শিরোনামঃ
নিউজরুম ২১-১২-২০২০ ০৫:০৯ অপরাহ্ন |
প্রতিদিন ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ভাড়া বাবদ ব্যয় করছেন রাজশাহীর নগরবাসী। শুধুমাত্র মহানগরীর মধ্যে যাতায়াতইে এই খরচ। জেলার হিসেবে এই ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ। নগরীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে চলাচলের জন্য বিকল্প গণপরিবণ না থাকয় নগরবাসী অটোরিকশা ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কারো সাথে আলাপ আলোচনা ছাড়াই আগামী ১ জানুয়ারি থেকে অটোর ভাড়া বৃদ্ধি করে রুট ভেদে নতুন ভাড়ার তালিকা দিয়েছে রাজশাহী মহানগর ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক সমবায় সমিতি লি:।
এদিকে ব্যাটারিচালিত এইসব যানবাহনের পর্যাপ্ত ফিটনেসের অভাবসহ চালকদের অদক্ষতা ও অসচেতনতার কারণে নগরীতে যানজট এবং সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন অবস্থায় মহানগরীর কয়েকটি রুটে গণপরিবহণ হিসেবে বাস চালুর দাবি নগরবাসীর।
রাজশাহীর একাধিক নগরবাসীর সাথে কথা হলে তারা জানান, পদ্মা নদী তীরবর্তি ৯৭ দশমিক ১৭ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এলাকা। নগরীর এক প্রান্ত থেকে অরোক প্রান্তে অর্থাত স্বল্প দূরত্বে চলাচলের জন্য ব্যাক্তিগত যানবাহনের বাইরে এখনো প্রধান যানবাহন অটোরিকশা। আগামীতে সিটি এলাকার পরিধি আরো দ্বিগুণ করা হচ্ছে। তাই এই নগরীতে এখনই বিকল্প গণপরিহবণ হিসেবে বাস চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। যা এক সময় এই নগরীতে চালু ছিলো। তবে সে সময় নগরীতে মানুষের সংখ্যা কম ছিলো। এখন সেই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।
রাজশাহী নগরীর একাধিক অটোরিকশা চালক ও মালিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একজন চালক এখন গড়ে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা আয় করছেন। এই আয়ের মধ্যে মহাজনকে (অটোর মালিক) দিতে হয় ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা এবং বিদ্যুত চার্জে ব্যায় হয় ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। শতাংশের হিসেবে দৈনিক মোট অয়ের প্রায় ৩৪ শতাংশ যাচ্ছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা মালিকদের পকেটে; ৪১ শতাংশ যাচ্ছে চালকের সংসারে এবং অবশিষ্ট প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে অটোরিকশা চার্জসহ মেরামতে।
অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকসহ রাসিক এবং ট্রাফিক পুলিশের দেয়া তথ্য অনুসারে রাজশাহী শহরে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা সংখ্যা ২০ হাজার। এর বাইরে রয়েছে পায়ে ঠেলা চিকন অটোরিকশা। তবে সম্প্রতি রাসিক ও ট্রাফিক বিভাগ সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মোট ১৫ হাজার ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা অনুমোদন দিয়েছে (১০ হাজার অটো এবং ৫ হাজার রিকশা)।
বৈধ ১৫ হাজার অটোর চালকদের গড় আয় ৭৫০ টাকা ধরলে প্রতিদিন নগরবাসীকে শুধুমাত্র নগরীর মধ্যেই যাতায়ত বাবদ ব্যয় করতে হচ্ছে ১ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অবৈধ অটোরিকশাসহ হিসবে ধরলে এই অংক আরো বেশি দাঁড়াবে। মহানগরীতে চলাচলের জন্য বাস না থাকায় যাতায়াতের ভাড়া বাবদ বিপুল অংকের অর্থ প্রতিদিন খরচ করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
এদিকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাসিক ও ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে নগরীতে অটোরিকশা সংখ্যা নিয়ন্ত্রেণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও, এখন পর্যন্ত তারা এই যানবাহনগুলোর চালকদের প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যেকেউ রাসিকের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি এর বিনিময়ে চালক বনে যাচ্ছেন। এছাড়া অটোরিকশাগুলোর ফিটনেস নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। অধিকাংশ অটোরিকশা ব্রেক ঠিকমতো কাজ করে না। এমনকি রাতে চলাচলেরন জন্য লাইটসহ ডানে-বায়ে ঘোরার সিগনাল লাইট নেই। অটোর বডি বা কাভার ভাঙা।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডিসি অনির্বাণ চাকমা বলেন, রাসিক যে সংখ্যক অটোরিকশা অনুমোদন দেয়েছে এর বাইরেও অবৈধ ভাবে অতিরিক্ত কিছু চলাচল করছে। তবে ট্রাফিক বিভাগ তাদেরকে ধরছে ও জরিমানা করছে।
ট্রাফিক বিভাগের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রথম ধাপে অটোরিকশা সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর পর চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলক্ষে ট্রাফিক বিভাগের তরফ থেকে রাসিককে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। রাসিক যদি ট্রাফিক বিভাগকে একটা জায়গা দেয় তবে আমরা সেখানে আমাদের সার্জেন্ট বা জনবল দিয়ে চালকদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষন দিতে পারবো। সড়কে চলাচলের জন্য ফিট যানবাহনের সাথে চালকদের প্রশিক্ষণও জরুরী।
রাসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. নূর-ঈ-সাইদ জানান, অটোরিকশা ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠন রাসিকের সাথে যোগাযোগ করেনি। ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তাদেরকে জেলা প্রশাসন, রাসিক এবং পুলিশের সাথে আলোচনা করতে হবে। অবৈধ অটো সরানোর বিষয়ে রাসিক যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সড়কে শৃঙ্খলার পাশাপাশি চালকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
রাসিকের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাসিক কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষে এবার চালকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক এনজিও ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত আগ্রহী কউকে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, নগরীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এই লক্ষে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা দুই সিফটে ও দুই রঙে চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেয়া হয়েছে ১০ হাজার ব্যাটারি চালিত অটো ও ৫ হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা অনুমোদন। সেই সাথে চালকদের পৃথক লাইসেন্সেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসবের জন্য সংশ্লিষ্টপদর কাছ থেকে ফি আদায় করা হচ্ছে। এভাবে রাসিক তার রাজস্ব বৃদ্ধি করলেও এই যানবাহনগুলোর চালকদের প্রশিক্ষণের এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
রাসিক কয়েক দফা সুযোগ দেয়ার পর ১০ হাজার অটো এবং ৫ হাজার মোটা চাকার রিকশা জন্য অনুমোদন দিয়েছে। যার মধ্যে দিনে ৫ হাজার অটো ও ৫ হাজার মোটা চাকার রিকশা প্রতিদিন একত্রে চলাচল করতে পারবে। এজন্যে অটোর বডি খয়েরি বা লাল এবং পিত্তি বা সবুজ রঙ বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে রাসিক। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাসিকের এমন উদ্যোগকে সকল পক্ষ থেকেই সাধুবাদ জানানো হয়েছে। এমনকি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকেও রাসিকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে এবং দেশের আরো ৫ টি পৌরসভা ও ২ সিটি কর্পোরেশনকে এই উদ্যোগ নিজনিজ এলাকায় বাস্থবায়নের জন্য বলা হয়েছে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com