তাড়াশে বিন্নার ফুল সংগ্রহ করে চলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির মানুষের সংসার
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন

  

তাড়াশে বিন্নার ফুল সংগ্রহ করে চলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির মানুষের সংসার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ
০৪-১০-২০২০ ১২:২০ অপরাহ্ন
তাড়াশে বিন্নার ফুল সংগ্রহ করে চলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির মানুষের সংসার

আশরাফুল ইসলাম রনি:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদের বর্ষা মৌসুমে হাতে তেমন কাজ না থাকায় সংসার চালাতে দলবেঁধে তারা রাস্তার পাশে থাকা বিন্নার ফুল সংগ্রহ করছেন। এ ফুল দিয়ে তারা ঝাড়–সহ নানা সামগ্রী তৈরি করে তা বাজারে বিক্রী করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
আবার অনেকেই জীবন বাচানোর তাগিতে মহাজনি ঋন  ও আগাম শ্রম বিক্রী করছেন। কেউ কেউ ঝাড়ু– ও খেজুর পাতার পাটি তৈরি করে সংসার চালোনোর চেষ্টা করছেন।  

দেখা যায়, তাড়াশ উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির নারীরা দল বেধে বর্ষায় ডুবে যাওয়া সড়কের পাশে থাকা বিন্নার ফুল সংগ্রহ করছে। এগুলো দিয়ে তারা ঝাড়ু– তৈরি করে বাজারে বিক্রি করবেন। 

জানা যায়,  সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ প্রায়  ৩০ হাজার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির মানুষ বসবাস করে। এদের মধ্যে উড়াও, মাহাতো, রাজবংশী, বিদাস, কনকদাস ও স্বল্পসংখক সাওতাল নারী-পুরুষ রয়েছেন। এক সময় এসব সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষেরা বনে-জঙ্গলে ঘুরে শিয়াল, খরগোশ,  কচ্ছপসহ নানা প্রভৃতির পশু-পাখি শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বন-জঙ্গল উজার হয়ে যাওয়ায় তাদের জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী ও পুরুষেরা ধান লাগানো, কাটা,মাড়াই, ইটভাটায় সহ বিভিন্ন কাজে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহের পথ বেছে নেয়। কঠোর পরিশ্রমী, সহজ-সরল আর অপেক্ষাকৃত পারিশ্রমীকের দাম কম হওয়ায় তাদের এ অঞ্চলে চাহিদাও অনেক বেশি। সাধারনত বর্ষাকালে তাদের নিজ এলাকায় কাজ থাকে না। এ অঞ্চলের ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য কৃষি শ্রমজীবি। কৃষিকাজে শ্রম বিক্রি করেই তাদের সংসার চালাতে হয়। কাজ না থাকায় অর্থ সংকটে পড়ে বর্তমানে তারা আগাম শ্রম বিক্রি শুরু করেছেন।

তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের কাটাগাড়ী গ্রামের জ্যোতীস মাহাতো জানান, ভাদ্র-আশ্বিন ও কার্তিক মাসে তাদের কোন কাজ থাকে  না। এখন হাতে কাজ না থাকায় এ সকল নারী ও পুরুষেরা অগ্রহায়ন-পৌষ মাসে বোরো ধান লাগানো, কাটার কাজে অনেকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন। ওইসব কাজ করার জন্য দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় আগাম শ্রম বিক্রি করেছেন। ভরা মৌসুমে মজুরী থাকে ৪৫০ থেকে ৪০০ টাকা। 

তাড়াশ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের সমাজসেবা অধিপ্তরের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে তাদের এককালীন অর্থ দেয়া হয় ও শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়া হয়। 


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ ০৪-১০-২০২০ ১২:২০ অপরাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 443 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com