শিরোনামঃ
আব্দুল জলিল ২৪-১২-২০২০ ১০:২৮ পূর্বাহ্ন |
আবদুল জলিলঃ কাজিপুরঃ
মানুষ তিনি একজনই। নাম আমজাদ হোসেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা। মানুষ একজন হলেও তার মুক্তিসনদ দুটো। এক্ষেত্রে তিনি ঠিকানা দিয়েছেন সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার এবং বগুড়ার ধুনট উপজেলার। নিজে ব্যক্তি জীবনে বিত্তশালী হলেও নিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। তাও আবার দুই উপজেলা থেকেই। এ নিয়ে অন্য মুক্তিযোদ্ধাগণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) করতে গেলে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য বেরিয়ে আসে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন জন্মসূত্রে ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের সাতটিকরী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম রিয়াজ উদ্দিন। সাতটিকরীর পৈত্রিক বাড়িতেই তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। এরপর নিজের নাম ও বাবার নাম ঠিক রেখে তিনি সিরাগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের মাজনাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে কাগজপত্র তৈরি করেছেন।
সরেজমিন গত ২৩ ডিসেম্বর( বুধবার) গিয়ে ওই ঠিকানায় আমজাদ হোসেনের কোন সম্পত্তির বা বাড়িঘরের খোঁজ মেলেনি। এমনকি তাকে সেখানকার কেউই চেনেন না। এসময় মুনসুর নগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি মানিক মিয়া জানান, ‘আমাদের ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে উনি অন্যায় করেছেন। কোনদিনও তিনি এই ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন না।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের কাগজপত্র বিশ্লেষণে জানা গেছে কাজিপুর উপজেলায় তার লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ০৩১২০৬০০৭৬। সোনালী ব্যাংক কাজিপুর উপজেলা শাখায় তিনি ২০১১ সালের ৬ জুন হিসাব খুলেছেন (হিসাব নম্বর ৪২০৭৭৩৪০৯৫০৪১)। ওই হিসাব নম্বর থেকে তিনি মাসিক সম্মানি ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার টাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া একই নামে ধুনট উপজেলায় তার লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ০৩০৬০৭০০৬৪। সোনালী ব্যাংক ধুনট উপজেলা শাখায় তিনি ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর হিসাব খুলেছেন (০৬১০১০০১৬৭২৪১)। ওই হিসাব নম্বর থেকেও তিনি মাসিক সম্মানি ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার টাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি দুই উপজেলা থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ভাতা উত্তোলন করেছেন।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসিক ১২ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। এর আগে ছিল ১০ হাজার টাকা। এর মধ্যে দুই ঈদে ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা, ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবসের ভাতা এবং ২ হাজার টাকা বাংলা নববর্ষ ভাতা পান বীর মুক্তিযোদ্ধা। সব মিলিয়ে বছরের একজন মুক্তিযোদ্ধা পান ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন জানান, আমি ধুনট ও কাজিপুর উপজেলায় যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। এ কারণে দুই উপজেলাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। তবে দুই উপজেলা থেকে সম্মানি ভাতা উত্তোলনের করা আমার ভুল হয়েছে।’ এসময় তিনি ক্ষমা চেয়ে অতিরিক্ত উত্তোলনকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বলে জানান।
এ নিয়ে কাজিপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক এক কমান্ডার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘বিষয়টি একইসাথে আমাদের জন্যে যেমন লজ্জার তেমনি অনৈতিকও। তার কর্মকান্ড আমাদের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কাজিপুর উপজেলা কমান্ডের প্রশাসক জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের এমআইএস করা হয়েছে। তবে দুই উপজেলা থেকে ভাতা উত্তোলন করায় তার ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিন্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে ‘
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ধুনট উপজেলা কমান্ডের প্রশাসক ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের এমআইএস করা সম্ভব হয়নি। তবে তার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা স্থগিত করে মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com