বাল্য বিয়ের অভিশাপে তাড়াশে কিশোরী বৃষ্টি প্রতিবন্ধী
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ
০৩-১২-২০২০ ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
|
|
বাল্য বিয়ের অভিশাপে তাড়াশে কিশোরী বৃষ্টি প্রতিবন্ধী
আশরাফুল ইসলাম রনি:
বাল্য বিয়ের অভিশাপে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বৃষ্টি খাতুন (১৪) নামের কিশোরী এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী। কিশোরী বৃষ্টি খাতুন এক সময় অন্য সকল মেয়েদের মত ভাল ও সুস্থ ছিল। কিন্তু অল্প বয়সে বিয়ে কদেয়ার ফলে এখন সে আর হাটাচলা একা করতে পারে না।
পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের দেশীগ্রাম গ্রামের মৃত নূর হোসেনের বিধবা স্ত্রী বাচা খাতুন (৪৫) এক মাত্র মেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে দেশীগ্রামের আদর্শ পাড়ায় অতি দারিদ্রতার মধ্যে বসবাস করছেন। বৃষ্টির মা ও মামারা একই গ্রামের আব্দুল মতিন ওরফে মতির ছেলে আব্দুল মমিন (১৬)’র ছেলের সাথে গত ২০১৯ সালের ১৫ জুন (২০১৬ সালে দেশীগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পাশ করা) বৃষ্টির কাবিন ছাড়াই বাল্য বিয়ে দিয়েছিল। এ সময় বৃষ্টি খাতুন বাল্য বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেয়। তারপরেও তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়। অবশেষে গত ২০১৯ সালের ১৫ জুন সন্ধ্যায় নতুন জামাইকে বাড়িতে আমন্ত্রন করে নিয়ে আসেন বাচা খাতুন। এক পর্যায়ে জোর পুর্বক কিশোরী বধূ বৃষ্টি কে বাসর ঘরে যেতে বাধ্য করেন। এতে রাগে অভিমানে ঘরে রাখা তরল কীটনাশক (বিষ) পান করেন। সে সময় ৭ দিন ধরে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছিলেন বাল্য বিয়ের প্রতিবাদকারী কিশোরী বৃষ্টি । সেই বৃষ্টি এখন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে ।
এরপর চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও পরবর্তীতে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে বৃষ্টি পঙ্গুত্ব বরণ করতে থাকে। আর তা দেখে মুখে মুখে তিন তালাক দিয়ে তার স্বামী আব্দুল মমিন (২২) পাশ্ববর্তী দেওঘর গ্রামে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই আরেকটি বাল্য বিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছে বলে জানান, বৃষ্টির মামাত ভাই সুলতান হোসেন ।
অথচ সে সময় ওই বাল্য বিয়ে নিয়ে বৃষ্টি অভিভাবকদের কাছে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল বাল্য বিয়েতে তার মত নেই। বরং তাকে স্কুলে পড়ালেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বার বার অনুরোধও করেছিল। কিন্তু অভিভাবকরা তার কথায় কর্ণপাত না করায় তাকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে এখন এবং চিকিৎসার অভাবে দিন দিন বৃষ্টির অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে জানান তার মা বাছা বেওয়া।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালে যখন গোপনে বৃষ্টির বাল্য বিয়ে হয় তখন আমরা জানতাম না। পরবর্তীতে কীটনাশক পান করে ওই মেয়ে যখন অসুস্থ্য হয়েছে তখন বিষয়টি জেনেছিলাম । এরপরে কি হয়েছে তা জানিনা।
বাল্য বিয়ের পরে বৃষ্টির বর্তমান পঙ্গুত্বের বিষয়টি দেশীগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস নিশ্চিত করেছেন। বৃষ্টির মা বাচা আরো বেওয়া বলেন, আমার মেয়েটিকে বিয়ের জন্য মমিন ও তার বাবা আব্দুল মতিন জোরাজুরি করে। এক পর্যায়ে আমরা গরীব হওয়ায় মেয়েকে বিয়ে দেই। কিন্ত বিয়ের পর মেয়ে স্বামী সাথে রাত্রি যাপন করতে না চাইলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করার পাশাপাশি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে রাখা হতো। এক পর্যায়ে মেয়েটি কীটনাশক পান করে। সে সময়ে যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় তারা কাবিন করেনি। বর্তমানে ছেলের বাবা ছেলেকে অন্যত্র আরেকটি বাল্য বিয়ে দিয়েছে । আর আমি অর্থাভাবে এখন মেয়েকে কোন চিকিৎসাও করাতে পারছিনা। এছাড়া ছেলেটি আমার মেয়েটিকে চিকিৎসা না করে এবং দ্বিতীয় বিয়ে করার ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তারা আমাদেরকে নানা ভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
তাড়াশ ইউএনও মোঃ মেজবাউল করিম বলেন,আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি । বিষয়টি দ্রুত খোঁজ নিয়ে বাল্য বিয়ের শিকার বৃষ্টির চিকিৎসার জন্য কি করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ০৩-১২-২০২০ ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 414 বার দেখা হয়েছে।
পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ