিংয়ে পুরো দলের সঙ্গে কথা হয়েছিল, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।
সমস্যা আছে স্বীকার করে
এটি আমাকে জানতে হবে। সমস্যা সব জায়গায় আছে, এটি তো স্বীকারই করে নিচ্ছি। দুটি টেস্ট সিরিজ দেখে বুঝেছি, সমস্যা তো আছেই। একটি দেখে কিছু বলতে পারিনি তেমন। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাদের পুরো পরিকল্পনা (ভুল ছিল)। একটি ব্যাপারে কোনো সন্দেহই নেই যে আমাদের বোলারদের মধ্যে পেসাররা স্পিনারদের চেয়ে ভালো।
জবাবদিহি চাওয়া হবে জানিয়ে
(একাদশে) বদল আনা হয়, কিন্তু খেলানো তো হয় না। দলে পাঁচ পেসার। চট্টগ্রামে খেলার কথা ছিল, খেলেনি। এখানেও অন্তত দুজন খেলবে বলে আমাকে নিশ্চিত করেছিল। খেলেনি কেন? আমাকে বলা হচ্ছে খেলবে, পরে তো দেখি নামছে না। অধিনায়ক আর কোচই (সিদ্ধান্ত নিচ্ছে)। এখানে আমরা কেউ নেই তো আর। শুধু অধিনায়ক আর কোচ নয়, অবশ্যই সবার কাছেই জবাবদিহি চাইব।
সাকিব আল হাসানের রিপ্লেসমেন্ট প্রসঙ্গে
যখন শুনলাম সাকিব ইনজুরিতে, তখন এক এক করে অনেক নাম বলা হয়েছে। ওখানে অনেকেই ছিল। আমি ওদেরকে চার-পাঁচটি বিকল্প দিয়েছিলাম। মাহমুদ উল্লাহ ছিল নাম্বার ওয়ান। তারপর মোসাদ্দেক, শেখ মেহেদী এবং চতুর্থ বিকল্প ছিল সৌম্য। ওরা সৌম্যকে বাছাই করেছে।
চট্টগ্রাম টেস্ট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে
৪০০ করে (চট্টগ্রামে) প্রথম ইনিংসে আমরা ১৭১ রানের লিড নেই। দেশের মাটিতে সেই ম্যাচও আমরা ধরে রাখতে পারি না। এখানে অনেক বড় সমস্যা। আবার এমনও নয় যে প্রতিপক্ষ স্পিনে খুব অভিজ্ঞ। মোটামুটি নতুন একটি দলের বিপক্ষেই খেলেছি আমরা।
ঢাকা টেস্টের ব্যাটিং নিয়ে
একটা না, এখানে অনেক সমস্যা। প্রথম ইনিংস দেখে মনে হয়েছে, আমরা ম্যাচটি ছেড়ে দিচ্ছি। আমাকে জিজ্ঞেস করলে বলব, আমরা যেভাবে উইকেট দিয়ে এসেছি, এটি আমি কোনো দলে দেখিনি। কোনো দলকে দেখিনি, টেস্ট খেলতে গিয়ে একাধিক খেলোয়াড় বারবার এই রকম করে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসছে। আফগানিস্তান সিরিজের সময় দেশে ছিলাম না। এবার নিজের চোখে দেখলাম। শুনতে খারাপ লাগবে হয়তো, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে কোনো কিছুই ঠিক হয়নি। মিরাজের টেস্ট সেঞ্চুরিটা বাদ দিন। এই টেস্টেও যা পারফরম্যান্স, এ ছাড়া আর রান কোথায়? আমি তো কোনো রান দেখছি না।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com