মাদকে ভাসছে বেলকুচি, প্রশাসন নিরব
জহুরুল ইসলাম:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন জায়গাতে এখন মাদকের হটস্পট গড়ে তুলেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা করেছেন মাদকের সাথে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সেখানে বেলকুচি থানার আশপাশে ও পুলিশ প্রশাসনের চোখের সামনে বিক্রি হচ্ছে মাদক। পুলিশ সব কিছু দেখেও না দেখার অভিনয় করে মাদক ব্যবসায়িদের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই মাদক ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বর্তমানে বেলকুচির আজগড়া জামাতমোড়, জামাতৈলমোড়, চরচালা আলীর বাড়ী, চালা ভরদের বাড়ী, কাঠেরপুল এলাকা, আদালতপাড়া, তামাই নিশিবাড়ী, মুকন্দগাতী সুইপার কলনী, তামাই ফকির পাড়া, নাকগাতী, রাজাপুর শশ্নান ঘাট, দৌলতপুর কান্দাপাড়ামো, দৌলতপুর কুত্তামাকেট সহ আনাচেকাসাচে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মাদক। এসকল এলাকা সম্পর্কে পুলিশ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে অভিযোগ থাকলেও তারা কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছেনা। বিধায় মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছে মতো চালিয়ে যাচ্ছে এই ব্যবসা। গত ১ মাসে মাদকের বড় ধরনের কোন চালান কিংবা আসামী ধরেছে রেকর্ড নেই বেলকুচি থানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক ব্যবসায়ী জানান বর্তমানে বড় অংকের টাকা দিয়ে থানা মেনেজ করে চলছে মাদক ব্যবসা।
আরেক জন বলেন আমরা কি করবো বলেন ? মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজ করছিলাম কিন্তু এই ওসি এসে আমরা যারা আগে মাদক ব্যবসা করতাম তাদের ধরে ধরে টাকা দাবী করছেন। আমিতো আর ব্যবসা করিনা কিন্তু পুলিশ শুনতে নারাজ টাকা দিতেই হবে তাদের। টাকা না দিলে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখান,ন তাই আমাকে টাকা দেওয়ার জন্য আবার সেই মাদক ব্যবসার সাথে জরিয়ে পরতে হচ্ছে। আমরা জানি মাদক শুধু যুব সমাজ নয় দেশও ধংব্স করে দেয় আমরা এখন কি করবো বলেন। পারছি না মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিতে ? অন্যদিকে পারছিনা ওসিকে টাকা দিতে। ওসির এই ভয় ভিতি থেকে রক্ষা পেতে আপনারা আমাদের জন্য বিছু একটা করেন ভাই।
স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যাক্তিরা জানান, বেলকুচিতে আগে অনেক ভালো ছিল কিন্তু গত ১ মাস হল মাদক ব্যবসা ও চোরাকারবারী বেড়ে গিয়েছে। নষ্ট হচ্ছে যুব সমাজ যা দেখার কেউ নেই ? আগে পত্র পত্রিকায় দেখতাম মাদক ব্যবসী ৩/৪ জন করে আটক কিন্তু মাসখানেক ধরে মাদকের ও চোরাকারবারী বাড়লেও কোন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে কোন নিউজ আমরা পাইনি। লোকজন চায়ের দোকানে আলোচনে করেন থানা ম্যানেজ করেই নাকি মাদক ব্যবসা চলছে তার জন্য এই অবস্থা আমাদের বেলকুচির। এ থেকে আমরা পরিত্রান চাই। আপনারা সাংবাদিক আপনারা সমাজের দর্পন আপনারাই পারেন সুন্দর বেলকুচি গড়তে সহযোগিতা করতে। মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পেতে চায় বেলকুচির মানুষ।
মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে কেন এতো উদাসীদতা তা জানতে বেলকুচি থানার অফিসার ইসচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকীর সাথে বারবার কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি অফিসের বাহিরে আছেন এই অজুহাতে কোন তথ্য দেননি।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম জানান, করোনার এই সময়ে আমার বেলকুচি থানার ওসি সহ অধিকাংশ পুলিশ অক্রান্ত ছিলো। এই সুযোগে হয়তো এমন হয়েছে তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে বর্তমানে ব্যাপক অভিযান চালছে। কোন অবস্থাতেই মাদক ব্যবসা হতে দেয়া হবেনা এই জেলাতে। সকলের সহযোগীতা নিয়ে মাদক মুক্ত সিরাজগঞ্জ গড়তে হবে।
জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু আব্দুল্লাহ জাহিদ বলেন, আমি নতুন এসেছি, তবে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে বেলকুচিতে কোন অভিযান চালানো হয়নি। আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম ততপর আছে। আমরা অচিরেই এসব এলাকায় অভিযান চালাবো।
প্রশাসন মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ধ্বংসের মুখে চলে যাবে বেলকুচির যুবসমাজ।