শিরোনামঃ
নিউজরুম ১৪-০৮-২০২০ ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন |
বৃহস্পতিবার বিভিন্ন অভিযোগের পেক্ষিতে তাড়াশ উপজেলা যুবলীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন খাঁন নিশ্চিত করেছেন। ডি.জে. শাকিলের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস গ্রামে। তার পিতা কাজী গোলাম মোস্তফা তাড়াশ উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি।
অপর দুই সহযোগী হুমায়ন কবির লিমন তাড়াশ উপজেলার কুসুম্বি গ্রামের আব্দুল মালেকে ছেলে এবং সাইফুল ইসলামের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। সে তাড়াশের গাবরগাড়ি গ্রামে বিয়ে করে এদের সাথে জড়িত হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, ডি.জে. শাকিল নেতৃত্ব দিলেও প্রযুক্তি বিষয়ে প্রতারণার মূল হোতা হুমায়ন কবির লিমন। সে প্রযুক্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তার ভাই মো: হাবিব বলেন, হুমায়ন কবির লিমন বিএ পাশ করে বর্তমানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে মাস্টার্স করছেন।
সূত্র বলছে, ডিগ্রিহীন ডি.জে. শাকিল কে ব্যবহার করে সিংহভাগ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন হুমায়ন কবির লিমন। তাদের এ প্রতারণার কাজে দেশ ব্যাপি ছড়িয়ে আছে শতাধিক সাব এজেন্ট। দীর্ঘদিন সে ঢাকায় থাকার প্রায় আট বছর আগে সে তাড়াশ সদরে এসে রফিক খাঁর মেয়ে রেমি খাতুন কে বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তাড়াশ উপজেলা পরিষদের গেটে ও আলেফ মোড়ে রয়েছে তার একটি সুদৃশ্য ভাড়া করা অফিস। এখান থেকে সে পুকুরের ব্যবসা ও একটি ভোগ্যপণ্য উৎপাদনের কারখানা পরিচালনা করেন বলে স্থানীয় লোকজনের কাছে পরিচয় দিতো। অংশ গ্রহণ করতো বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ডে।
সেই সাথে আউট সোর্সিংয়ে চাকুরি দেয়ার নাম করে, বিভিন্ন ব্যাংকের লোন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন চাকুরি বার্তা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ও বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি চাকুরি দেয়ার নামে চমকপদ বিজ্ঞাপন দিয়ে খুলে বসেন প্রতারণার ফাঁদ। সর্বশান্ত হোন শত শত মানুষ। সে হাতিয়ে কোটি কোটি টাকা। রাতরাতি বনে যান কোটিপতিতে। তাড়াশে হয়ে ওঠেন গন্যমান্য ব্যক্তিতে। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মোটা অংকের টাকা ডোনেশান দিয়ে পরিণত হোন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বে। আর এ ধরনের প্রতারনার কাজে বিশ্বাস অর্জন করতে বিভিন্ন এমপি ও মন্ত্রীর নাম ও ছবি ব্যবহার করতেন। এ ছাড়াও সে ৬টি টেলিভিশনের সংবাদকর্মী ও ৫৭ টি অন লাইন পত্রিকার মালিক এবং বেশ কিছু আন্ডারগাউন্ড পত্রিকার মালিক দাবী করেন ।
আর এ ভাবে প্রতারণা করে সে তাড়াশ সদরের খাঁ পাড়ায় সুদৃশ্য বাড়ি, দুটি সুদৃশ্য ভাড়াটিয়া অফিস, তিনটি ট্রাক ও তাড়াশ পৌর এলাকায় কাউরাইলে একটি ফুড প্রডাকসের করখানার মালিক বনে যান। তবে তাড়াশ থানায় তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাহবুল আলম ।
তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী একাধিক সংস্থাও বলছে, তাদের কাছেও লোকজন মাঝে মধ্যে আসেন অভিযোগ নিয়ে। কিন্ত প্রমাণের অভাবে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। ডি.জে.শাকিল পূবালী ব্যাংক, তাড়াশ শাখা থেকে রিশান মৎস্য খামারের নামে খোলা ১৯৩৪৯০১০২১৭০৬ হিসাব সহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক একাউন্ট থেকে সিংহভাগ টাকা লেনদেন করার প্রমাণ মিলেছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, আই বি এল ইন্টারন্যাশনাল লোন সার্ভিস থেকে চাকুরি বার্তায় একটি বিজ্ঞাপন আকৃষ্ট হোন বগুড়ার আমায়রা এগ্রো ফার্মের সত্বাধিকারী মো: আমানত উল্লাহ তারেক ও অভি এগ্রো ফার্মের সত্বাধিকারী মো: আশিক দৌলাতানা। তারা ডি.জে.শাকিলের সাথে যোগাযোগ করলে, মোটা অংকের লোন করে দেয়ার কথা বলে নগদ ১০ লাখ টাকা নেয়। এরপর তাদের কে জানানো হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্ত থেকে তাদের নামে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা করে লোন বরাদ্দ করা হয়েছে। এবং ২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি যুুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত দুটি চেক ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে তারা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন চেক দুটি জাল। তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এরপর তারা তাদের পাওনা টাকার জন্য চাপ দিলে ডি.জে. শাকিল টালবাহানা করতে থাকে। এ সংক্রান্ত তাদের কাছে মোবাইলে ভয়েস রেকর্ডও রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আমায়রা এগ্রো ফার্মের সত্বাধিকারী মো: আমানত উল্লাহ তারেক বলেন, সে একজন প্রতারক। আমাদের সাথে সে প্রতারণা করেছে। তার বিচার চাই।
ঠিকানা : অনামিকা কনকর্ড টাওয়ার, বেগম রোকেয়া স্মরনী, তৃতীয় তলা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
মোবাইল : ০১৭৭৯-১১৭৭৪৪
ইমেল : info@sirajganjkantho.com