চলনবিলে অবাধে চলছে পাখি শিকার
০৮ মে, ২০২৬ ০৪:০২ অপরাহ্ন

  

চলনবিলে অবাধে চলছে পাখি শিকার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ
০৭-১১-২০২০ ০১:১২ অপরাহ্ন
চলনবিলে অবাধে চলছে পাখি শিকার

আশরাফুল ইসলাম রনি:
চলনবিলের  বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে পাখি নিধন করা হচ্ছে। শৌখিন ও পেশাদার পাখি শিকারিরা বন্দুক, বিষটোপ, জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে এসব পাখি শিকার করছে। এতে  করে একদিকে জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে ফসলি জমিতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণও বাড়ছে।

সূত্রমতে, রাজশাহী বিভাগের পাবনা,নাটোর ,সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার নয় টি উপজেলার সমন্বয়ে চলনবিল অঞ্চল বিস্তৃত। চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ১৪ টি নদী ও ২২ টি ছোট বড় বিল রয়েছে। নি¤œ জলাভূমিতে এ মৌসুমে পানি শুকিয়ে আসায় ঝাঁকে ঝাঁকে বিভিন্ন প্রজাতির দেশী ও অতিথি পাখি এসে ভিড় জমায়।

তাড়াশ পৌর সদরের বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী ইউসুফ খন্দকার জানান, অল্প পানিতে খাবার সংগ্রহের জন্য এ বছরও চলনবিলে দেশি ও অতিথি পাখি এসেছে। সেই সাথে প্রচুর মাছও দেখা যাচ্ছে।  ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে চখাচখি, পানকৌড়ি ,বক, হরিয়াল, হারগিলা, রাতচোরা, বালিহাঁস, ইটালী, শর্লি, পিঁয়াজ খেকো, ত্রিশূল, বাটুইলা, নারুলিয়া, লালস্বর, কাঁদোখোচা, ফেফি, ডাহুক, গোয়াল,শামুখখোল, হটটিটি, ঘুঘু সহ বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি বসতে শুরু করেছে। আর এ সুযোগে এক শ্রেণির শৌখিন ও পেশাদার পাখি শিকারি বন্দুক, বিষটোপ, কারেন্ট জাল ও ফাঁদ পেতে প্রতিনিয়ত পাখি শিকার করছে। প্রকাশ্যে এসব পাখি বিক্রি হচ্ছে  বিভিন্ন এলাকায়।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন পেশাদার পাখি শিকারি বলেন, বাজারে পাখির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাই কোনো মতে ধরতে পারলেই বিক্রি করতে সমস্যা হয় না।  
প্রতি জোড়া পাখি প্রজাতি ভেদে একশ পঞ্চাশ টাকা থেকে পাঁচ শ টাকা পর্যন্ত  বিক্রি করা হয়। ফলে বেশি লাভের আসায় অনেকেই মাছ ধরা বাদ দিয়ে পাখি শিকার করছেন। 

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, গুরুদাসপুর, সিংড়া ও আত্রাই উপজেলা সদর থেকে দুরে প্রত্যন্ত এলাকায় সবচেয়ে বেশি পাখি কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে এই এলাকাতে শিকারিদের আনাগোনাও বেশি। আর এসব দূর্গম এলাকাতে প্রশাসনের কোনো লোকজনও তেমন আসেন না।


এ প্রসঙ্গে দি বার্ড সেপটি হাউস চেয়ারম্যান মি. মামুন বিশ্বাস বলেন, পাখি শিকার জীববৈচিত্র জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং দন্ডনীয় অপরাধ। শুধু পাখি নয় বন্য প্রাণী রক্ষায় যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে । তা না হলে আগামী প্রজন্ম কাগজে কলমে বন্য প্রাণীর নাম জানতে হবে।


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ০৭-১১-২০২০ ০১:১২ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 331 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com