আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে জেলা নাগরিক জোটের মানব বন্ধন
আশরাফুল ইসলাম রনি:
আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট (we can bangladesh) প্রায় দেড় যুগেরও বেশী সময় ধরে পারিবারিক নির্যাতনসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধে বাংলাদেশে ১০ লক্ষাধিক চেঞ্জমেকার নিয়ে বাংলাদেশের ৪৪ জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর আর্থিক সহযোগিতায় এবং নেটজ বাংলাদেশের এর তত্বাবধানে we can bangladesh শীর্ষক প্রকল্পটির কার্যক্রম সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় বাস্তবায়ন করছে। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে উইক্যান বাংলাদেশ এর কর্ম এলাকার
প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে আয়োজন করেছে পক্ষকাল ব্যাপি কর্মসূচি। সেই সাথে রাষ্ট্রিয়
পর্যায় থেকে নারী নির্যাতনের আইন সমুহ দ্রুত কার্যকর করা ও আইনের সংশোধন করে নারী
নির্যাতন, ধর্ষন, বাল্য বিয়ে প্রতিরোরোধ শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে রাষ্ট্রিয় নীতি
নির্ধারনকারীদের সাথে অধিপরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৫ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ মুক্তির সোপানে সিরাজগঞ্জ জেলা নাগরিক জোটের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়েছে মানব বন্ধন, স্বাক্ষর ক্যাম্পেইন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে
প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে ৯টি দাবী বাস্তবায়নের জন্য
উথ্থাপন করা হয় দাবী ৯টি হলো:
১. নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে হবে।
২. উচ্চ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের
মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
৩. বিচার চলাকালে নির্যাতনের শিকার নারী, শিশু ও পরিবারের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাক্ষী প্রদান প্রক্রিয়া যুগোপযোগী করতে হবে।
৫. হাইকোর্টের দেয়া ২০০৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. পারিবারিক নির্যাতন (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ সফল করতে হবে।
৭. ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
৮. নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
৯. সকল প্রকার বৈষম্য মূলক আইন ও নারী নির্যাতন বিরোধী আইনকে সংশোধন করে
সময়োপযোগী করতে হবে।
মানব বন্ধন ও স্নারক লিপি প্রদান অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সিরাজগঞ্জ জেলা নাগরিক সংগঠনের প্রতিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মানব বন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, মানবমুক্তি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও জোট সদস্য হাবিবুল্লাহ বাহার, নাগরিক জোটের আহব্বায়ক গোলাম রব্বানী বাবু, পিডবিøওডি এর নির্বাহী পরিচালক ও জোটের সদস্য
হুসনেআরা জলি, বিশিষ্ট সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব হেলাল উদ্দিন
আহমেদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও জোট সদস্য এমরান মুরাদ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বামী কর্তৃক এসিড নির্যাতনের শিকার নারী শানু
খাতুন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার আদুরী। তাহারা তাদের নির্যাতনের সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার
দাবী করেন।