শিরোনামঃ
দিলীপ গৌর ২৮-১১-২০২০ ০৬:৪১ অপরাহ্ন |
শাহজাদপুর প্রতিনিধি : জেলার শাহজাদপুরে চিকিৎসার কথা বলে শিশু অপহরণ এবং পরে ওই শিশুটিকে অন্যের কাছে মোটা অংকের টাকায় বিক্রির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। শিশুটির মা ও নানা বিষয়টি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিরাজগঞ্জকে অবহিত করলে পিবিআই-সিরাজগঞ্জ দ্রæত পদক্ষেপ নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সং/০৩) এর ৭/৩০ ধারায় অপহরণ ও সহায়তার অপরাধে ৪ জনের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় একটি মামলা রজ্জু হয়েছে। যার নম্বর- ২৫, তারিখ- ২৫/১১/২০২০ খ্রি.। জানা গেছে, উপজেলার গালা ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের ফটিক প্রামানিকের মেয়ে সোনিয়া খাতুন (২৪) এর সাথে একই গ্রামের শাহিন আলীর ছেলে সবুজ (২৮) এর প্রায় ৫ বছর আগে বিবাহ হয়।
বিয়ের পরে সোনিয়ার গর্ভে সোনালী (৪) ও সাব্বির হোসেন (১+) বয়সী দু’টি সন্তানের জন্ম হয়। দীর্ঘদিন যাবৎ বখাটে সবুজের সাথে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় ২ মাস আগে সোনিয়া সবুজকে ডিভোর্স দিলে প্রতিব›দ্বী মেয়ে সোনালীকে সবুজের বাড়ীতে নিয়ে যায় এবং শিশু পুত্র সাব্বিরকে তার মায়ের কাছে রেখে যায়।
হঠাৎ শিশু সাব্বির অসুস্থ হলে খবর পেয়ে সবুজের বাবা মামলার ২নং আসামী গত ২২/১/২০২০ খ্রি. তারিখে মামলার ৩নং আসামী ও একই ওয়ার্ডের মেম্বর আবু সাঈদ সোনিয়ার বাবা ফটিকের বাড়ীতে যায় এবং শিশুটিকে চিকিৎসার কথা বলে নিয়ে আসতে চায়। মা ছাড়া শুধু শিশুটিকে কেন চায় এমনটি সন্দেহ হলে ফটিক ও সোনিয়া প্রথমে সাব্বিরকে দিতে অস্বীকার করে।
কিন্তু, এলাকার প্রভাবশালী সাঈদ মেম্বরের চাপে পড়ে একপর্যায়ে তাদের হাতে শিশুটিকে তুলে দিতে বাধ্য হয় শিশুর মা ও নানা। এদিকে, গত ২৩/১১/২০২০ খ্রি. তারিখে ফটিক ও তার মেয়ে সোনিয়া জানতে পারে সাব্বিরকে চিকিৎসার নাম করে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে গিয়ে তাকে চিকিৎসা না করে মামলার ৪নং আসামী জামিরতার ভাটপাড়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে আতোয়ার হোসেন ওরফে রতনের কাছে মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে।
ঘটনা জানার পর সোনিয়া তার বাবা ফটিককে সাথে নিয়ে সবুজের বাড়ীতে গিয়ে তাদের কাছে ছেলে ফেরৎ চাইলে ছেলে ফেরৎ তো দূরের কথা উল্টো তাদের সাথে দূর্ব্যবহার করে। বিশেষ করে সাঈদ মেম্বর তার প্রভাবে শিশুর অসহায় মা ও নানার সাথে চরম দূর্ব্যবহার করে। এখানে আরও উল্লেখ্য যে, সবুজ ও সোনিয়ার ডিভোর্সের সময়ও সাঈদ মেম্বরের চাপে কাবিনের টাকা ছাড়াই সোনিয়া তার স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হয় যাতে করে পরবর্তীতে সবুজের বিরুদ্ধে কোন মামলা করতে না পারে সোনিয়া।
সন্তান ফেরৎ না পেয়ে এবং উপায়ন্তর না দেখে সোনিয়া বিষয়টি পিবিআই পুলিশ-সিরাজগঞ্জকে অবহিত করলে গত ২৫/১১/২০২০ খ্রি. সন্ধ্যায় পিবিআই টিম শাহজাদপুরে এসে আতোয়ার হোসেন ওরফে রতনের বাড়ী হতে সাব্বিরকে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে সোনিয়া বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
অপরদিকে, এই শিশুটি উদ্ধার হওয়ায় পিবিআই-সিরাজগঞ্জকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে আজ ২৮ নভেম্বর শনিবার সাঈদ মেম্বরের সাথে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোবাইলটি দুঃখিত পাওয়া গেছে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com