শিরোনামঃ
আব্দুল জলিল ৩০-১০-২০২০ ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন |
স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানাক্ষেত্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রি মোহাম্মদ নাসিম তার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করেছেন। বেড়েছে হাসপাতালের পরিসর। কিন্তু বাড়েনি কাঙ্ক্ষিত সেবা। বরং নানাক্ষেত্রে অনিয়ম চলে আসছে।
পেটের সমস্যা নিয়ে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন উপজেলা সদরের আসাদুল ইসলাম। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে উপজেলা কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের ল্যাবরেটরী থেকে রক্তের দুটি নমুনা পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি হাসপাতালের নির্ধারিত কাউন্টারে ১ শ ৪০ টাকা ফি জমা দিয়ে তার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করান । তিনি ১শ ৪০টাকা জমা দিলেও হাসপাতালের রেজিস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ৬০ টাকা। আসাদুলের মতো অসংখ্য রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাবদ সংগৃহীত অর্থের বড় একটি অংশ ভাবেই আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের কাছ থেকে সরকারি ধার্যকৃত অর্থের উল্লেখ করে রশিদ কাটা হলেও সরকারী রেজিস্ট্রারে টাকার অংক উঠানো হচ্ছে অনেক কম। কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীদের টাকার রশিদ দিয়ে টাকা সংগ্রহ করা হলেও সে টাকার অংক রেজিস্টারে উঠানো হচ্ছে না। এভাবে প্রতি মাসে আত্মসাৎ করা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের ধারণা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা এর সাথে জড়িত থাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
দীর্ঘদিন যাবৎ কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র এবং উপকরণ চালু না থাকলেও প্যাথলজি বিভাগ চালু রয়েছে। সেখানে বেশ কিছু নমুনার পরীক্ষা করা হয়। আর এতেই চলছে শুভঙ্করর ফাঁকি । হাসপাতালের আগত রোগিদের নিকট থেকে পরীক্ষার নামে যে পরিমান অর্থ রশিদ দিয়ে গ্রহণ করা হচ্ছে ঠিক সেই পরিমান অর্থ সরকারি খাতায় উঠানো হচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই হাসপাতালের একটি সূত্র থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে ।
সূত্রে জানা গেছে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবের দায়িত্বে আছেন এমটি ল্যাব ইকবাল হাসান। হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগির নানা ধরনের নমুনা পরীক্ষা করতে চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেই পরীক্ষা করাতে রোগির স্বজনেরা হাসপাতালের কাউন্টারে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে রশিদ নেন। রশিদ লেখার কাজটি করেন ওই হাসপাতালর এমএলএসএস চান মিয়া। রোগিরা রশিদ কাটার পর রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু কোন রোগী একাধিক পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দিলেও সরকারি খাতায় দেখানো হচ্ছে অনেক কম। আবার কোন রোগির তিন -চারটি পরীক্ষার জন্য টাকা জমা দিলেও খাতায় দেখানো হচ্ছে একটি পরীক্ষার হিসাব।
গত ২৬ আগস্ট আসাদুলের পাশাপাশি আশা নামের এক রোগির তিনটি পরীক্ষা করানো হয়েছে। এ জন্য ওই রোগি একশ কুড়ি টাকা জমা দিয়েছেন। অথচ সরকারি খাতায় ওই রোগির পরীক্ষার কোন নামই উঠানা হয়নি।
এর আগে গত ৩০ জুলাই শাকিল নামের এক রোগির তিনটি পরীক্ষার জন্য দুইশ পঞ্চাশ টাকা নিয়ে সরকারি খাতায় জমা দেখানা হয়েছে মাত্র কুড়ি টাকা। এমনি করে গত ১০ আগস্ট নাসিম, ১২ আগস্ট রাজ ভানুর নিকট থেকেও পরীক্ষার নাম যে টাকা নেয়া হয়েছে সরকারি খাতায় তার অনেক কম জমা দেখানো হয়েছে। এমনি করে প্রতিদিন ওই এমটি ল্যাব ইকবাল হাসান সরকারী অর্থ নিজের পকেট ভরছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানা গেছে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগিকে ডাক্তারগণ এক থেকে চারটি পরীক্ষা করতে দেন। সে হিসেব মোতাবেক প্রায় ৬০০ জন রোগির নমুনা পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। কিন্তু রোগীদেও নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগৃহীত অর্থের পুরো অংশ সরকারি খাতে জমা দেয়া হয় না।
এ বিষয়ে হাসপাতালের এমটি ল্যাব ইকবাল হাসান সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি অস্বীকার করেন। কাজিপুর উপজলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মোমেনা পারভীন পারুল জানান, হাসপাতালে নানা অভিযোগের তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান অবস্থায় হাসপাতালের সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। তারপরেও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে তবে তার তদন্ত করা হবে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com