শিরোনামঃ
করেসপন্ডেন্ট, সিরাজগঞ্জ ২৮-১২-২০২০ ১২:১৬ অপরাহ্ন |
মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কনিষ্ঠ সহধর্মিনী হামিদা খানম ভাসানী ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে বগুড়া জেলার আদমদিঘি থানার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । পিতা কাসেম উদ্দিন সরকার জমিদার শ্রেণীভুক্ত একজন সমাজ হিতৈষি ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন। অত্র এলাকায় কৃষক সংগঠনের রেশ ধরেই মওলানা ভাসানীর সাথে তাঁর পরিচয়। কৃষক আন্দোলনের একপর্যায়ে এই কাসেম সরকারের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন মওলানা ভাসানী। এই সময় স্থানীয় মহারাজার সাথে একটি মসজিদ নিয়ে কাসেম সরকারের বিরোধ চলছিল চরমে। মওলানা ভাসানীও ক্রমে সেই বিরোধে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। মহারাজার সাথে লড়াই করে বিজয়ী হন এবং কিছুদিন সেই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের সংগঠিত করে এখানে আয়োজন করেন বিরাট এক কৃষক সম্মেলনের। সফল সম্মেলন শেষে বিয়ে করেন সরকার কন্যা উমিলা খাতুনকে। বিয়ের পর মওলানা ভাসানী তার নাম দিলেন হামিদা খানম। নিয়ে গেলেন আসামের ঘাগমারীতে। আসামে গরীব ভক্ত-মুরীদের সন্তানদের লেখাপড়ার যোগান দিতে হামিদা খানম ভাসানী নিজেকে নিবেদিত রাখেন। এখানেই জন্মগ্রহণ করেন হামিদা খানম ভাসানীর একমাত্র পূত্র আবুবকর খান ভাসানী এবং কন্যাদ্বয় আনোয়ারা খানম ভাসানী ও মনোয়ারা খানম ভাসানী। ১৯৪৭ খৃষ্টাব্দে ভারত ভাগের পর তিনি পূত্র-কন্যা সমেত চলে আসেন ভূরুঙ্গামারীর ভাসানী নগর গ্রামে। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ ডিসেম্বর (বাংলা ১৩ পৌষ), সোমবার সুবেহ সাদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪ নং ওয়ার্ডের ১০ নং বেডে দুরারোগ্য ক্যান্সার ব্যাধীতে তাঁর মৃত্যু হয়। হামিদা খানম ভাসানী তাঁর জীবন-যাপন, চাল-চলন, কথা-বার্তায় ছিলেন বেশ বিচক্ষণ ও মানবহিতৈষী। তাঁর মৃত্যুর পর ভাসানী নগর, দঃ ছাট গোপালপুর গ্রামে পূত্র আবুবকর খান ভাসানী প্রতিষ্ঠা করেন ‘হামিদা খানম ভাসানী উচ্চ বিদ্যালয়’। মহিয়সী এই নারীর ৫৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com