শিরোনামঃ
করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ৩০-০১-২০২১ ০৪:৫২ অপরাহ্ন |
বেলকুচি থানায় সিরাজউদ্দিন চৌধুরী নামক এক ভূস্বামী (জমিদার) ছিলেন। তিনি তাঁর নিজ মহালে একটি ‘গঞ্জ’ স্থাপন করেন। তাঁর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় সিরাজগঞ্জ। কিন্তু এটা ততটা প্রসিদ্ধি লাভ করেনি। যমুনা নদীর ভাঙ্গনের ফলে ক্রমে তা নদীগর্ভে বিলীন হয় এবং ক্রমশঃ উত্তর দিকে সরে আসে। সে সময় সিরাজউদ্দীন চৌধুরী ১৮০৯ সালের দিকে খয়রাতি মহল রূপে জমিদারী সেরেস্তায় লিখিত ভুতের দিয়ার মৌজা নিলামে খরিদ করেন। তিনি এই স্থানটিকে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রধান স্থানরূপে বিশেষ সহায়ক মনে করেন। এমন সময় তাঁর নামে নামকরণকৃত সিরাজগঞ্জ স্থানটি পুনঃ নদীভাঙ্গণে বিলীণ হয়। তিনি ভুতের দিয়ার মৌজাকেই নতুনভাবে ‘সিরাজগঞ্জ’ নামে নামকরণ করেন। ফলে ভুতের দিয়ার মৌজাই ‘সিরাজগঞ্জ’ নামে স্থায়ী রূপ লাভ করে।
সিরাজগঞ্জ বৃটিশ আমলে ১৮৪৫ সালে ময়মনসিংহ জেলার একটি মহুকুমা রুপে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে যমুনা নদীর পথ পরিবর্তন হলে সিরাজগঞ্জ মহুকুমা পাবনা জেলার মহুকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ১৩৯ বছর পর ১৯৮৪ সালের ৩১শে জানুয়ারী থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা রুপে স্বমহিমায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। সিরাজগঞ্জ জেলার প্রথম জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন জনাব মোশারফ হোসাইন। তার মেয়াদকাল ছিলো ৩১শে জানুয়ারী ১৯৮৪ইং থেকে ২রা ফেব্রুয়ারী ১৯৮৬ইং পর্যন্ত।
রফিক শহীদ নামে সিরাজগঞ্জের একজন সন্তান আজ তার ফেসবুক দেয়া স্ট্যাটাসে সিরাজগঞ্জ জেলা হবার স্বীকৃতির ইতিহাস শেয়ার করেন। তিনি লেখেন-একটু পিছনে থেকে ঘুরে আসি। ১৯৮২ সাল। বিচারপতি সাত্তার এর নির্বাচিত সরকারকে রাতের অন্ধকারে বন্দুকের নলের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রীয় মসনদে আসীন হয় সামরিক বাহিনীর প্রধান লেঃজেঃ হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ। ক্ষমতা দখল করেই সে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বনে যান এবং জাতিকে উদ্ধার করার জন্য এবং নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বিভিন্ন মহুকুমাকে জেলায় রুপান্তর করতে থাকেন। যাতে দেশবাসী তাকে পছন্দ করে। সিরাজগঞ্জ সেই সময়ছিলো পাবনা জেলাধীন মহুকুমা। সেই সূত্র ধরে ১৯৮৪ সালের ৩০ জানুয়ারী সিরাজগঞ্জকে উপজেলা ঘোষনা করার কথা ছিলো এরশাদ সরকারের। কিন্তু সিরাজগঞ্জবাসী তা মানতে রাজী ছিলো না। আমাদের তখন একটাই দাবী সিরাজগঞ্জকে জেলা ঘোষনা করতে হবে। শুরু হয় আন্দোলন, মশাল মিছিল, হরতাল, অবরোধ সহ অন্যান্য কর্মসুচী। সেই ১৯৮৪ সালে আমি তখন ১১ বছরের বালক। শিশুও বলা যেতে পারে। হয়তো পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ি। সিরাজগঞ্জ জেলা ঘোষনার দিনটি এখনও আমার স্মৃতিতে বেশ তাজা হয়ে আছে। সেই আমি ১১ বছরের শিশু হিসেবে জেলা বা উপজেলা কি জিনিষ তা বোঝার বয়স আমার ছিলো না। তবু অনেকের মতো আমি সেই আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিয়ে ছিলাম। সেই আন্দোলনের একটি শ্লোগান বেশ জনপ্রিয় হয়েছিলো, সেটা হলো-
“এরশাদেক জুতা মারো,
সিরাজগঞ্জ জেলা করো”
সেই সময়ের সিরাজগঞ্জবাসীর সর্বাত্মক আন্দোলনের নিকট পরাজিত হয় উপজেলা করার ঘোষনা। ৩০ জানুয়ারীতেই সিরাজগঞ্জকে জেলা ঘোষনা করা হবে। এমনই সংবাদ পত্রিকাতে আসে। আন্দোলন থেমে যায়। মহুকুমা শহর সিরাজগঞ্জ-এ জেলা প্রশাসনিক ভবন তখন ছিলো না। ফলে শহরের মুজিব সড়কে এখন যেখানে মওলানা ভাসানী কলেজ সেখানেই ছিলো পুরাতন একটি ভবনে মহুকুমা প্রশাসকের অফিস সেখানেই অফিস করলেন সিরাজগঞ্জে প্রথম জেলা প্রশাসক জনাব মোশারফ হোসেন। তখন সার্কিট হাউস ও তৈরী হয়নি। তাই প্রথম জেলা প্রশাসকের বাস ভবন নির্ধারিত হলো পুরনো জেলখানার একটু পশ্চিমে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি ডাকবাংলো। যা এখন সেই আগের অবস্থাতেই আছে।
আমাদের সিরাজগঞ্জ কন্ঠের প্রতিনিধি এই তথ্যের সত্যতা জানতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট ভিজিট করে এবং সেখানে ৩১শে জানুয়ারী ১৯৮৪ সাল থেকে কর্তব্যরত সম্মানিত জেলা প্রশাসকদের নামের তালিকা দেখতে পান। এখন পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাবার পর মোট ১৮জন জেলা প্রশাসক সিরাজগঞ্জ জেলার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ডা. ফারুক আহাম্মদ সিরাজগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সিরাজগঞ্জ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাবার পর ইতিমধ্যে প্রথম শ্রেনীর জেলা হিসেবে উন্নীত হয়েছে এবং তাঁতশিল্পকে সিরাজগঞ্জ জেলার ব্যান্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মোট ৯টি উপজেলা নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা গঠিত হয়েছে। এগুলি হলো- বেলকুচি, কামারখন্দ, চৌহালি, কাজীপুর, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, তাড়াশ, এবং উল্লাপাড়া।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com