সত্তর দশকের অন্যতম কবি, কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক কবি নিশাত খান
বাংলাদেশের সত্তর দশকের অন্যতম কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, জাতীয় কবিতা পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সিরাজগঞ্জ জেলার কৃতী সন্তান ও মাওলানা ভাসানীর নাতি ফরিদ উদ্দিন খান ওরফে কবি নিশাত খান।
কবি নিশাত খান সিরাজগঞ্জ জেলার পৌর এলাকার রহমতগঞ্জ মহল্লায় ১৯৫৬ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম নাসির উদ্দীন খান। মাতার নাম সাইদা খান । তিনি মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি ছিলেন।
কবি নিশাত খান সিরাজগঞ্জের সয়াগোবিন্দ প্রাথমিক স্কুলে পড়া শেষে ১৯৭০ সালে মাল্টিলেটারস হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাসের পর ১৯৭২ সালে খুলনা সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তারপর ১৯৭৬ সালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স পাস করেন এবং ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম,এ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতা ও লেখালেখি শুরু করেন।
কবিতা দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে গল্প, উপন্যাস লেখায় জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত হন। সাহিত্য অবদান স্বরুপ নিশাত খান তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রতিযোগিতায় একাধিক বার পুরস্কারর অর্জন করেন। তিনি বিআরডিবি'র থিম সঙ রচনা, সমবায় সংগীত রচনা করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
চাঁদেরবয়সী রাহু (কাব্য), স্নিদ্ধতা সংহারী রৌদ্র (কাব্য), দুর্বিনীত জলের সাহস (কাব্য), শরবিদ্ধ স্বকাল (গল্প), সহস্র কোকিলেরগান (গল্প), রাবণের চিতা (গল্প), চলে যায় সুবর্ণ সময় (গল্প), গল্পসমগ্র ও সীমান্ত শহর (উপন্যাস)।
তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠা কালীন সদস্য, রুদ্র সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বিআরডিবি সাংস্কৃতিক দলের সদস্য সচিব, বাংলা একাডেমির সদস্য, উপদেষ্টা সুর-সমুদ্র।
২০১৬ সালে স্ত্রী কামরুন নাহার মারা যান। পুত্র অমিয় সৃজন সাম্য ও মেয়ে ডা. অনিন্দ নিশাত মৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তার চাচা তত্তাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দীন খান। তিনি ৭০/৭ জিগাতলা, ধানমন্ডি ঢাকাতে বসবাস করতেন।
তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ২টি কিডনী ডেমেজ হার্ডব্লক ও ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৩০শে অক্টোবর ঢাকাস্হ বারডেম হাসপাতালে আইসিইউ কক্ষে ইন্তেকাল করেন।
৩১শে অক্টোবর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জানাযা শেষে পৈত্রিক বাড়ী সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জ বাড়ীতে কিছুক্ষণ মরদেহ রাখার পর রাতে রহমতগঞ্জ কবরস্হানে জানাযা শেষে দাফন করা হয়।