শাহজাদপুর পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী তরু লোদী ২৯০৮৭ ভোটে বিজয়
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

  

শাহজাদপুর পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী তরু লোদী ২৯০৮৭ ভোটে বিজয়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি
২৯-১২-২০২০ ০৮:০৯ অপরাহ্ন
শাহজাদপুর পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী তরু লোদী ২৯০৮৭ ভোটে বিজয়
জহুরুল ইসলাম: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভা নির্বাচনের ২৫টি কেদ্রের চুরান্ত ফলাফল রিটার্নিং অফিসার ঘোষনা করেছেন। এতে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মনির আক্তার খান তরু লোদী (নৌকা প্রতীক) ২৯০৮৭ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপি মনোনীত মাহমুদুল হাসান সজল (ধানর শীষ) পেয়েছেন ১৮৬৭ ভোট। কেমন হলো শাহজাদপুরের পৌর নির্বাচন? শান্তিপুর্ন পরিবেশে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার নির্বাচন সম্পর্ণ হয়েছে। সকাল আটটা থেকে বিকল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইভিএম মেশিনে ভোট গ্রহন চলে। সকাল থেকেই ভোটারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ইভিএমে ভোট প্রদান করে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে বয়স্ক ও নারী ভোটারদের ইভিএমে ভোট দিতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। কেদ্রগুলাতে নৌকা ও কাউন্সিলরদের এজেন্ট থাকলেও বিএনপি প্রার্থীর কোন এজেন্ট দেখা যায়নি। কেন্দ্রগুলোতে নৌকার ব্যাচ পরিহিতরা থাকলেও কোথাও ধানের শীষে সমর্থকদের দেখা যায়নি। এমনকি কোন পোস্টার লাগানো ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, ইভিএম মশিন আঙ্গুলের ছাপ নেয়ার পর নৌকার সমর্থকরা বুথের ভিতরে গিয়ে ভোটারদেরকে নৌকা প্রতীকে ভৌট প্রদানে বাধ্য করা হয়েছে। ইব্রাহীম গার্লস হাই স্কুল ও বঙ্গবন্ধু মহিলা কলজ গিয়েও দেখা যায় ভোটারের সাথে নৌকার এজন্টরা বুথে গিয়ে ভোট নিচ্ছে। এমনকি পুলিশ সদস্য ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররাও ভোটারের সাথে বুথে গিয়ে ভোট প্রদান করছে। যদিও তারা বলছেন, ভোটাররা ইভিএমে ভোট দিতে পারেনা বলে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি। এদিকে, সকাল থেকে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মনির আক্তার খান তরু লোদী কেন্দ্রগুলাতে পর্যবেক্ষনে গেলেও বিএনপি প্রার্থীকে কোথাও দেখা যায়নি। তিনি সোয়া তিনটার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে ভোট প্রদান করে আবার ফিরে যান। অন্যদিকে ভোট সুষ্ঠ ও সুন্দর করতে র‍্যাব-পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের টহল চোখে পড়ার মতো ছিল। বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন প্রত্যাখানঃ নির্বাচন অনিয়ম, এজন্টদের ঢুকতে না দেয়া ও নেতাকর্মীদের মারপিটসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে পৌর নির্বাচন প্রত্যাখান করেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হাসান সজল। বিকল সোয়া তিনটার দিকে ইবরাহীম গার্লস হাইস্কুল কেদ্রে নিজে ভোট প্রদানর পরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি নির্বাচন প্রত্যাখান করেন। এসময় তিনি বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছিলাম। দেশের জনগনকে জানাতে চেয়েছিলাম এ সরকারের আমলে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয়। আজকের পৌরসভা তা বাস্তব প্রমানিত হলো। তিনি বলন, নির্বাচনের শুরু থেকেই আওয়ামীলীগ সমর্থকরা বিএনপি নেতাকমর্মীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে হুমকি দিয়েছে। প্রচার-প্রচারনা বাঁধা দিয়েছে। তারপর আমরা নির্বাচনের মাঠে ছিলাম। কি ভোগগ্রহন শুরুর পরেই প্রতিটি কেদ্র থেকে এজন্টদের মারপিট করে বের করে দেয়া হয়েছে। কিছু কেদ্র এজন্ট ঢুকতে দেয়া হয়নি। ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ায় বিএনপির তিন নেতাকে মারপিট করা হয়েছে। ভোটারদের প্রকাশ্য নৌকা প্রতিকে ভোট প্রদানে বাধ্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মনির আক্তার খান তরুলোদী বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ মিথ্যা-বানোয়াট ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি জানান, ভোট সুষ্ঠ-শান্তিপুর্ন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগন স্বতস্ফুর্তভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মো.আবুল হোসেন জানান, শান্তিপুর্নভাবে ভোটগ্রহন শেষ হয়েছে। তবে বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ম হলো সাড়ে সাতটার আগে এজন্টকে কেন্দ্রে যেতে হবে। কি আটটার পরে হয়তো কোন এজন্ট কেন্দ্রে গিয়েছিল এ জন্য ঢুকতে দেয়া হয়নি। তবে কাউকে বের করে দেয়ার ঘটনার বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। তিনি বলন, বিএনপি প্রচার-প্রচারনা বাধা দেয়ার অভিযোগ পাবার পরেই পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছিল। তারমতে নির্বাচনের চারটি পার্ট রয়ছে, নির্বাচন অফিসিং, পুলিশীং পার্ট, ম্যাজিষ্ট্রটিসিং পার্ট ও জুডিশিয়াল পার্ট। সুষ্ঠ নির্বাচন বাস্তবায়ন করতে হলে চারটি পার্টের সকলকেই সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হয়।

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেলকুচি ২৯-১২-২০২০ ০৮:০৯ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 448 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com