শিরোনামঃ
দিলীপ গৌর ২১-১০-২০২০ ০৭:১৬ অপরাহ্ন |
শাহজাদপুর প্রতিনিধি : নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন আজ ২১ অক্টোবর বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে নৌযান শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। ফলে নৌযান শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর উত্তাল হয়ে উঠেছে।
সোমবার মধ্য রাত থেকে খাদ্যভাতা প্রদান ও মেরিন শিপিং ডিজির নানা হয়রানি বন্ধ সহ ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে তারা সকল জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে। বাঘাবাড়ি ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এরপর নৌবন্দরের সকল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড় প্রদক্ষিণ করে বাঘাবাড়ি নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে জামসেদ আলম মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মিয়া,সায়মন আহমেদ,সাইফুল ইসলাম,খুরশিদ আলম,সিরাজুল ইসলাম,আবু বক্কার,বাহার উদ্দিন,আবুল খায়ের,আব্বাস মোল্লা,জাহাঙ্গীর হোসেন,মনোরঞ্জন ঘোষ,সেলিম হোসেন,উজ্জল হোসেন,নয়ন হাওলাদার,সোহাগ মিয়া,কাজী সোহেল প্রমুখ।
বক্তারা বলেনে,বেতন বৃদ্ধি,খাদ্যভাতা প্রদান,বাল্কহেড সহ সকল নৌযানে সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ,২০১৬ সালের ঘোষিত বেতন স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়ন,ভারতগামী নৌযান শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাশ প্রদান ও হয়রানি বন্ধ,কর্মস্থলে দূর্ঘটনায় নিহত নৌযান শ্রমিকদের ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান,নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র,পরিচয়পত্র,সার্ভিসবুক প্রদান, মেরিন শিপিং ডিজির নানা হয়রানি বন্ধ,ভুয়া শ্রমিক দিয়ে গঠিত বাঘাবাড়ি নৌযান শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের ভুয়া কমিটি বাতিল,সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ,নদীর সঠিক নাব্য রক্ষা,মার্কা,বয়া,বাতি প্রয়োজন অনুযায়ী স্থাপন সহ তাদের ১১ দফা চুক্তি নৌযান মালিকদের পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশব্যাপী সকল নৌযান বন্ধ রেখে আমাদের লাগাতার কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে।
এদিকে তাদের এ কর্মবিরতির কারণে সোমবার মধ্যরাত থেকে বাঘাবাড়ি বন্দরে প্রায় শতাধিক পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ বন্দর ঘাটে নোংগর করে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে এ বন্দরে কোন জাহাজ কোথাও ছেড়ে যায়নি ও কোন জাহাজ আসেনি। এ ছাড়া কোন জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বা লোড-আনলোড হয়নি। ফলে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
হাতে কাজ না থাকায় বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের প্রায় ৪০০ পণ্য খালাসের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে ২ দিন ধওে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ ছাড়া চট্টোগ্রাম থেকে বাঘাবাড়ি নৌবন্দওে কোন জাহাজ আসেনি। ফলে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় রাসায়নিক সার ও জ্বালানি তেল সরবরাহ কমে গেছে। অনেক স্থানে সরবরাহ কমের অজুহাতে বিক্রেতারা লিটার ও কেজি প্রতি ২/১ টাকা করে বেশি দরে সার ও জ্বালানি তেল বিক্রি করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের লেবার মজনু সরদার,শাহআলম,আব্দুল মালেক,আজিম উদ্দিন,আবু হোসেন,জামাল উদ্দিন,এরশাদ আলী,আফজাল হোসেন বলেন, গত দু‘দিন ধওে নৌযান শ্রমিকদেও কর্মবিরতির কারণে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে কোন জাহাজ চলাচল করছে না। কোন জাহাজ থেকে পণ্য লোড-আনলোড করা হচ্ছে না। ফলে এ বন্দরে কর্মরত প্রায় ৪০০ লেবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
তারা আরো বলেন, আমরা দিন হাজিরা ৫০০টাকা কওে পাই। এদিয়ে আমাদেও সংসার চলে। দু‘দিন ধওে কাজ না থাকায় উপার্যন বন্ধ। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। এ বিষয়ে এজেন্ট আবুল সরকার বলেন,বাঘবাড়ি নৌবন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হলে পণ্য খালাসের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা বেকার হয়ে চরম অর্থ সংকটে পড়বে। অপর দিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে সার ও জ্বালানী সরবরাহ বন্ধ হয়ে চলতি রোপা আমন চাষ ব্যহত হবে। এতে দেশে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পেয়ে খাদ্য ঘাটতি হতে পারে।
এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি বাফার গুদাম ইনচার্জ সোলায়মান হোসেন বলেন, বাঘাবাড়ি বাফার গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। তাই জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলেও আপাতত সার সরবরাহর কোন সমস্যা হয়নি। তবে ৮/১০দিন বন্ধ থাকলে সমস্যা হতে পারে। এ বিষয়ে যমুনা ওয়েল ডিপোর ম্যানেজার একেএম জাহিদ সরোয়ার জানান,আপাতত জ্বালানী তেলের কোন সমস্যা নেই। তবে এ কর্মবিরতি দীর্ঘ স্থায়ী হলে সমস্যা হওয়ার আশংকা রয়েছে।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com