ধান থেকে চাল করতে কাজিপুরের খাদ্য ও গুদাম কর্মকর্তা তেলেসমাতি!
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

  

ধান থেকে চাল করতে কাজিপুরের খাদ্য ও গুদাম কর্মকর্তা তেলেসমাতি!

আব্দুল জলিল
১২-০৯-২০২০ ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
ধান থেকে চাল করতে কাজিপুরের খাদ্য ও গুদাম কর্মকর্তা তেলেসমাতি!

আবদুল জলিলঃ এ যেন রীতিমতো শুভংকরের ফাঁকি। চলতি মৌসুমে  সরকারের বেধে দেয়া দামের চেয়ে বাজারে দাম বেশি থাকায় ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হতে বসেছে। কিন্তু কাগজে কলমে ধান সংগ্রহ ঠিকই দেখানো হচ্ছে। আর সেই কাগজে কলমে দেখানো ধান থেকে চাল করতে উপজেলার ৩০ জন মিলারের নামে  বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। প্রতিটন ধান থেকে চালে রূপান্তরের জন্য  খরচ দেখানো হয়েছে এক হাজার পঞ্চাশ টাকা করে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে মিলারদেন নাম করে উপজেলা গুদাম কর্মকর্তা এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাজার থেকে চাল কিনে গুদামে ভরছেন। মাঝখান থেকে টনপ্রতি খরচের এক হাজার পঞ্চাশ টাকা করে তারা নিজেদের পকেটে যাচ্ছে। চলতি বছরে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ধান চাল সংগ্রহ অভিযানের চিত্র এটি।

 কাজিপুর খাদ্য কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২হাজার চারশ পয়ত্রিশ জন কৃষকের নিকট থেকে ১ মেট্রিক টন করে ধান ও ৩০ জন মিলারের নিকট থেকে ১ হাজার আটশ তিন মেঃ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মিলার জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত কৃষকদের নিকট থেকে মাত্র ৩৬১ মে.টন ধান সংগ্রহ করা গেছে। অথচ গুদাম কর্মকর্তার কার্যালয়সূত্রে জানা গেছে,  গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৫৬৮ মে.টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। অর্থাৎ এক হাজার দুইশ সাত মে.টন ধান সংগ্রহ  কাগজে কলমে দেখিয়ে বাজার থেকে চাল সংগ্রহ করেছেন। টনপ্রতি ধান থেকে চাল করার খরচ হিসেবে বরাদ্দকৃত টাকা ওই দুই কর্মকর্তার পকেটে গিয়েছে। লক্ষামাত্রা পূরণে বাকি ধান এভাবে সংগ্রহ ও চাল করার খরচ দেখালে তাদের পকেটে বিপুল অংকের সরকারি টাকা চলে যাবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুস সোবহানকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১০সেপ্টম্বর) গুদাম কর্মকর্তার মেঘাই অফিসে গিয়ে তাকেও পাওয়া যায়নি। এ সময় সহকারি উপ খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে কোন প্রকার তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পকেট থেকে টাকা বের করে এ প্রতিনিধিকে দেবার চেষ্টা করেন।  মুঠোফোনে গুদাম কর্মকর্তা ইয়াছির আরাফাত জানান, “ব্যক্তিগত কাজে অফিসের বাইরে আছি। ধান সংগ্রহ নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। কোন অনিয়ম হয়নি।’  পরে তিনি এ প্রতিনিধিতে তার অফিসে দেখা করতে বলেন।

 কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, “ এ বিষয়ে আমি এখনও কিছু জানিনা। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।” 


আব্দুল জলিল ১২-০৯-২০২০ ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন প্রকাশিত হয়েছে
এবং 372 বার দেখা হয়েছে।

পাঠকের ফেসবুক মন্তব্যঃ
Loading...
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ প্রকাশিত

  

  ঠিকানা :   অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
  মোবাইল :   ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
  ইমেল :   info@sirajganjkantho.com