শিরোনামঃ
নিউজরুম ০৬-১২-২০২০ ০৩:২৯ অপরাহ্ন |
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলায় এবং সংবিধান থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র উচ্ছেদ ও ভাস্কর্য বিরোধীকারীদের বিরুদ্ধে শনিবার রাতে পৃথক ভাবে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ ও জেলা যুবলীগ।
শনিবার রাত সাড়ে ৭টায় নগর আওয়ামী লীগের আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন শেষে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।
বক্তব্যে এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, এরা তারাই যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো, এরা তারাই যারা ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমে হানী ঘটিয়েছিলো, এরা তারাই যারা জাতির পিতার হত্যাকারীদের সাথে হাত মিলিয়েছিলো। এরা বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন নামে আবির্ভূত হয়। কখনও মীর জাফর, কখনও জগৎ শেঠ, কখনও ইয়াহিয়া খান, কখনও আইয়ুব খান, কখনও খন্দকার মুস্তাক, কখনও জিয়াউর রহমান। এরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে না। এরা জীবিত বঙ্গবন্ধুর থেকে মৃত বঙ্গবন্ধুকে ভয় পায়। বাংলার মাটিতে এদের কোন ঠাঁই হবে না। জামায়াত-বিএনপি’র মদদপুষ্ট মৌলিবাদীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে লিটন বলেন, আপনারা যতই তারেক রহমানের টাকায় হৃষ্টপুষ্ট হন, আপনাদের হুমকি-ধামকিতে আমরা ভয় পাই না। রাজশাহীতে সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ করা হবে। পারলে আপনারা বাধা দিয়েন, আপনাদের পিঠের চামড়া থাকবে না।
ডাবলু সরকার বলেন, বাংলাদেশ কিভাবে পরিচালিত হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে তা নির্ধারণ হয়ে গেছে। আপনারা কারা, আপনারা কোথায় ছিলেন? যখন দেশে ধর্মের নামে মাদ্রসার ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়, যখন গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যা করা হয়, যখন ২১আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে একটি দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়, তখন কোথায় ছিলেন? তাদেরকে হুশিয়ারী দিয়ে ডাবলু বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীরা মাঠে আছে, যতদিন বঙ্গবন্ধুর একটি কর্মী জীবিত আছে আপনাদের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, আহ্সানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইসতিয়াক আহম্মেদ লিমন, কৃষি সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মকিদুজ্জামান জুরাত, উপ-দপ্তর সম্পাদক পঙ্কজ দে, উপ-প্রচার সম্পাদক সিদ্দিক আলম, সদস্য আশরাফ উদ্দিন খান, মজিবুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, আব্দুস সালাম, সৈয়দ মন্তাজ আহমেদ, আতিকুর রহমান কালু সহ নেতৃবৃন্দ।
বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য ভাংচুরের প্রতিবাদে জেলা যুবলীগের বিক্ষোভ: এদিকে কুষ্টিয়ার শহরের পাঁচরাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর নির্মানাধীন ভাষ্কর্য ভেঙ্গে ফেলার প্রতিবাদে রাজশাহী জেলা যুবলীগের উদ্যোগে লক্ষীপুর মোড়ের বঙ্গবন্ধুর ম্যূরালের পাদদেশ থেকে শনিবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে বঙ্গবন্ধুর ম্যূরালের পাদদেশে পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।
বিক্ষোভ সভায় আসাদ বলেন, স্বাধীনতার মাসে এই মৌলবাদিরা আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ভুল ফতোয়া দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তি করে উষ্কানি দিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দিয়েছে। আলাদা বোর্ড গঠন করে দিয়ে সার্টিফিকেটের মর্যাদা দিয়েছে, ৫০০ মডেল মসজিদ নির্মাণ করছে। মাদ্রাসার সুপারেন্টড পদকে অধ্যক্ষ উন্নীত করেছে। সারাদেশের মসজিদের ইমামদের ঈদে সম্মানী দিয়েছে। তারপরও এই মৌলবাদিরা বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য নিয়ে উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি পাঁয়তারা শুরু করেছে। এই দৃষ্টতার জন্য সমূচিত জবাব দেওয়া হবে। আর যদি একটি ভাষ্কর্যে হাত দেওয়া হয় তবে আমরাও তাদের কিভাবে প্রতিরোধ করতে হয় তা করব। ঘরে বসে মৌলবাদীদের সকল কিছু নেরবে মেনে নিব না।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা যুবলীগের সভাপতি জনাব আবু সালেহ, সঞ্চালনা করেন জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আজম সেন্টু। বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভায় সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আসাদুজ্জামান, আহসান উল হক মাসুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আক্তারুজ্জামান আখতার, সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুজ্জামান শফিক, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী, সাবেক ছাত্রনেতা মেরাজুল আলম মেরাজ, জেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মাহমুদ হাসান ফয়সাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াসিম রেজা লিটন, মোবারক হোসেন মিলন, সামাউন ইসলাম, সেজানুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান পল্লব, প্রচার সম্পাদক রফিকুজ্জামান রফিক, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ খান, জেলা আওয়ামী ওলামালীগের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আব্দুস সবুর, রাজপাড়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন রুবেল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন, রিমন হোসেনসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগের নেতৃবৃন্দ।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com