কাজিপুরের পেশাজীবীদের আলোচনাঃ আশা এষণার দিকচিহ্ন
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৫:২৭ অপরাহ্ন

  

কাজিপুরের পেশাজীবীদের আলোচনাঃ আশা এষণার দিকচিহ্ন

আব্দুল জলিল
১০-১০-২০২০ ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
কাজিপুরের পেশাজীবীদের আলোচনাঃ আশা এষণার দিকচিহ্ন

আবদুল জলিলঃ আজ ঢাকার ধানমন্ডিতে হতে যাচ্ছে কাজিপুরের ভবিষ্যৎ ভাগ্যের রূপরেখার নব রূপায়ণ। আশা জাগাচ্ছে সেখানকার প্রধান অতিথি প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়। যিনি এখন সামান্য সময়ের গন্ডি পেরিয়ে পিতার দেখানো পথে কাজিপুরবাসীর দোয়া নিয়ে জাতীয় সংসদের যাত্রী। ১২ নভেম্বরের সে পথে কাজিপুরবাসীর অফুরাণ শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি আশাকে জাগিয়ে রাখতে যাদের এতো এতো পরিশ্রম, খেটে খুটে এতো সুন্দর আয়োজন, তাদের প্রতি (৯৫ ফাউন্ডেশন) নিরন্তর শুভেচ্ছার ঝাঁপি খুলে দিলাম।

একজন কাজিপুরবাসী হিসেবে আজকের এই অনুষ্ঠানে আমার থাকাটা অতটা জরুরী না হলেও এই লেখাটি পুরো কাজিপুরের মানুষের মনের কথা হতেই পারে। তবে এটাও সত্যি “ মনের কথার ভাষা জনে জনে আলাদা।” আর এই আলাদা হবার কারণেই বুঝি জাতীয় কবির লেখায় পেলাম“ যত ফুল তত ভুল কণ্টক জাগে / মাটির পৃথিবী তাই এতো ভালো লাগে।” আসলে মতামত শব্দটির মধ্যেই মত এবং অমতের বিষয়টি লুকিয়ে আছে।

 

স্বপ্ন সবাই দেখে। কিন্তু সব স্বপ্নই স্বপ্ন নয়. বাস্তবায়নযোগ্য নয়। পঙ্ক্ষীরাজ ঘোড়ায় চড়ে আকাশের উড়াও স্বপ্ন। কিন্তু তার বাস্তবায়নে মানুষের কোন উপকার নেই। কিন্তু উপকার আছে যমুনাকে শাসনের মাধ্যমে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলে সত্যিকারের মানবকণ্ঠের সুরকে নিজের মাঝে ধারণ করে বাস্তবায়নের পথ করে দেয়া। আজকের প্লাটফরমে সেই সুযোগ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আজকের এই সভাটিতে কাজিপুরের কৃতি সন্তানদের, বুদ্ধিজীবীদের  আগমণ ঘটবে। তাদের চিন্তায় কাজিপুরের উন্নয়ণের বীণার কোন তারে কোন রাগের সুর বাজবে –এটার দিকে চেয়ে আছি। আর নিজের কিছু উন্নয়ন ভাবনাকে আপনাদের সবার করে দেবার লোভটাকে সামলাতে না পেরে এই লেখাটি পাঠালাম।

 আমি শুধু ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে দিলাম। যারা বিদগ্ধ আলোচক থাকবেন আশা করি তাদের আলোচনায় এটি স্থান পাবে। তারা বিস্তারিত বলবেন।

  ১. সরিষাবাড়ি থেকে মনসুরনগর ইউনিয়ন হয়ে চরগিরিশ ভায়া নাটুয়ারপাড়া আসতে এখন একটিমাত্র বী্রজের দরকার। নদীও শাসনের মাধ্যমে আগের রূপে নেই। তদুপরি ওই চ্যানেল দিয়ে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন পার হচ্ছে। এখনই সময় এই একটি ব্রীজ হলে ঢাকার সাথে নাটুয়ারপাড়ার যোগাযোগ ঘটবে। আরও আশার কথা যেহেতু ৩২ তম নদী বন্দরের কাজ মেঘাইতে হচ্ছে সেহেতু এখানে নদীর প্রশ্বস্ততা কমে আসবে খননের মাধ্যমে। ফলে এখানেও একটি সেতু হতেই পারে।

  ২. মির্জা আজমের কাজিপুরের চেয়ে ক্ষুদ্র অনুন্নোত একটি উপজেলায় যদি বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে তাহলে কাজিপুরের মাটির মহান নেতা শহিদ এম মনসুর আলীর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয় কেন? কাজিপুরের বিবেক নির্ধারণকারিদের নিকট প্রশ্ন রইলো।

  ৩. কাজিপুরের পুরো চরাঞ্চলের মরিচ ঢাকায় যাচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানি কিনে নিয়ে যাচ্ছে উৎকৃষ্ট মরিচের মর্যাদা পাচ্ছে, টিভিবে এ্যাড যাচ্ছে। কিন্তু সেখানে বলা হচ্ছে “হামাগোর বগুড়ার মরিচ না?” অর্থাৎ এখানেও আমরা চেতনা হারিয়েছি। কাজিপুরের নাম নেই , আছে বগুড়ার নাম। তাই বলছি মরিচ সহ দুধ প্রক্রিয়াজাত করণ কোনো প্লান্ট কাজিপুরের করা যায় কিনা। বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

   ৪. একটি অন্যরকম ছোট্ট উপস্থাপনা দিয়ে শুরু করছি। ধুনটের এক ফেরিওয়ালা ভাঙ্গাড়ি কেনার জন্যে বাড়ি বাড়ি যায়। ভাঙ্গা জিনিসপত্রের বদলে ছেলেপেলেদের চানাচুর চকলেট, অথবা আচার, চাটনি দেয়। এভাবে চলতে চলতে তিনি চিন্তা করলেন, নিজের কিছু করার। শুরু করলেন অল্প দামের একটি মেশিন কিনে এনে কিছু মসলা আর ফ্লেবার দিয়ে চানাচুর তৈরি। তার বউ ঘরে তৈরি শুরু করলেন চাটনি, আচার। ব্যস! আর যায় কোথায়। একদিন এ পথেই সাফল্য চলে আসে। ভাঙ্গাড়ি বিক্রেতা এখন ধুনটের পাঁচতলা বাড়ির মালিক। এমনটি হতে তার সময় লেগেছে মাত্র ১৪ বছর। নামটি নাইবা বললাম। সেই চানাচুর এখন কাজিপুর , ধুনট, শেরপুর, সারিয়াকান্দি, গাবতলি এই কয়টি উপজেলার দোকানগুলোতে ধুমচে বিক্রি হচ্ছে। বেশি না। তিনি এখন একশ লোককে কর্মসংস্থান করে দিয়েছেন। আর পরোক্ষভাবে কয়েকশ লোক কর্ম করে খাচ্ছে। তাহলে আমরা একটি চানাচুরের কারখানাও কি করতে পারবো না?

   ৫. গত পাঁচ বছর আগে কাজিপুরে ইউএজডজিপি’র অর্থায়নে বেশকিছু ভালো কাজ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের অভাবে তার প্রভাব এখন আর নেই। ঠোঙ্গা তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে তা তৈরি করে কাজিপুরের বেশকিছু দোকানে তারা সরবরাহ করতে শুরু করেছিলো। পরবর্তিতে পৃষ্ঠপোষকতা আর পুঁজির অভাবে তা থমকে গেছে। নকশি কাঁথা সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিলো প্রায় পঞ্চাশজন মহিলাকে। কিন্তু সঠিক তত্বাবধান আর পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজার তৈরি না থাকায় তাও বন্ধ হয়ে হয়ে গেছে। এই খাতটিকে সচল করার আহবান জানাচ্ছি।

     ৬. দেশের অন্য কোন উপজেলায় হয়েছিলো কিনা জানিনা। বকুল সরকার উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে দ্বিতীয় দফায় উনি মহিলা ড্রাইভিং শেখার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখান থেকে ১৮ জন শিক্ষিত বেকার নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তারা এখন দেশের নানাস্থানে কাজ করছেন । ভেবে দেখুন এই স্পর্ধিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আবার করা যায় কিনা।

   ৭. কাজিপুরের ঢেকুরিয়া হাটের ঠিক পূর্ব পাশে হচ্ছে মহিদ এম মনসুর আলী ইকো পার্ক। কাজ চলমান রয়েছে। তবে কোনো গতি নেই কাজে। যাহোক এই পার্কটিকে ঘিরে সামনের নদীতীরকে আরো সুন্দর করে বেঁধে সেখানে নতুন কোন ওয়াটার বাস, ভালো মানের রেস্টুরেন্ট করা যায় কিনা। আর হলে সেটার প্রচার সঠিক হলে অবশ্যই দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসবে। অনেক জায়গাজুড়ে কিন্তু এই পার্কটি।

 

 ৮. বানিয়াজান খালটি এখন কাজিপুরের কৃষকদের গলার ফাঁস হয়েছে। পলি পড়ে আর মানুষের বাধার কারণে ওই খালটি এখন আর পানি বইতে পারে না। ফলে বছরের প্রায় ৯ মাস প্রায় কয়েক হাজার একর জমিতে আবাদ করা সম্ভব হয়না। ভেবে দেখা যেতে পারে এই খালটি দখলমুক্ত করে খননের মাধ্যমে এবং এর দুপাড় বেধে দিয়ে  পর্যটনের সম্ভাবনা জাগানো যায় কিনা। এতে করে কৃষকেরাও তাদের জমিতে তিন ফসল করতে পারবে। আর কাজিপুরের সৌন্দর্যও বাড়ানো সম্ভব হবে।এই খালটির শুরু হয়েছে কাজিপুরের অংশের মাইজবাড়ি হতে চালিতাডাঙ্গা হয়ে গান্ধাইল ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার।

   ৯. শহিদ এম মনসুর আলীর স্বপ্ন ছিলো কাজিপুরকে ট্রেন লাইণের আওতায় নিয়ে আসা। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে এখনও কেউ কোন আলোচনাই তোলেনা। আশা করি কাজটি দুরূহ কিন্তু অসম্ভব নয়।

    ১০. কাজিপুরের প্রস্তাবিত মনসুর নগর থানাকে বাস্তবে রূপ দেবার জন্যে ব্যবস্থাগ্রহণ জরুরী।

     ১১. সিরাজগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত ফোর লেন রাস্তার কাজটি প্রায় শুরুর পথ থেকে বাদ পড়ে গেছে। এখন লেগে থাকলে হয়তো সেটা সম্ভব করা যেতে পারে।

     ১২. কাজিপুরের মোবাইল নেটওয়ার্কের বাজে অবস্থা। আশা করি আলোচনায় এনে তা সমাধানের পথ করা যেতে পারে।

      ১৩. কম্বল শিল্পকে আরও যুগোপযোগী করে সেখানে কয়েক হাজার বেকারের কর্মসংস্থান করা যেতে পারে।

   ১৪. এছাড়া কাজিপুরের যারা শিল্পপতি রয়েছেন তাদের নিকট আবেদন কাজিপুরের বেকারদের জন্যে কোন একটি শিল্পকে কাজিপুরে দাঁড় করিয়ে সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার মানসিকতাকে প্রাধান্য দিন। একজন শুরু করুন। দেখবেন, আপনার দেখানে পথে অন্যরাও এমনি করে এগিয়ে আসলে সমৃদ্ধ কাজিপুর গড়ার স্বপ্ন অনেকাংশে বাস্তবায়ণ করা সম্ভব হবে। মহতি আলোচনার আয়োজন করায় ৯৫ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রকৌশলী আবু রায়হান এবং সাধারন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান জাকির কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি। শুভ কামনা নিরন্তর ।


আব্দুল জলিল ১০-১০-২০২০ ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 632 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com