জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুষ্কারে হ্যাট্রিক পদক গ্রহণ করলেন অভিনেতা জাহিদ হাসান
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

  

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুষ্কারে হ্যাট্রিক পদক গ্রহণ করলেন অভিনেতা জাহিদ হাসান

করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ
১৮-০১-২০২১ ০২:৩৫ অপরাহ্ন
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুষ্কারে হ্যাট্রিক পদক গ্রহণ করলেন অভিনেতা জাহিদ হাসান

তৃতীয়বারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুষ্কার গ্রহণ করলেন সিরাজগঞ্জের সন্তান বাংলাদেশের গর্ব অভিনেতা জাহিদ হাসান। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর তথ্য মন্ত্রণালয় ২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করেন। ২৫টি ক্যাটাগরিতে মোট ৩১ জনকে সেখানে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। এ বছর তিনি থ্রিলার ঘরানার বাংলাদেশী চলচ্চিত্র "সাপলুডু" সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে এই পুরুষ্কার লাভ করেন। এর আগে তিনি ১৯৯৯ সালে হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত "শ্রাবণ মেঘের দিনে" সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এবং ২০১৭ সালে তৌকির আহমেদ পরিচালিত "হালদা" ছবিতে খল চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরুষ্কার লাভ করেন।

গতকাল ১৭ই জানুয়ারী (রবিবার) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান এবং তথ্যসচিব খাজা মিয়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদ হাসান ১৯৬৭ সালের ৪ অক্টোবর সিরাজগঞ্জে তার নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইলিয়াস উদ্দিন তালুকদার ছিলেন একজন কাস্টম কর্মকর্তা ও মা হামিদা বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে জাহিদ হাসান সবার ছোট। তিনি স্কাউটের সাথে যুক্ত ছিলেন। সেখানে তিনি অভিনয় করতেন। তিনি সিরাজগঞ্জ তরুণ সম্প্রদায় নাট্য দলে যোগ দেন এবং এই দলের সাথে উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন স্থানে মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন। সেসময় তিনি সাত পুরুষের ঋণ মঞ্চনাটকে নিয়মিত অভিনয় করেন। ১৯৮৪ সালে ১০ আগস্ট মঞ্চনাটকটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়।

১৯৮৬ সালে আবদুল লতিফ বাচ্চুর পরিচালনায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার যৌথ প্রযোজনারবলবান ছায়াছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে হাসানের বড় পর্দায় অভিষেক হয়। তিনি ১৯৯০ সালে টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করেন। এর পূর্বে তিনি ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অভিনয়ের অডিশন দেন। তার অভিনীত প্রথম টেলিভিশন নাটক জীবন যেমন । আলিমুজ্জামান দুলু প্রযোজিত নাটকটি ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। এই নাটকটি তার জীবনে রূপ পরিবর্তন করে দেয়। ১৯৯০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প সমাপ্তি অবলম্বনে নির্মিত সমাপ্তি টেলিফিল্মে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। নাটকটির চিত্রনাট্য রচনা করেছিলেন অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফা। হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত টেলিফিল্ম নক্ষত্রের রাত, মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন, সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড, আজ রবিবার তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে আসে।

এ বছর ২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) ও কোহিনুর আক্তার সুচন্দাকে এবছর আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো অন্যান্য বিভাগে যারা পুরুষ্কার লাভ করেন তারা হলেন- শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (যুগ্ম): ন ডরাই ও ফাগুন হাওয়ায়। শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র: নারী জীবন। শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র: যা ছিলো অন্ধকারে। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক: তানিম রহমান অংশু (ন ডরাই)। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী প্রধান চরিত্রে: সুনেরাহ বিনতে কামাল (ন ডরাই)। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা প্রধান চরিত্রে: তারিক আনাম খান (আবার বসন্ত)। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব চরিত্রে: নারগিস আক্তার (হোসনে আরা) (মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পার্শ্ব চরিত্রে: এম ফজলুর রহমান বাবু (ফাগুন হাওয়ায়)। শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী (যুগ্ম) নাইমুর রহমান আপন (কালো মেঘের ভেলা) ও আফরীন আক্তার (যদি একদিন)। শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক: মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ইমন (মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক: হাবিবুর রহমান (মনের মতো মানুষ পাইলাম না)। শ্রেষ্ঠ গায়ক: মৃণাল কান্তি দাস (তুমি চাইয়া দেখো...) (শাটল ট্রেন)। শ্রেষ্ঠ গায়িকা (যুগ্ম): মমতাজ বেগম (বাড়ির ওই পূর্বধারে...) (মায়া দ্য লস্ট মাদার) ও ফাতিমা-তুয-যাহরা ঐশী (মায়া, মায়া রে...) (মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ গীতিকার (যুগ্ম): নির্মলেন্দু গুণ (ইস্টিশনে জন্ম আমার...) (কালো মেঘের ভেলা) ও ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী (কবি কামাল চৌধুরী) (চল হে বন্ধু চল...) (মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ সুরকার (যুগ্ম): প্লাবন কোরেশী (আব্দুল কাদির) (বাড়ির ওই পূর্বধারে...) ও সৈয়দ মো. তানভীর তারেক (আমার মায়ের আঁচল...) (মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার: মাসুদ পথিক (মাসুদ রানা) (মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার: মাহবুব উর রহমান (ন ডরাই)। শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা: জাকির হোসেন রাজু (মনের মতো মানুষ পাইলাম না)। শ্রেষ্ঠ সম্পাদক: জুনায়েদ আহমদ হালিম (মায়া দ্য লস্ট মাদার)। শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক (যুগ্ম): মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বাসু ও মো. ফরিদ আহমেদ (মনের মতো মানুষ পাইলাম না)। শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক: সুমন কুমার সরকার (ন ডরাই)। শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক: রিপন নাথ (ন ডরাই)। শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজ-সজ্জা: খোন্দকার সাজিয়া আফরিন (ফাগুন হাওয়ায়) এবং শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান: মো. রাজু (মায়া দ্য লস্ট মাদার)।

 


করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ১৮-০১-২০২১ ০২:৩৫ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 629 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com