শিরোনামঃ
দিলীপ গৌর ২৭-১০-২০২০ ০৬:২৭ অপরাহ্ন |
শাহজাদপুর প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নস্থ জোতপাড়া গ্রামের স্বর্গীয় গৌড় চন্দ্র হলদারের ছেলে শ্যামল হলদার স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে বাস করে ওই গ্রামে। পূর্ব পুরুষদের বাড়ী ছিলো যমুনা নদীর পূর্বপাড়ে। একাধিকবার যমুনা নদীর কড়াল গ্রাসের শিকার হয়ে জমি-জমা, বাড়ি-ঘর ও সহায়-সম্বোল সব হারিয়ে এখন উঠুলি বসবাস করছে জামিরতা জোতপাড়া গ্রামের ঝন্টু পালের বাড়িতে।
পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঝন্টু পালের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছে অসহায় শ্যামল হলদার। জাল যার, জলা তার এ আইনে মাছ ধরার সুযোগ থাকলেও শ্যামল হলদারের নেই নিজস্ব জাল-দড়ি-নৌকা। বাধ্য হয়ে অন্যের জাল-নৌকার সাথে ভাগী হয়ে মাছ শিকারে যেতে হয় তাকে। বছরের ৫/৬ মাস এক নাগারে বরিশালে ইলিশ ধরতে যায় সে।
এ সময় চালান হিসেবে ৩/৪ লক্ষ টাকা সুদী সমিতি অথবা সুদী মহাজনের কাছ থেকে নিতে হয়। ৫/৬ মাসে সমিতি অথবা মহাজনকে দিতে হয় ৩০/৪০ হাজার টাকা। বরিশালে ইলিশ ধরা ব্যবসা ভাল হলে তবেই রক্ষা। মহাজনের টাকা পরিশোধ করার পর তাহলে নিজের জীবন-জীবিকার জন্য কিছু টাকা হাতে থাকে। আর যদি ওই ব্যবসা মন্দা হয়, তাহলে তো মরার উপর খাড়ার ঘা।
একদিকে মহাজনের ঋণের টাকার সুদ টানা, অপরদিকে নিজের জীবন-জীবিকার কষ্ট। গত দুই বছর যাবৎ এমনি বিপাকে পড়েছে শ্যামল হলদার। গত বছরেরও লোকশান করেছে আবার এ বছরও ব্যবসা মন্দা হওয়ায় ঋণ ঘাড়ে নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে। বিগত দুই বছরে পর পর বরিশালে ইলিশ ধরা ব্যবসায় লোকশান করে বর্তমানে তার সুদী সমিতি ও সুদী মহাজনের কাছে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে কয়েক লাখ টাকা।
বর্তমানে সে টাকার সাপ্তাহিক সুদ দিতে হচ্ছে। নিজস্ব নাই কোন ঘর-বাড়ি, আবার নাই জাল-নৌকা-দড়ি। উঠুলি হিসেবে বসবাস করছে অন্যের ঘর এবং অন্যের বাড়িতে। যমুনা নদীর ভাঙ্গণের শিকার হয়ে জোতপাড়া গ্রামে ঝন্টু পালের বাড়িতে বসবাস করাবস্থায় অনেক কষ্টে পাশেই ০.০৪ (চার) শতক জায়গা কিনেছে শ্যামল হলদার।
কয়েক বছর আগে সে এই জায়গাটি কিনলেও সেখানে একটি ঘর উঠানোর সামর্থ নেই তার। পর পর দুই বছর বরিশালে ইলিশ ধরা ব্যবসায় লোকশান খেয়ে দু‘চোখে দেখছে অন্ধকার, ঘর তৈরির টাকা পাবে কোথায়? শ্যামল হলদার ও তার স্ত্রী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কয়েক বছর আগে ব্যবসা ভাল ছিল তখন জায়গা টুকু কিনেছিলাম।
এখন কী করবো, দুই বছরে মহাজনের ঋণ হয়েছি সেই টাকারই সুদ দিতে হয়। কেনা ভিটায় ঘর তুলব কিভাবে?’ তারা আরো বলে, ‘আপনাদের মাধ্যমে আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, সরকারের পক্ষ থেকে আমাদেরকে যেন একটা ঘর দেন। যেখানে ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করতে পারি।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com