উল্লাপাড়া ৩০ শয্যা হাসপাতালের নার্স সেলিনার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া)
৩১-১২-২০২০ ০৯:৩৬ অপরাহ্ন
|
|
উল্লাপাড়া ৩০ শয্যা হাসপাতালের নার্স সেলিনার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ
উল্লাপাড়া পৌর শহরের ৩০ শয্যা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সেলিনা খাতুনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়,নার্স সেলিনা খাতুন উল্লাপাড়া ৩০ শর্য্যা হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রকাশ্য মহিলাদের অবৈধ গর্ভপাত/ডিএনসি করে মোটা অংকের টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই হাসপাতালের স্বাভাবিক ডেলিভারীর কাজেও রোগীদের কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়ে থাকেন। তার কাছে অবৈধ গর্ভপাত করাতে গিয়ে অনেকেই মারাত্নক দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি একই কর্মস্থলে থেকে এমন অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার এই অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি।
উল্লাপাড়া উপজেলার চড়ুইমুড়ি গ্রামের এরশাদ আলীর স্ত্রী শাপলা খাতুনের কিছুদিন আগে অবৈধ গর্ভপাত ঘটায় নার্স সেলিনা খাতুন। সরকারি হাসপাতালে ২৫ শ'টাকা নিয়ে তার গর্ভাপাত ঘটাতে গিয়ে প্রচন্ড রক্তপাত শুরু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত তাকে সিরাজগঞ্জ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের পরার্মশ অনুর্যায়ী তার জরায়ু কেটে ফেলে দেয়া হয়।
মুঠোফোনে কথা হলে ভুক্তভোগী শাপলা খাতুন ও তার স্বামী তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা স্বীকার করেন।
শাপলা খাতুন জানান,তার সাথে যা ঘটে গেছে তা মনে হলে আজও আতকে উঠেন তিনি। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। আফসোস করে বলে নার্স সেলিনার কারনে তিনি আর কোনদিনই মা হতে পারবেন না। দিন মজুর স্বামী অনেক টাকা ব্যয় করে তাকে সুস্থ করেছে। তার মতো আর কোন নারী যেন নার্স সেলিনা হাতে এমন মারাত্নক ক্ষতির মুখে না পড়ে তার জন্য সঠিক পদক্ষেপ দাবী করেন।
সরকারি নিয়মের বাইরে নার্স সেলিনা দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে যাচ্ছেন। নিজ কর্মে সঠিকভাবে দায়িত্বপালন না করে ইচ্ছেমতো কর্মস্থলে আসা যাওয়া করেন। দাপুটে এই নার্স দায়িত্বরত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই হাসপাতালের রোগীদের ছাড়পত্র দেন। মাঝে মধ্যেই তিনি দায়িত্বরত অবস্থায় রোগী ও তার স্বজনদের সাথে খারাপ আচরন করে থাকেন।
নার্স সেলিনার এমন অনিয়ম তুলে ধরে পৌর শহরের এনায়েতপুর গ্রামের ফরিদা খাতুন নামে এক গৃহবধূ ২৮ ডডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স সেলিনা খাতুনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, গৃহবধু শাপলা খাতুনকে তিনি গর্ভপাত ঘটিয়েছিলেন। তবে তার প্রচুর রক্তপাত শুরু হওয়ায় তাকে সিরাজগঞ্জ রেফার্ড করা হয়েছিল। এর পরের বিষয়ে তিনি জানেন না। তিনি বলেন চিকিৎসকদের অনুরোধে মাঝে মধ্যে দু'একটি ডিএনসি/গর্ভপাত ঘটিয়ে থাকেন। তার দাবী স্থানীয় একটি মহল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। সরকারী হাসপাতালে টাকা নিয়ে এমন কর্মকান্ড করা যায় কি না? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দেননি।
উল্লাপাড়া ৩০ শর্য্যা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফিরোজ হোসেন তালুকদারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,আমি চিঠি দিয়ে এসব কর্মকান্ড বন্ধ করে দিয়েছি। উল্লেখিত নার্স সহ অনেকেই গোপনে এসব কর্মকান্ড করে। অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রায়হান আলী, করেসপন্ডেন্ট(উল্লাপাড়া) ৩১-১২-২০২০ ০৯:৩৬ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 545 বার দেখা হয়েছে।
পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ