তাড়াশে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব
আশরাফুল ইসলাম রনি:
আবহমান বাংলার অন্যতম উৎসব পলো দিয়ে মাছ ধরা। শীতের শুরুতেই শুরু হয় এই উৎসব। আর চলনবিলের বুকে বয়ে যাওয়া রয়েছে অসংখ্য নদী। এই নদীগুলোকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে পালিত হয়ে আসছে মাছ ধরা উৎসব ‘পলো উৎসব’।
সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের কুন্দইল, বিন্নাবাড়ি, হেমনগর, ইশ্বরপুর, নওখাদা, চরকুশাবাড়ি ও ধামাইচ গ্রামের কিশোর, যুবক ও বয়স্করা দল বেধে পলো দিয়ে মাছ ধরার জন্য খালে ও নদীতে নামছেন। তারা দলবেধে পলো দিয়ে মাছ ধরছেন। এ দলে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ উৎসবে মেতে উঠেন। গোমানী নদীতে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দল বেঁধে মাছ ধরার দৃশ্য যেন দেখার মতো। দলবদ্ধভাবে মাছ শিকারের এ দৃশ্য দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় জমায় উৎসুক মানুষজন। উৎসবে অংশ নেয়াদের হাততালি, জোরে জোরে চিৎকার করে উৎসাহ দেন তীরে অবস্থানরত লোকজন। নদীতে বড়দের পাশাপাশি ছোট ছেলেমেয়েদেরও দেখা যায়। মাথা ও কোমরে গামছা বেঁধে অনেকটা আনন্দ নিয়েই মাছ ধরতে দেখা যায় তাদের।
উপজেলার ধামাইচ গ্রামের কলেজ শিক্ষক এম হাসিম খোকন বলেন, বছরের এই দিনের জন্য অধীর আগ্রহে থাকেন এলাকার সৌখিন মানুষেরা। সবাই মিলে একসঙ্গে মাছ ধরার আনন্দটাই আলাদা। দিন দিন পরিবেশ ও আবহাওয়ার কারণে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওরের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি কম ও অধিকাংশ জলাশয় ইজারা দেয়ায় পলো উৎসব এখন অনেকটাই ভাটা পড়েছে।
বয়োবৃদ্ধ করিম মন্ডল বলেন, শখের বশে গ্রামের লোকজনদের সাথে পলো উৎসবে যাই মাছ ধরতে। এটা এ অঞ্চলে দীর্ঘ দিনের উৎসব।