বেলকুচিতে মুসলিম এইডের সহযোগিতায় গাভী পালন করে স্বাবলম্বী রেবেকা বেগম
জহুরুল ইসলাম:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকার ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের রেবেকা বেগমের স্বামী লোকমান হোসেনের আয় দিয়ে ছেলে মেয়েদের লেখা-পড়ার খরচ জোগাতে হিমসিম খাচ্ছিলেন। তখন তিনি চিন্তা করেণ কিভাবে ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ জোগানো যায়। এই চিন্তা করে তিনি কিছু আয় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এরপর তিনি অন্যর মুখে সুদ মুক্ত ঋণের কথা শুনতে পেয়ে সেখান ভর্তি হন। এবং সেখান থেকে লোন নিয়ে গাভী পালন করার সিদ্ধান্ত নেন।
এর ধারাবাহিকথায় মুসলিম এইড বাংলাদশ নামক সংস্থা হতে প্রথম ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা লোন নিয়ে একটি বকনা বাছুর ক্রয় করেণ। সেটি বড় করে ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকায় বিক্রি করেন। এতে তার বেশ লাভ হওয়ায় আরও ভাল ভাবে গরু পালনের সিদ্ধান্ত নেন। তারপর আবার মুসলিম এইড থেকে ২য় বার ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা লোন এবং গচ্ছিত টাকা দিয়ে আবার একটি গরু ক্রয় করেন। সেটি ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা দিয়ে একটি বকনা বাছুর সহ গাভী ক্রয় করেন। যা প্রতিদিন প্রায় ৫/৬ কেজি দুধ দেয়। গাভীটি এক বছর পালন করার পর ৭০,০০০ (সত্তর হাজার) টাকা বিক্রয় করেন। ৩য় বার ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ঋণ নিয়ে নিজের টাকা দিয়ে আরও একটি গাভী ক্রয় করেন। যার দুধ বিক্রি করে ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ জোগাতে থাকেন। এক বছর পালন করে ৭৫,০০০ (পচাত্তর হাজার) টাকা বিক্রয় করে একটি ঘর দেন। যাতে তার ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন। ৪র্থ লোন ও ৫ম লোন নিয়ে ল্যাট্রিন বাথরুমসহ আরও একটি ঘর দেন। ৬ষ্ঠ লোন মুসলিম এইডর মাধ্যম ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা নিয়ে তার আর ২০,০০০ (হাজার) হাজার টাকা সহ মাট ১,২০,০০০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গাভী ক্রয় করেন যা এক মাস পরে একটি বাছুর প্রসব করে। গাভীটির বর্তমান প্রতিদিন ৮/১০ কজি দুধ দেয়। যা হতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ (পাঁচ শত) টাকা করে আয় হয়। তার সংসার এখন সুন্দর ভাবে চলছে। তার ছেলে এখন কলেজে পড়া-লেখার খরচ, কিস্তি ও সংসারের খরচ গাভীর দুধ বিক্রয়ের টাকা দিয়ে চলে।
রেবেকা বেগম বলেন, আমি এখন ভাল আছি। আমার সংসার ভালভাবে চলছে। মুসলিম এইডের প্রতি আমি সন্তষ্ঠ। তার মতে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের শাহানাজ, মুক্তি, মমতাজ, ধুলদিয়ার গ্রামের আন্না বেগম, চালা গ্রামের ফাতেমা বেগম, কামারপাড়ার পলাশি বেগম, তেয়াশিয়া গ্রামের সালমা সহ আরও অনেকে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মুসলিম এইডের বেলকুচি শাখা ব্যবস্থাপক সোহরাব হুসাইন এই প্রতিবেদককে জানান, দরিদ্র জনগোষ্টীর দারিদ্রতা বিমোচনের জন্য স্বল্প সার্ভিস চার্জ ও সহজ কিস্তিতে মাইক্রো ফাইন্যান্স ও এসএমই লোন প্রদান এবং অতি দ্ররিদ্রদের মাঝে সুদ ও সার্ভিস চার্জ মুক্ত ‘‘অতি দরিদ“ লোন প্রদান করা হচ্ছে। মুসলিম এইড বাংলাদশ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষের মাঝে কাজ করছে যেখানে সকল প্রকার সাপোর্ট প্রদান করে থাকে যা এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম এইডের জন্ম হয়েছে সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। বাংলাদশে ১৯৯১ সাল থেকে চট্টগ্রাম ত্রান ও পূনর্বাসনর কার্যক্রম দিয়ে মুসলিম এইডের যাত্রা শুরু হয় এবং মুসলিম এইড সবসময় অসহায় ও অবহলিত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।