বিজয় দিবসে ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের শ্রদ্ধা নিবেদন সিরাজগঞ্জের কৃতিসন্তান কথাসাহিত্যিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও শিক্ষক সৈয়দা ইসাবেলা স্মরণে ২০১৬ সালের ২৪শে ডিসেম্বর তার সুযোগ্য সন্তান, বাংলাদেশের গর্ব পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব কবির বিন আনোয়ারের হাত ধরে ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। এটি একটি অ-রাজনৈতিক, অ-লাভজনক, বেসরকারী দাতব্য ফাউন্ডেশন হিসেবে পরিচিত। সিনিয়র সচিব জনাব কবির বিন আনোয়ার ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
আজ বুধবার ১৬ই ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ শহরে নবনির্মিত বিজয় সৌধে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ইসাবেলা ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের পক্ষে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করেন অত্র ফাউন্ডেশনের সিরাজগঞ্জ জেলা কো-অর্ডিনেটর আদনান মুক্তা ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীবৃন্দ।
ফাউন্ডেশনটি আর্তমানবতার সেবা ও পরিবেশ রক্ষায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে । করোনাকালীন সময়ে জনসাধারনের মাঝে সামাজিক সচেতনতা, আর্থিক অনুদান ও ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করেছে ইসাবেলা ফাউন্ডেশন। ছিন্নমূল শিশুদের পাশে দাড়িয়ে সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অত্র ফাউন্ডেশন। ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। সেই সাথে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণে ব্যপক পরিসরে কাজ করে যাচ্ছে ফাউন্ডেশনটি।
উল্লেখ্য নারী সমাজের প্রগতির দিশারী রত্নগর্ভা মা সৈয়দা ইসাবেলা ছিলেন সিরাজগঞ্জের খ্যাতনামা সৈয়দ পরিবারের মেয়ে। সৈয়দা ইসাবেলা নারী জাগরনে এবং দেশের স্বাধিনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অন্যন্য নাম। ১৯৪২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মরহুম সৈয়দ মোহাম্মদ ইসহাক ও আছিরুন নেছা খন্দকারের পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহন করেন। পিতা মাতা দু জনেই ছিলেন শিক্ষক। বড় চাচা সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী উপমহাদেশে মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত, তুরস্কের পক্ষে বলকান যুদ্ধে যোগদান করে গাজী-এ- বলকান উপাধিতে ভূষিত হন। সৈয়দা ইসাবেলা বাণীকুঞ্জ নামে সিরাজগঞ্জের যে বাড়িতে বেড়ে উঠেছেন সে বাড়িটির নাম দিয়ে ছিলেন আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ব্যক্তি জীবনে সৈয়দা ইসাবেলা সিরাজগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় ১৯৫৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আমলাপাড়া নিবাসী আনোয়ার হোসেন রতুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্বামী আনোয়ার হোসেন রতু মুক্তিযুদ্ধকালীন সিরাজগঞ্জ সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন।
সৈয়দা ইসাবেলা নারীদের শিক্ষিত করেছেন সকল বাধার মুখে। একাত্তুরে দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু তিনি বিশ্রাম নেননি। থামাননি পথচলা। সংগ্রামী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ১৯৭৩ সালে যোগ দেন শহরের গৌরী আরবান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। দায়িত্ব নেন প্রধান শিক্ষকের। ২০০২ সালে গৌরী আরবান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে অবসর নেয়ার পর থেকে সাহিত্যচর্চাশুরু করেন। লেখা লেখির মাত্র ৮ বছরে ২২ টি বই গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেছেন। প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে অমানিশার জোনাকি, পুরুষোত্তম, অন্তরের কাছাকাছি, নারীর মন, কাছে থেকে দেখা, পাখির পালক ও রাজপ্রত্ররা, যাদুর প্রদীপ, ফিরে পাওয়া, নেংটি ইঁদুর ও বুড়ো বিড়াল, মালাচির কুটির, বুগলী সোনা পাখি, শেষ বেলার বন্ধু, আয়নায় মুখ, মুক্তিযুদ্ধে আমি, মহাতীর্থ ঘুরে এলাম, অনন্ত পিপাসা, স্মৃতিকথা, রঙ্গনা, অচেনা প্রমূখ উল্লেখযোগ্য। সংসার জীবনে সৈয়দা ইসাবেলা ৭ সন্তানের মা। মা হিসেবেও তিনি রেখেছেন সফলতার ছাপ। ৫ কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। তারা প্রত্যাকেই স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছেন। এ কারনে ২০১০ সালে সৈয়দা ইসাবেলা একজন রত্মগর্ভা মা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। ১১ জানুয়ারী ২০১৩ সালে মহীয়সী নারী সৈয়দা ইসাবেলা মৃত্যুবরণ করেন।